আলোচিতরাজনীতি

ভোটের আগে জোট নিয়ে টানাটানি

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : নির্বাচনের আগে জোটের মাধ্যমেই শক্তি দেখাতে চায় আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি। জাতীয় পার্টি এখন মূল ফ্যাক্টরে পরিণত হয়েছে। জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতাদের সাম্প্রতিক সময়ে সরকার বিরোধী বক্তব্য শাসক দল আওয়ামী লীগকে ভাবিয়ে তুলেছে।

এইচ এম এরশাদ বেঁচে থাকতে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোকে নির্বাচনের আগে ব্যবহার করা সহজ ছিলো। তাকে মামলার সুতোয় টেনে তাই আওয়ামী লীগের জন্য নির্বাচনী জোট তৈরি করতে এর আগে তেমন বেগ পেতে হয়নি। কিন্তু এরশাদ মারা যাওয়ায় সেই অস্ত্র আর কার্যকর নয়।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরসহ শীর্ষ নেতারা এরইমধ্যে সরকার বিরোধী আন্দোলনের কথা বলছেন। তাদের কথায় এটা স্পষ্ট যে তারা সুবিধা বুঝে পক্ষ নেবেন। আর বিএনপিও বলে দিয়েছে এক মাত্র আওয়ামী লীগ ছাড়া আর সব দলের জন্য তাদের দরজা খোলা রয়েছে। তাদের যুগপৎ আন্দোলনে সবাই অংশ নিতে পারবে। বিএনপি জোট হিসেবে তাদের পুরনো ২০ দলীয় জোটকে সঙ্গে রেখে আর সবাইকে নিয়ে সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে। প্রথম দফা সংলাপের পর বিএনপি কল্যাণ পার্টির সঙ্গে মত বিনিময় করে দ্বিতীয় দফা সংলাপ শুরু করেছে৷

বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা আওয়ামী লীগের মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টি এবং ১৪ দলের শরিক কয়েকটি দলের সঙ্গেও অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে বলে দাবি করেছে।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স জানান, প্রথম দফায় তারা যে ৩৫টি দলের সঙ্গে সংলাপ করেছেন এবারও তাদের সাথেই সংলাপ হচ্ছে। তিনি বলেন,” দ্বিতীয় দফা সংলাপের মূল উদ্দেশ্য হলো যুগপৎ আন্দোলনের রূপরেখা চূড়ান্ত করা। আমরা এরইমধ্যে এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন নয়- সেব্যাপারে একমত হয়েছি। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন না দিলে এই সরকারের পতন ঘটিয়ে তা আদায় করার ব্যাপারেও আমরা একমত। এখন নির্বাচন পরবর্তী সরকার। দুই কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ। সাংবিধানিক ও শাসনতান্ত্রিক সংস্কারসহ আরো কিছু বিষয় এই সংলাপের মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে।”

তার কথা,”একমাত্র আওয়ামী লীগ ছাড়া যেকোনো দল আমাদের যুগপৎ কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন। এটা মহাসচিবও বার বার বলেছেন। আমরা আমাদের এই ঐক্যকে আরো বড় করতে চাই। তাই এই সংলাপের বাইরে আরো অনেক দলের সঙ্গে আমাদের অনানুষ্ঠানিক কথা হচ্ছে। রূপরেখা চূড়ান্ত হওয়ার পর আরো অনেক দল আমাদের সঙ্গে আসবে বলে আশা করছি।”

বিএনপির অন্যতম শরিক জামায়াতের সঙ্গে তাদের টানাপাড়েন চলছে। আর এতে অনেকটাই খোশ মেজাজে আছে আওয়ামী লীগ। আর জাতীয় পার্টি এবং ১৪ দলের সঙ্গে সরকারের দূরত্ব তৈরি হওয়া খোশ মেজাজে আছে বিএনপি। জানাগেছে, সরকার চাইছে আগামী নির্বাচনে জামায়াত আলাদাভাবে নির্বাচন করুক। অন্য ইসলামি দলও যাতে বিএনপি জোটে ভিড়তে না পারে তার চেষ্টাও আছে। আর জাতীয় পার্টিকে নিয়ে বেকায়দায় আছে সরকার। বিএনপি এবার প্রগতিশীল বলে পরিচিত বেশ কয়েকটি দলকে এরইমধ্যে তাদের দিকে টানতে পেরেছে।

