আলোচিতসারাদেশ

নতুন জঙ্গি সংগঠনের সন্ধান পেল র‌্যাব, গ্রেপ্তার ৩

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : আনসার আল ইসলামের রিক্রুটিং শাখা ও আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ বিভাগের তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তারা আনসার আল ইসলামের নামে সংগঠনটির কার্যক্রম চালাতে পারতেন না। ফলে ‘শাহাদাত’ নামে আরেকটি সংগঠন খুলেছেন। যার মাধ্যমে তারা নতুন সদস্য সংগ্রহ করে চলছিলেন।

শুক্রবার (২৪ মে) রাজধানীর গুলিস্তান ও সাইনবোর্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। তারা হলেন আনসার আল ইসলামের প্রধান মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন, দুইজন আঞ্চলিক প্রশিক্ষক জিহাদ হোসেন ওরফে হুজাইফা (২৪) ও আমিনুল ইসলাম।

শনিবার (২৫ মে) রাজধানীর কারওয়ানবাজার মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের মিডিয়া বিভাগের পরিচালক আরাফাত ইসলাম জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিরা নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ‘আনসার আল ইসলাম’ এর সদস্য। তারা আফগানিস্তানে তালেবানের উত্থানে উদ্বুদ্ধ হয়ে আল কায়েদা মতাদর্শের জঙ্গি সংগঠন ‘আনসার আল ইসলামে’ যোগদান করেন। র‍্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযানের ফলে আনসার আল ইসলামের কার্যক্রম প্রায় স্তিমিত হয়ে পড়ে। এই নামে নতুন সদস্য সংগ্রহসহ কোনো কার্যক্রম চালানো যাচ্ছিল না। বিধায় তাদের কার্যক্রমকে চলমান রাখতে গ্রেফতার ব্যক্তিরা আনসার আল ইসলাম মতাদর্শী ‘শাহাদাত’ নামে নতুন একটি জঙ্গি সংগঠন বানিয়ে সদস্য সংগ্রহসহ দাওয়াতি কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন। এই সংগঠনের সদস্য সংখ্যা শতাধিক।

র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ইসমাইল আনসার আল ইসলামের রিক্রুটিং শাখার প্রধান এবং ‘শাহাদাত’ গ্রুপেরও প্রধান হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।

ইসমাইল র‌্যাবকে জানিয়েছেন, এই গ্রুপটি সালাহউদ্দিন নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। যিনি বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন। এই গ্রুপের অন্য সদস্যরা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছেন। তারা বিভিন্ন সময় অনলাইনে বিভিন্ন উগ্রবাদী নেতার বক্তব্য দেখে উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে সংগঠনের সদস্যদের মাধ্যমে এই সংগঠনে যোগদান করেন। পরে তারা আনসার আল ইসলামের নাম ব্যবহার না করে ‘শাহাদাত’ গ্রুপের নামে সদস্য সংগ্রহ ও দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশে ইসলামি খেলাফত প্রতিষ্ঠা করা। এই লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশে মুসলমানদের ওপর নির্যাতনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অপব্যাখ্যার মাধ্যমে ভুল বুঝিয়ে সংগঠনের সদস্যদের ও নতুন সদস্য সংগ্রহ করে তাদের বিভিন্ন অপব্যাখা ও মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে দেশের বিচার ও শাসন ব্যবস্থা সম্পর্কে বিতৃষ্ণা তৈরি করে ইসলামি রাষ্ট্র কায়েম করার জন্য সদস্যদের উগ্রবাদী করে তুলতেন। এ উদ্দেশ্যে সংগঠনের সদস্যদের তারা বিভিন্ন উগ্রবাদী পুস্তিকা, মুসলমানদের ওপর নির্যাতন ও উগ্রবাদী নেতাদের বক্তব্যের ভিডিও সরবরাহ করতেন।

এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে তারা মসজিদ, বাসা বা বিভিন্ন স্থানে সদস্যদের নিয়ে গোপন সভা পরিচালনা করতেন এবং সংগঠনের সদস্যদের শারীরিক কসরত করাতেন। তারা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত বিশেষত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, যশোর, সাতক্ষীরাসহ ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন এলাকাকে প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য নির্ধারণ করেন বলে জানা যায়।

র‌্যাবের মিডিয়া পরিচালক বলেন, এ সংগঠনের অধিকাংশই মাদরাসার ছাত্র ও শিক্ষক। সাধারণ লেখাপড়ায় শিক্ষিত উগ্র মনোভাবাপন্ন লোকজনকে আকৃষ্ট করার জন্য দেশ বিরোধিতাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান র‌্যাব কর্মকর্তা।

এরকম আরও খবর

Back to top button