অর্থনীতিআলোচিত

কৃষিঋণে অতিরিক্ত সুদ নিয়েছে ব্যাংকগুলো

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : কৃষিঋণে গ্রাহক পর্যায়ে নির্ধারিত সুদের অতিরিক্ত আদায় করছে ব্যাংকগুলো। নিজস্ব অনুসন্ধানে এমন অভিযোগের প্রমাণও পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে সতর্কতা জারিসহ ভবিষ্যতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ইঙ্গিতও দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বুধবার (২৯ মে) এ-সম্পর্কিত এক সার্কুলারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, কৃষিঋণ বিভাগ কর্তৃক গঠিত পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় গ্রাহক পর্যায়ে বিতরণকৃত কৃষি ও পল্লিঋণ এবং বিনিয়োগের বিপরীতে কোনো কোনো ব্যাংক নির্ধারিত হারের চেয়ে ক্ষেত্রবিশেষে অতিরিক্ত সুদ বা মুনাফা আদায় করছে।

সার্কুলারে বলা হয়, এ মর্মে স্পষ্টীকরণ করা যাচ্ছে যে, এ বিভাগ কর্তৃক গঠিত পুনঃঅর্থায়ন স্কিমগুলোর আওতায় বিতরণকৃত ঋণ বা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে গ্রাহক পর্যায়ে নির্ধারিত রেয়াতি সুদ বা মুনাফার অতিরিক্ত আদায় করা যাবে না।

এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক কর্মকর্তা সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় ব্যাংকগুলোকে শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ বা ১ শতাংশ সুদে তহবিল দেওয়া হয়। এ তহবিলের আওতায় গ্রাহক পর্যায়ে সুদহার হবে সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ। কিন্তু ঋণগ্রহীতা শর্ত ভঙ্গ করলে বা খেলাপি হলে সাধারণ ঋণের মতোই সুদহার আদায় করা যাবে। তবে শর্ত থাকে যে পুনঃঅর্থায়নের মেয়াদের আওতায় থাকা কোনো ঋণের সুদহার নির্ধারিত ৪ শতাংশের বেশি আদায় করা যাবে না। তারপরও কতিপয় ব্যাংক গ্রাহকের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে বাড়তি সুদ বা মুনাফা আদায় করেছে। বিশেষ করে করোনা অভিঘাতের পর পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা নিয়ে ব্যাংকের এমন আচরণে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে অভিযোগ জমা পড়ে। ইতোমধ্যে ওই সব অভিযোগ কেস টু কেস সেটেল্ড বা সমাধান করা হয়েছে। তারপরও ভবিষ্যতের জন্য স্পষ্টীকরণ নির্দেশনা দেওয়া হলো।

করোনার অভিঘাত পরবর্তী সময়ে সরকারের নির্দেশে বাংলাদেশ ব্যাংক কৃষি খাতের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন স্কিম গঠন করে ব্যাংকগুলোকে কৃষিতে ঋণ সুবিধা সম্প্রসারণ করতে নির্দেশনা দেয়। একই সময়ে এসএমই ও পোশাকশিল্পসহ অন্যান্য খাতের জন্যও এ ধরনের পুনঃঅর্থায়ন স্কিম গঠন করা হয়েছিল।

এরকম আরও খবর

Back to top button