রাজনীতি

ডিজিটাল প্রচারণায় পিছিয়ে বিএনপি

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : একাদশ সংসদ নির্বাচনের মাঠ পর্যায়ের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়েছে। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রার্থীরা নির্বাচনমুখী প্রচারণার গ্রিন সিগন্যাল পেয়েছেন। তবে ডিজিটাল প্রচারণার নীতিমালা না থাকায়,আগে থেকেই ইন্টারনেটভিত্তিক প্রচারণা শুরু করেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।

অনলাইন ভিত্তিক এই প্রচারণায় আওয়ামী লীগের ধারের কাছেও নেই বিএনপি। ক্ষমতাসীন দলটির তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, ইউটিউব ও ইন্টারনেট ব্যবহারকারী কোটি মানুষের কাছে নির্বাচনী বার্তা পৌঁছে দিতে বিএনপি।

সোমবার (১০ ডিসেম্বর) আওয়ামী লীগের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেখা যায়, নির্বাচনে ভোট চেয়ে দলের পক্ষে বিভিন্নরকম প্রচারণামূলক বার্তা পোস্ট করেছে। চিত্রনায়ক রিয়াজ, ফেরদৌস আহমেদ, মাহফুজ আহমেদ, চিত্র নায়িকা নিপুণ, আফসানা মিমিসহ অন্তত ১৮ জন মিডিয়া ব্যক্তিত্বের প্রচারণা মূলক বক্তব্য ভিডিও আকারে প্রকাশ করা হয়।

অপর দিকে বিএনপির ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে গিয়ে দেখা যায়, এরকম নির্বাচনমুখী কোনো প্রচারণা নেই। আছে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর বিভিন্ন সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য, দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের বক্তব্য, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে প্রচারণা। এছাড়া কয়েকটি পত্রিকার নিউজ লিংক শেয়ার করা হয়েছে।

ফেসবুকের পরেই দেশে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় ইউটিউব। যেখানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কোনো ভেরিফাইড আইডি নেই। কিন্তু দুই দলের নামেই রয়েছে অন্তত অর্ধশত আইডি।

‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’ ইংরেজিতে লিখে সার্চ দিলে চার-থেকে পাঁচটি গান পাওয়া যায়। যেখানে শুরুতে দলটির নির্বাচনী প্রচারণা মূলক থিম সং ‘জয়বাংলা জিতবে আবার নৌকা, জয়বাংলা শেখ হাসিনার সালাম নিন, জয়বাংলা নৌকা মার্কায় ভোট দিন’ গানটি চলে আসে। যেখানে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি হিসেবে দলটিকে উল্লেখ করে, বিগত সময়ে তাদের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ ও কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হয়েছে।

এছাড়া ‘জয়বাংলা বলে আগে বাড়ো’, ‘এখন সময় বাংলাদেশের’, ‘এখন সময় আমাদের’, ‘এখন সময় জয় বাংলার, ‘নতুন দিনের প্রভাতের’, ‘ধ্বংস নয় আমরা উন্নয়নের পথে, সমৃদ্ধির পথে’ সহ রয়েছে কয়েকটি গান। যেগুলোতে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন প্রচারণা বক্তব্য, ছবি ও ভিডিও রয়েছে।

অপর দিকে ইউটিউবে বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণামূলক একটি মাত্র থিম সং পাওয়া গিয়েছে, যা খুবই নিম্নমানের। সেটাও পাবলিশ করা হয়েছে গতকাল (রোববার)।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের থিম সং ইতোমধ্যেই জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এরকম অনানুষ্ঠানিক ডিজিটাল প্রচারণায় খুব বেশি এগোতে পারেনি, এমনকি আনুষ্ঠানিক প্রচারণারও শুরুর সিদ্ধান্তও নিতে পারেনি বিএনপির নীতিনির্ধারকরা।

এ নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ‘নির্বাচনের প্রচারণা আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করতে পারি নাই। আমাদেরকে নানাভাবে বাঁধা দেয়া হচ্ছে। এজন্য সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। শীঘ্রই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়া হবে।’

ডিজিটাল প্রচারণা নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমরা ডিজিটাল পদ্ধতিতে যে প্রচারণা করব তা ব্যয়ের সাথে সঙ্গতি থাকবে না। সেটা যদি আনুষ্ঠানিকভাবে করি তাহলে নির্বাচনী প্রচারণা আচরণবিধি লঙ্ঘন হবে। নির্বাচন কমিশন আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে। কেননা আওয়ামী লীগ প্রচারণা শুরু হওয়ার আগেই প্রচারণা শুরু করলেও তাদের কিছুই বলবে না নির্বাচন কমিশন, কিন্তু আমরা যদি একটু এদিক সেদিক করি তাহলে আমাদের উপর খড়গ নেমে আসবে।’

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button