আলোচিত

ঝিলমিল অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) আবাসন সুবিধার উন্নয়নে কেরানীগঞ্জে যে ঝিলমিল আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্প নিয়েছিল তার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। সরকার-বেসরকারি অংশীদারত্বে ১৩ হাজার ৭২০টি অ্যাপার্টমেন্ট তৈরির জন্য ২০১৭ সালে চুক্তি হয়। এই কাজ ২০২২ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে চার বছর মেয়াদী প্রকল্পের প্রাথমিক কাজই শুরু হয়নি এখনও।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রাজউকের বেসরকারি অংশীদারের ব্যয় পরিশোধের অর্থের সংস্থান না থাকা, বেসরকারি অংশীদারের আমদানি শুল্ক মওকুফের বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সিদ্ধান্ত না আসা, কাজের জন্য স্বাধীন পরামর্শক নিয়োগ না হওয়া এবং আইবিএস প্রযুক্তিতে নির্মাণ কাজ পরিচালনায় সক্ষম স্থপতি, প্রকৌশলী ও নির্মাণ শ্রমিক না থাকাকে এ প্রকল্প শুরু না হওয়ার কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে।

রাজউক সূত্রে জানা গেছে, জনসংখ্যার চাপ হ্রাস করা, বেসরকারি খাতের উদ্ভাবনী ক্ষমতা, বিনিয়োগ ও অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে আবাসন খাতের সমস্যা সমাধান করার জন্য কেরানীগঞ্জে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের পাশে ১৬০ একর জমিতে এই প্রকল্প নেওয়া হয়। কমপ্যাক্ট টাউনশিপ নির্মাণ এবং ১৩ হাজার ৭২০ ইউনিট অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ ও হস্তান্তর প্রকল্পটি সম্পন্ন করার জন্য বেসরকারি অংশীদার মালয়েশিয়ার বিএনজি গ্লোবাল হোল্ডিংস লিমিটেড (মালয়েশিয়া) কনসোর্টিয়াম ও শিয়াংজি কনস্ট্রাকশন ইন্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে ২০১৭ সালের ১১ নভেম্বর চুক্তি সম্পন্ন করে। চুক্তি মূল্য ছিল ৯ হাজার ৯৭৯ কোটি টাকা।

রাজউকের লক্ষ্য ছিল সেমি বেজমেন্টসহ ৬০টি ২০ তলা ভবন নির্মাণ এবং সেমি বেসমেন্টসহ ২৫ তলা ভবন ২৫টি। মোট ৮৫টি আবাসিক ভবনে ১৩ হাজার ৭২০টি অ্যাপার্টমেন্ট। এর মধ্যে ১৪০০ বর্গফুট আয়তনের ৯১২০টি, ১৬০০ বর্গফুট আয়তনের ২৫৭৬টি, ২২০০ বর্গফুটের ২০২৪টি অ্যাপার্টমেন্ট হওয়ার কথা ছিল।

এছাড়াও, ৩৫ হাজার বর্গফুট আয়তনের একটি দুই তলা মসজিদ নির্মাণ, ১২ একর আয়তনের লেক উন্নয়ন, একটি পার্ক ও দুটি খেলার মাঠসহ ৩৯ দশমিক ৫৫ একরের সবুজ চত্বর উন্নয়ন এ প্রকল্পের অংশ ছিল।

প্রকল্পের ভূমি আচ্ছাদন ২৩ শতাংশ। উন্মুক্ত ৭৭ শতাংশে স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মার্কেট, লেক, পার্ক, খেলার মাঠ, কমিউনিটি স্পেস ইত্যাদি নির্মাণ করার ছিল।

রাজউক ২০১৮ সালের ১০ মে বেসরকারি অংশীদারদের ভূমি হস্তান্তর করা হয়। তারা সাইট অফিস ও নির্মাণকর্মীদের জন্য শেড নির্মাণ করে।

সাইটে নির্মাণ কাজের জন্য ইউটিলিটি সংযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ২০১৯ সালের ৩ ডিসেম্বর তারা টেস্ট পাইলিংয়ের কাজও আরম্ভ করেছিল, যা পরে বন্ধ করে দেয়।

যোগাযোগ করা হলে বেসরকারি অংশীদার মালয়েশিয়ান কোম্পানি বিএনজি গ্লোবাল হোল্ডিংস লিমিটেডের মুখপাত্র শিমুল মন্ডল জানান, তাদের কোম্পানি এ কাজের জন্য প্রস্তুত আছে। রাজউকের সমস্যা সমাধান হলে তারা কাজ করবেন।

তিনি জানিয়েছেন, প্রকল্পের স্থাপত্য নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে ও কাঠামো নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে।প্রকল্পের ভবনসমূহ আইবিএস পদ্ধতিতে নির্মিত হবে। যার জন্য বাংলাদেশি যেসব জনশক্তি মালয়েশিয়ায় কাজ করছে তাদের এ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

এ বিষয়ে রাজউকের নির্বাহী প্রকৌশলী ও ঝিলমিল আবাসিক পার্ক প্রকল্পের পরিচালক খন্দকার মো ওয়াহিদ সাদিক বলেন, প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য নির্মাণ সামগ্রী বিদেশ থেকে আমদানি করতে হবে। যার আমদানি শুল্ক অত্যন্ত উচ্চ। আমদানি শুল্ক মওকুফের বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সিদ্ধান্ত এখনও আসেনি। আর কোভিড-১৯ মহামারিজনিত কারণে ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্যানেল নিয়োগে বিলম্ব হচ্ছে।

প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার দ্বিতীয় বছর থেকে বেসরকারি অংশীদারকে ব্যয় পরিশোধ আরম্ভ করতে হবে এর জন্য অর্থ সংস্থান হয়েছে কিনা জিজ্ঞেস করলে তিনি জানিয়েছেন, এটাও করা হয়নি।

প্রকল্পটি বাতিল হবে কিনা জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, বিলম্ব হতে পারে। বাতিল হবে না।

এ বিষয়ে রাজউকের চেয়ারম্যান মো আনিছুর রহমান মিঞা বলেন, কাজ শুরু করতে আমাদের দিক থেকে কোনও সমস্যা নেই। আমরা যখন বলি তখন তারা বলে তারা সহসাই শুরু করছে। কথা যখন বলি তখন মনে হয় তারা আন্তরিক। বেশি গড়িমসি করতে চুক্তি বাতিল করার এখতিয়ার সরকারের আছে।

তিনি আরও বলেন, তারা নির্মাণ সামগ্রী আমদানি শুল্ক মওকুফ চেয়ে আমাদের কাছে আবেদন করেছিল। আমরা তা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এনবিআরের পাঠিয়েছি। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসেনি। আর আমাদের অর্থের কোনও সমস্যা নাই। রাজউকের টাকা না থাকলে সরকার দেবে। এতে কারও বিচলিত হওয়ার কথা নাই। তারা যে কোনও সময় কাজ শুরু করতে পারে আমাদের সমস্যা নেই।

 

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button