আওয়ামী লীগের ১৪ দলীয় জোট মূলত বাম ঘরানার দলগুলোরই প্রাধান্য। ২০০৮ সালের নির্বাচনের সময় এই জোট হয়। কিন্তু ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর ওই জোটের শরিকদের কাউকে মন্ত্রীত্ব দেয়া হয়নি। আর সেই কারণেই দূরত্ব বেড়েছে। তাদের কোনো কোনো নেতা এখন সরকারেও সমালোচনা করছেন প্রকাশ্যে। জাতীয় পার্টির সঙ্গে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী জোট । ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর তারা কোনো মন্ত্রীত্ব পায়নি এবং বিরোধী দল হিসেবে সংসদে অবস্থান করছে। তবে আগের সংসদে তারা বিরোধী দলে থাকলেও মন্ত্রীত্বও পেয়েছিলো। এখন তারা সরকারের নানা সমালোচনা করছে। আন্দোলনের কথা বলছে।

এই প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন,”আমরা তো বলেছি আমরা স্বাধীনতার পক্ষের সব শক্তিকে নিয়ে আরো বড় জোট গঠন করতে চাই। আর ১৪ দলীয় জোটের কেউ কেউ মন্ত্রীত্ব না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে থাকলে সেটা তো প্রধানমন্ত্রীর ব্যাপার। কাকে তিনি মন্ত্রিসভায় রাখবেন কাকে রাখবেন না এটা সম্পূর্ণ তার ব্যাপার। আমাদের দলেরও তো অনেক নেতা মন্ত্রীত্ব পাননি। তারা আগে পেয়েছেন এখন পাননি।”

এই জোটকে নির্বাচনের আগে আবার সুযোগ সুবিধা দেয়া হবে কী না জানতে চাইলে তিনি বলেন,”জোট নিয়ে এখানো চূড়ান্ত কিছু বলা যাচ্ছেনা। নির্বাচন আরো এগিয়ে আসুক তখন বলা যাবে।”

জাতীয় পার্টির ব্যাপারে তিনি বলেন,”প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের নিজস্বতা আছে। নিজস্ব কৌশল আছে। তারা চায় তাদের অবস্থান শক্ত করতে। জাতীয় পার্টির নেতারা সেই বিবেচনায় হয়তো কথা বলছেন। তবে নির্বাচনের আগে ছাড়া কার কী অবস্থান তা স্পষ্ট হবে না।”

একাধিক সূত্র জানায়, সরকার ১৪ দলীয় জোটের শরিক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। নির্বাচনের আগেই তাদের খুশি করা হবে। আর জাতীয় পার্টি যাই করুক তারা যাতে বিএনপির দিকে যেতে না পারে সেই ব্যবস্থা করতে চায় সরকার।

তবে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেন,”আপাতত আমরা কোনো জোটে নাই। কোনো জোটে যাওয়ার চিন্তাও করছি না। আমরা আগামী নির্বাচনে ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে তখনকার পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। এখনই চূড়ান্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।”

“আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই দলই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। দুই দলের সঙ্গে আমরা কথা বলছি। তবে তারাই যোগাযোগ করে, আমরা উদ্যোগী হয়ে যোগাযোগ করিনা,” দাবি করেন জাতীয় পার্টির এই নেতা।

সরকার বিরোধী আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন,”আমরা জগনগণের পক্ষে। তাই সরকারের সমালোচনা করছি। কিন্তু আমরা তো অন্যদের মত জ্বালাও পোড়াওয়ের আন্দোল করব না। অতীতেও করিনি। আমরা রাজপথেও আন্দোলন করব, তবে তা আমাদের মত করে।”

 

সূত্র: ডয়চে ভেলে

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button