আন্তর্জাতিক

ইসরাইলি জাহাজে কামিকাজি ড্রোন হামলা, অভিযোগের তীর ইরানের দিকে

গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ওমান উপকূলে একটি তেলের ট্যাঙ্কারে ড্রোন হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে ইসরাইল।

বুধবার সুইসাইড ড্রোনের মাধ্যমে এই হামলা চালানো হয়। ইসরাইল বলছে, মূলত কাতার বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে অস্থিরতা তৈরির লক্ষ্যেই এই ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এ খবর দিয়েছে সিএনএন।

খবরে জানানো হয়, লাইবেরিয়ান-পতাকাযুক্ত প্যাসিফিক জিরকর জাহাজটি ইসরাইলের গ্যাস তেল বহনকারী ট্যাঙ্কার। সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে এ বিস্ফোরণ হয়। তবে এতে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে একজন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ড্রোনটি জাহাজটিকে ধ্বংস করতে পারেনি এবং তার যাত্রাও থামাতে পারেনি।

এখন ইসরাইল বলছে, ইরানের শাহেদ-১৩৬ ড্রোন দিয়ে এ হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধেও এই ড্রোন ব্যবহার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইউক্রেন যুদ্ধই প্রমাণ করেছে যে, ইরানের ড্রোন কার্যক্রম আসলে কত উন্নত। যদিও ইরানি ড্রোন ব্যবহারের কথা অস্বীকার করেছে রাশিয়া।

তবে ইসরাইলি এক কর্মকর্তা বলেছেন, রাশিয়ায় পাঠানো ড্রোন আর তেলের ট্যাঙ্কারে হামলা করা ড্রোনের মডেল একই।
পরিস্থিতির সংবেদনশীলতার জন্য তার নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন ওই ইসরাইলি কর্মকর্তা। তিনি বলেন, আমরা এই হামলাকে উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের উস্কানি হিসাবে দেখছি। এটি শুধু ইসরাইলের বিরুদ্ধে আক্রমণ নয়, উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান সবসময় এমন করে থাকে। তাদের উদ্দেশ্যে এ অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ব্যাহত করা এবং কাতার বিশ্বকাপের ইভেন্টগুলিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড পরে একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, জাহাজটিতে আঘাত করা ধ্বংসাবশেষ বিশ্লেষণ করে জানা গেছে যে, এটি শাহেদ-সিরিজের কামিকাজি ড্রোন ছিল। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার জেনারেল মাইকেল এরিক কুরিলা এক বিবৃতিতে বলেছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক প্রণালীতে একটি বেসামরিক জাহাজের বিরুদ্ধে এই মনুষ্যবিহীন বিমান হামলা এই অঞ্চলে ইরানের ‘সন্ত্রাসী’ কার্যক্রমকে আবারও সবার সামনে নিয়ে এসেছে।

যেই জাহাজে হামলা হয়েছে তার মালিক ইস্টার্ন প্যাসিফিক শিপিং কোম্পানি জানিয়েছে, হামলায় জাহাজের তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। আমরা জাহাজের সাথে যোগাযোগ করছি এবং কোনও আঘাতের খবর নেই। সমস্ত ক্রু নিরাপদ আছে। জাহাজের হুলের কিছু ছোটখাটো ক্ষতি হয়েছে, তবে পণ্য মজুদের স্থান অক্ষত আছে।

মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান বলেছেন যে, ইরান সম্ভবত এই ড্রোন হামলার পিছনে রয়েছে। এ নিয়ে তিনি একটি বিবৃতি দিয়েছেন। এতে তিনি বলেন, এই হামলার কোন যৌক্তিকতা নেই। ইরান যদিও বরাবরই এই ধরনের কাজ করে আসছে এবং সর্বশেষ এই হামলা তাদের বৃহত্তর অস্থিতিশীল কার্যকলাপের একটি অংশ মাত্র। তিনি আরও বলেন, উপলব্ধ তথ্য পর্যালোচনা করার পর আমরা নিশ্চিত যে ইরানের ড্রোন। এই কামিকাজি ড্রোনই ইরান রাশিয়ায় সরবরাহ করেছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ইরানের এই আচরণ আন্তর্জাতিক শিপিং, বাণিজ্য এবং এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে চলাচলের স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

ইরানের দিকে আঙুল তোলা হলেও ইরান সরকার এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে সিএনএন। তবে সেখান থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, হামলার ধরণ দেখে এটিকে ইরানের হামলাই মনে হচ্ছে। এর আগে গত বছরের ৩০শে জুলাই একটি সশস্ত্র ড্রোন ওমান উপকূলে মার্সার স্ট্রিট নামে একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলা করেছিল। এতে দুই জন নিহত হয়। ওই জাহাজটি ছিল এক ইসরাইলি ব্যবসায়ীর।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button