আন্তর্জাতিক

‘ঘরের কাছে’ হামাসের প্রশিক্ষণকেন্দ্র, জানতই না ইসরায়েল

গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইসরায়েলে গত শনিবার আকস্মিক যে হামলা চালায় হামাস, তার আগে ইহুদী রাষ্ট্রটির সীমান্তসংলগ্ন গাজার কয়েকটি ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন হামাস যোদ্ধারা।

সিএনএনের একটি অনুসন্ধান ভিডিওতে এমন বেশ কয়েকটি প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের তথ্য এসেছে।

ক্যাম্পগুলোতে ইসরাইলের বিভিন্ন ভবনের আদলে তৈরি কিছু স্থাপনা ঘিরে হামাসের বহু যোদ্ধাকে রকেট ছুড়তে এবং লোকজনকে বন্দী করার প্রশিক্ষণ নিতে দেখা গেছে গত বছরের ডিসেম্বরে ধারণ করা ভিডিওতে।

দুই বছর ধরে চলা হামাসের প্রশিক্ষণের বিভিন্ন ভিডিও বিশ্লেষণ করে সিএনএন ছয়টি প্রশিক্ষণ ক্যাম্প চিহ্নিত করেছে। গত শনিবারের হামলার জন্য এসব ক্যাম্পেই দীর্ঘ সময় ধরে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন হামাস ও তাদের সহযোগী দলগুলোর সদস্যরা।

প্রশিক্ষণ ক্যাম্পগুলোর মধ্যে একটির অবস্থান দেখা গেছে গাজা-ইসরায়েল সীমান্তের সবচেয়ে স্পর্শকাতর এবং কঠোর নজরদারিতে থাকা ইরেজ ক্রসিংয়ের কাছেই।

ওই এলাকা থেকে ক্যাম্পটি দুই কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে অবস্থিত। গাজা-ইসরায়েলের মধ্যে যাতায়াতে এই সীমান্তপথটিই বেশি ব্যবহার হয়।

সিএনএনের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ইরেজ ক্রসিংয়ের কাছের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের ভবনগুলো নতুন তৈরি করা হয়েছে।

গত শনিবারের হামলায় এই সীমান্ত প্রতিরক্ষা ভেঙ্গেই ইসরায়েলে ঢুকে হামলা চালায় হামাস, যে হামলায় প্রাণ হারায় ১২০০ মানুষ।

সীমান্ত থেকে ৭২০ মিটার বা আধা মাইলেরও কম দূরত্বে আরেকটি প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের খোঁজ মিলেছে।

এক বছর আগে ধারণ করা আরেকটি ভিডিওতে হামাস যোদ্ধাদের প্যারাগ্লাইডারে উড্ডয়ন, অবতরণ এবং গুলি ছোড়ার প্রশিক্ষণ নিতে দেখা গেছে। গত ৭ অক্টোবর এই প্যারাগ্লাইডারে উড়ে গিয়েও হামলায় চালান হামাস যোদ্ধারা।

গত দুই বছর ধরে স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া বিভিন্ন ছবি বিশ্লেষণ করে সিএনএন হামাসের এসব প্রশিক্ষণ ক্যাম্প কেন্দ্র করে ইসরায়েলের শক্ত কোনো পদক্ষেপ দেখতে পায়নি।

শুধু নির্ধারিত প্রশিক্ষণ ক্যাম্পই নয়, হামাস যোদ্ধারা এই দুই বছরে আশপাশের কৃষিজমিগুলোতেও সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। প্রশিক্ষণের মাত্রা এতটাই ব্যাপক ছিল কৃষিজমিগুলো বিরাণ এলাকায় পরিণত হয়েছে।

হামাসের ঝড়ের মতো ইসরায়েলে ঢুকে সেনা ঘাটিগুলোর দখল নেওয়া, তাণ্ডব চালিয়ে শহর, খামারগুলোকে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করা এরপর লোকজনকে বন্দী করে নিয়ে যাওয়ার পর ইসরায়েলের গোয়েন্দা এবং সামরিক তৎপরতার ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

মূল বিষয় হচ্ছে, হামাস তার যোদ্ধাদের দুই বছর ধরে বলতে গেলে প্রায় প্রকাশ্যেই প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তাহলে কেন মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে আধুনিক সমর ও গোয়েন্দা শক্তির দেশ ইসরায়েল তা শনাক্ত করতে পারল না আর কেনই বা হামলা ঠেকাতে পারল না?

এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর দ্বারস্থ হয়েছিল সিএনএন। জবাবে বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল জনাথন কনরিকাস বলেন “নতুন করে কিছু বলার নেই।”

তিনি বলেন, হামাসের অনেক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ছিল, যার অনেকগুলো ইসরায়েল বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে ধ্বংস করেছে।

ইসরাইলি এই সেনা কর্মকর্তার ভাষ্য, ২০২১ সালে হামাসের সঙ্গে নতুন করে বৈরিতা শুরুর পর গত দুই বছরে ইসরায়েলের সঙ্গে সংগঠনটির বড় ধরনের কোনো সংঘাতের ঘটনা ঘটেনি।

তাছাড়া হামাস তাদের এই প্রশিক্ষণ কর্মকাণ্ডকে হয়ত ‘বেসামরিক’ আদলে পরিচালিত করেছিল, ধারণা কনরিকাসের।

যদিও ছয়টি প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের পাঁচটিতেই ‘বেসামরিক’ রূপ দেখা যায়নি সিএনএনের ভিডিওগুলোতে। এসবের মধ্যে একটি ক্যাম্পে আবার বিমান অবতণের ব্যবস্থাও আছে।

বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতি চলায় আলাদা করে এ বিষয় নিয়ে কথা বলার পরিস্থিতি নেই বলে জানান কনরিকাস।

তবে যুদ্ধ শেষে সব বিষয়ই তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানান ইসরাইলি বাহিনীর মুখপাত্র।

 

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button