আলোচিত

এ মাসে হচ্ছে না ই-পাসপোর্ট

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। আর চলতি মাস থেকে সেটি দেয়ার কথা ছিল। তবে নানা জটিলতায় তা বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জুলাই মাসের শেষ নাগাদ ই-পাসপোর্ট ও ই-গেইটের কার্যক্রম দৃশ্যমান হবে। তবে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগস্টের শেষ নাগাদ ই-পাসপোর্ট জনগণের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব হবে।

ই-পাসপোর্ট সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জুলাইয়ের শেষেও ই-পাসপোর্ট বিতরণ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, আকাশ, জল ও স্থল বন্দরে ই-গেট স্থাপনের কাজ এখানো শেষ হয়নি। নির্ধারণ হয়নি পাসপোর্ট ফিও। এমনকি কিভাবে এর ব্যবহার করা হবে তার প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়নি ইমেগ্রেশন পুলিশকে। চূড়ান্ত হয়নি কোনো নীতিমালাও। তাই এটা কবে নাগাদ চালু হবে সুনির্দিষ্ট করে সেটিও কেউ বলতে পারছেন না। তবে আগস্টের শেষ দিকে ই-পাসপোর্ট দেয়া সম্ভব হবে।

পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মো. সোহায়েল হোসেন খান জানান, ই-পাসপোর্ট চালুর জন্য প্রয়োজনীয় সকল কাজ শেষ করা হচ্ছে। তবে চালুর দিনক্ষণ বলা যাচ্ছে না।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ই-পাসপোর্ট জুলাইয়ের মধ্যে চালু করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। তবে এ মাসে চালু করতে না পারলেও আগস্ট মাসে জনগণের হাতে ই-পাসপোর্ট দেয়া সম্ভব হবে।

পাসপোর্ট অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালে চার হাজার ৫৬৯ কোটি টাকা খরচে ই পাসপোর্ট প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। গত বছরের জুলাই থেকে জার্মানির ভেরিভোজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান এর কাজ করছে। দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও দুটি স্থলবন্দরে স্বয়ংক্রিয় সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি বা ই-গেট স্থাপনের কথা থাকলেও তা এখনো হয়ে ওঠেনি।

এসব বন্দরে ৫০টি ই-গেট দিয়ে ইলেক্ট্রনিক পাসপোর্টধারীদের সহজেই ইমিগ্রেশন পার হওয়ার কথা। ৫০টি ই-গেটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বসানো হবে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। ভিআইপি, ভিভিআইপি যাত্রী ছাড়াও শুধু ২৪টি গেট সাধারণ যাত্রীদের ব্যবহারের জন্য বসানো হবে।

এদিকে ই-পাসপোর্ট প্রকল্প বাস্তবায়নে জার্মানির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী পাসপোর্টের ইলেক্ট্রনিক চিপে ১০ আঙুলের ছাপ থাকার কথা। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রকল্প বাস্তবায়নকারী জার্মান কোম্পানি মাত্র দুটি আঙুলের ছাপ সংরক্ষণ করতে চাচ্ছে। আর মাত্র দুই আঙুলের ছাপে ভবিষ্যতে জালিয়াতি হতে পারে- এই আশঙ্কায় এ প্রস্তাবে রাজি হচ্ছে না পাসপোর্ট অধিদপ্তর। এ নিয়ে জার্মান প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক ও চিঠি চালাচালি হয়েছে। বিষয়টি এখনো সুরাহা হয়নি। এটাও ই-পাসপোর্ট চালু না হওয়ার অন্যতম কারণ বলে জানা গেছে।

ই-পাসপোর্টের পরিবর্তে নাগরিকরা চাইলে এমআরপি পাসপোর্টও করতে পারবেন। ই-পাসপোর্টের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ন্যূনতম ছয় হাজার টাকায় একজন নাগরিক ২১ কার্যদিবসের মধ্যে পাসপোর্ট পাবেন। এছাড়া সাত দিনের এক্সপ্রেস ডেলিভারির জন্য ১২ হাজার এবং একদিনের সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারির জন্য ১৫ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।

বর্তমানে ১১৯টি দেশের নাগরিক ই-পাসপোর্ট ব্যবহার করছে। ই-পাসপোর্ট চালু হলে ১২০তম দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম লেখা হবে। অত্যাধুনিক এই ই-পাসপোর্ট একটি বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট, যাতে একটি এমবেডেড ইলেক্ট্রনিক মাইক্রোপ্রসেসর (মোবাইলের মেমোরি কার্ডের মতো) চিপ থাকবে। ই-পাসপোর্ট ই-গেটের একটি নির্দিষ্ট স্থানে রাখার সঙ্গে সঙ্গে বাহকের পরিচয় নিশ্চিত করবে। নির্দিষ্ট নিয়মে দাঁড়ালে ক্যামেরা ছবি তুলে নেবে। থাকবে ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাইয়ের ব্যবস্থাও। সব ঠিক থাকলে দ্রততম সময়ের মধ্যেই ভ্রমণকারী ইমিগ্রেশন পেরিয়ে যেতে পারবেন।

 

সূত্র: ঢাকাটাইমস

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button