আন্তর্জাতিকআলোচিত

ফিলিস্তিনিদের নতুন প্রজন্মেও ছড়িয়ে পড়ছে সশস্ত্র প্রতিরোধ, আতঙ্কিত ইসরাইল!

গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পশ্চিম তীরে গত তিন দিনে তিন ফিলিস্তিনি শাহাদাত বরণ করেছেন। সংগ্রামী এই তিন জনের একজন হলেন উদাই আততামিমি।

অন্য দুজন হলেন মুহাম্মাদ ফাদি নুরি ও সালাহ বারিকি। আততামিমির বয়স ছিল ২২ বছর, ফাদি নুরির বয়স ছিল ১৬ এবং সালাহ বারিকির বয়স ছিল উনিশ।

এই তরুণ ও যুবকদের শাহাদাত প্রমাণ করছে যে নতুন প্রজন্মের ফিলিস্তিনিদের মধ্যেও ইসরাইল বিরোধী প্রতিরোধ-সংগ্রাম ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ছে।

দখলদার ইসরাইল বিরোধী প্রতিরোধ সংগ্রামে অসাধারণ সাফল্যের অধিকারী লেবাননের জনপ্রিয় ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ ফিলিস্তিনি তরুণ ও যুবকদের সাম্প্রতিক আত্মত্যাগের প্রশংসা করে বলেছে,

শহীদ উদাই আততামিমি ফিলিস্তিনি জনগণের সংগ্রামের প্রতীক। আত্মত্যাগের জন্য তার প্রস্তুতি ছিল প্রতিরোধের লক্ষ্যে ও ফিলিস্তিনের মাটির জন্য। ইহুদিবাদী ইসরাইল এ জন্যই ক্রুদ্ধ এবং এ কারণেই ফিলিস্তিনি শিশু ও তরুণদের ওপর নৃশংস হত্যাযজ্ঞ জোরদার করেছে।

আততামিমি গত বুধবার বুধবার রাতে ইসরাইল বিরোধী দ্বিতীয় অভিযান চালানোর সময় শাহাদাত বরণ করেছেন। দশ দিনেরও কম সময় আগে তিনি প্রথম অভিযানে দখলদার ইসরাইলের এক সেনাকে গুলি চালিয়ে হত্যা ও অন্য এক ইসরাইলি সেনাকে আহত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। দ্বিতীয় অভিযানেও তিনি এক ইসরাইলি সেনাকে আহত করতে সক্ষম হন। ইহুদিবাদী দখলদার ও হানাদাররা তাঁকে হন্যে হয়ে খুঁজছে জানার পরও তিনি ভয়-ভীতির উর্ধে উঠে প্রকাশ্যে বীরত্বপূর্ণ অভিযান চালানোর পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।

ফিলিস্তিনের ইসলামী জিহাদ আন্দোলন তার প্রশংসা করে বলেছে, শহিদ আততামিমি সব ধরনের অন্যায়, হত্যাযজ্ঞ, সন্ত্রাস, ঘৃণা ও ষড়যন্ত্রের মোকাবেলায় নিজের সুদৃঢ় ইচ্ছাকে দুর্বল করেননি।

আততামিমির বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগ তাঁকে জাতীয় বীরে পরিণত করেছে। ইসলামী জিহাদ আন্দোলন তার প্রশংসা করে আরও বলেছে, তামিমি সব ফিলিস্তিনির হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন, তিনি তাদের সবার গর্ব, প্রজন্মের পর প্রজন্ম তার কথা বলবে শ্রদ্ধাভরে। আততামিমি মুসলমানদের প্রথম কিবলার শহর আলকুদস শরিফে দুই বার বীরত্বপূর্ণ অভিযান চালিয়েছেন তাকে গ্রেফতারের ইসরাইলি অভিযান চলতে থাকা সত্ত্বেও!

তামিমির বীরত্বপূর্ণ অভিযানগুলো ইসরাইলের নিরাপত্তা বাহিনীর সামর্থ ও গোয়েন্দা বিষয়ক দুর্বলতাও স্পষ্ট করেছে।

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের যুব সমাজের প্রতিরোধ আন্দোলন ও সশস্ত্র সংগ্রাম জোরদার হওয়ার বিষয়টিও বিষয়টি লক্ষ্যনীয়। চলতি বছরের প্রথম থেকে এ পর্যন্ত ১৭৫ জন ফিলিস্তিনি শহীদ হয়েছেন যাদের মধ্যে ১২৪ জনই হলেন পশ্চিম তীরের ও ৫১ জন হলেন গাজা উপত্যকার। গতকালও পশ্চিম তীরের নাবলুস শহরের পশ্চিমাঞ্চলে একটি এলাকায় ইসরাইলি দখলদারদের সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের সংঘর্ষে ৪৮জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। এ থেকে স্পষ্ট গাজা ও পশ্চিম তীর ইসরাইলি দখলদারিত্বের মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। আর এ বিষয়টি ইসরাইলকে আতঙ্কিত করে তুলেছে।

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button