আলোচিতরাজনীতিসারাদেশ

উপজেলা নির্বাচন: সমালোচনার মুখে অবশেষে সরে দাঁড়ালেন প্রতিমন্ত্রীর শ্যালক লুৎফুল

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : অবশেষে নাটোরের সিংড়া উপজেলা চেয়ারম্যান পদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন ডাক, তার, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের শ্যালক লুৎফুল হাবিব রুবেল।

রোববার (২১ এপ্রিল) দুপুরে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার আব্দুল লতিফের কাছে রুবেলের পক্ষে প্রত্যাহারপত্র জমা দেন তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিনহাজ উদ্দিন।

মিনহাজ উদ্দিন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা মন্ত্রী ও এমপি’র নিকট আত্মীয় কেউ উপজেলা পরিষদে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না- এমন ঘোষণার পর প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের নির্দেশে রুবেল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। তবে রুবেল ঢাকায় অবস্থান করার কারণে চেয়ারম্যান তার মনোনয়ন প্রত্যাহারের আবেদনটি নিয়ে জমা দেন।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার আব্দুল লতিফ শেখ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, তিনি রুবেলের প্রত্যাহারের আবেদনটি প্রতিনিধির মাধ্যমে গ্রহণ করেছেন। তবে এ ব্যাপারে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী লুৎফুল হাবিব রুবেলের সঙ্গে ফোনে কথা বলে প্রত্যাহারের বিষয়টি তিনি নিশ্চিত হয়েছেন। সোমবার পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদনের শেষ দিন। এই উপজেলায় ২ জন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। যদি অপর প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন পাশা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন তাহলে এই উপজেলায় নতুন তফসিল হবে।। আর শুধুমাত্র দেলোয়ার হোসেন প্রার্থী থাকলে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন। এর আগে রোববার সকালে নাটোরের সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন একমাত্র প্রতিপক্ষ প্রার্থী লুৎফুল হাবিব রুবেল।

ভিডিওতে নিজেকে ষড়যন্ত্রের শিকার দাবি করে লুৎফুল হাবিব রুবেল বলেন, ২০০২ সাল থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, ২০০৫ সালে গোল ই আফরোজ কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলাম, বর্তমানে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বরত রয়েছি। গত ৩ তারিখে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পদত্যাগ করি।

ইউনিয়ন পরিষদেও পরপর তিনবার নির্বাচিত হই।

গত ৮ তারিখে উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন পত্র সাবমিট করি। তারপর যেই উদ্ভূত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তার সঙ্গে আমি জড়িত নই। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। আমাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে বিভিন্ন মহল সক্রিয়। লুৎফুল বলেন, উপজেলা পরিষদের নির্বাচন নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন যে, কোনো মন্ত্রী-সংসদ সদস্যের আত্মীয়স্বজন নির্বাচন করতে পারবে না। তারই আলোকে এই ঘোষণার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এবং জুনাইদ আহমেদ পলকের নির্দেশনা অনুযায়ী মনোনয়নপত্রটি প্রত্যাহার করে নিচ্ছি। অফিসিয়াল যে প্রসেসগুলো রয়েছে সেগুলো যত দ্রুত সম্ভব সম্পন্ন করবো।

ভিডিও বার্তার বিষয়ে কথা বলতে লুৎফুল হাবীব রুবেলের মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে মোবাইল ফোন নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিংড়া পৌরসভার মেয়র মো. জান্নাতুল ফেরদৌস সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ভিডিওটা আমাকেও পাঠানো হয়েছে। এবং তার (লুৎফুলের) লোকজন ফোন দিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানিয়েছেন।

আগে ২০শে এপ্রিল উপজেলা আওয়ামী লীগের জরুরি সভায় তাকে চেয়ারম্যান পদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়া হয়। সেই সঙ্গে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে ‘কেন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না’ মর্মে ২২শে এপ্রিলের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, গত ১৬ই এপ্রিল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অপর প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন পাশাকে অপহরণ এবং মারধর করে তার গ্রামের বাড়ি উপজেলার পার সাঐল-এর বাড়িতে ফেলে রেখে আসা হয়। এই ঘটনায় দেলোয়ার হোসেন বাসার বড়ভাই মজিবর রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাত ২০ জনকে আসামি করে নাটোর সদর থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ সিসিটিভির ফুটেজ পরীক্ষা করে প্রথমে সানোয়ার হোসেন সুমন এবং নাজমুল হোসেন বাবুকে গ্রেপ্তার করে। এর মধ্যে সানোয়ার হোসেন সুমন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে লুৎফুল হাবিব রুবেলের পক্ষে এই অপহরণ এবং মারধরের কথা স্বীকার করে।

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button