গাজীপুর

শ্রীপুরে অপহরণের পর শিশু হত্যায় দুই আসামি গ্রেপ্তার

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : শ্রীপুর উপজেলার প্রহলাদপুরে চাঞ্চল্যকর শিশু সাদমান ইকবাল রাকিন (১০) অপহরণ ও হত্যার রহস্য উদঘাটন এবং সহযোগীসহ মূল আসামি পারভেজ শিকদারকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

সোমবার দুপুরে র‌্যাব-১ এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার পারভেজ শিকদার (১৮) শ্রীপুর উপজেলার ফাউগান গ্রামের আলীম শিকদারের ছেলে এবং তার সহযোগী ফয়সাল আহমেদ (১৫) একই এলাকার আব্দুল লতিফ মোল্লার ছেলে।

র‌্যাব জানায়, ফাউগান গ্রামের সৈয়দ শামীম ইকবালের ছেলে শিশু সাদমান ইকবাল রাকিন গত ৬ ডিসেম্বর অপহৃত হয়। পরে অপহরণকারীরা ভিকটিমের বাবার কাছে তার (ভিকটিমের বাবার) হারানো একটি মোবাইলফোন নম্বর থেকে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এ ব্যাপারে ভিকটিমের বাবা শ্রীপুর থানায় মামলা করেন।

এদিকে, অপহরণের পাঁচ দিন পর ১১ ডিসেম্বর বাড়ি থেকে কিছু দূরে একটি বাঁশঝাড় থেকে রাকিনের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

র‌্যাব জানায়, গত ১৬ ডিসেম্বর র‌্যাব-১ এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের অভিযান চালিয়ে রাকিন হত্যাকাণ্ডে জড়িত পারভেজ শিকদার ও তার সহযোগী ফয়সাল আহমেদকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা ওই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করেছে।

র‌্যাব আরো জানায়, পারভেজ শিকদার এসএসসি পাশ করে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের শিমুলতলী কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে এগ্রিকালচার ডিপ্লোমায় ভর্তি হয়। গত দুই বছর যাবত রাকিনকে সে প্রাইভেট পড়াত। বড় অংকের টাকা পাওয়ার আশায় ছয় মাস আগে সে রাকিনকে অপহরণ ও মুক্তিপণ চাওয়ার উদ্দেশ্যে রাকিনের বাবার মোবাইলফোন চুরি করে বন্ধ রেখেছিল। এক পর্যায়ে সে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ফয়সাল আহমেদের সাথে বিষয়টি নিয়ে পরিকল্পনা করে। অপহরণের দিন তারা ভিকটিমকে কৌশলে বাঁশঝাড়ে নিয়ে যায় এবং আটকে রাখার চেষ্টা করে। আটকাতে ব্যর্থ হলে এবং ভিকটিম ছাড়া পেলে তাদের কথা সবাইকে জানিয়ে দেবে এই ভয়ে তারা তাকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয়। এক পর্যায়ে তার দুইজনে রাকিনের গলা টিপে হত্যা করে এবং ফয়সাল ভিকটিমের বাবাকে ফোন করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button