গাজীপুর

কালীগঞ্জে ফ্ল্যাট বাসায় মিললো এক ব্যক্তির অগ্নিদগ্ধ লাশ, ফোনে পাওয়া যাচ্ছেনা পুলিশ কর্তাদের!

নিজস্ব সংবাদদাতা : কালীগঞ্জে ফ্ল্যাট বাসায় থেকে অগ্নিদগ্ধ এক ব্যক্তির (৫৫) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ বিষয়ে জানতে ঘটনার পর থেকে কালীগঞ্জ থানার ওসি এবং উলুখোলা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জের ব্যবহৃত সরকারি মুঠোফোন নাম্বারে একাধিকবার কল করলেও তাঁদের পাওয়া যাচ্ছেনা।

বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে নাগরী ইউনিয়নের মাইজ পানজোড়া এলাকায় থেকে লাশটি উদ্ধার করে থানা পুলিশ।

নিহতের পরিচয় জানা যায়নি।

থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাগরী ইউনিয়নের মাইজ পানজোড়া গ্রামের আরমান কাজীর মালিকানাধীন ফ্ল্যাট বাড়িতে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতো খ্রিস্টান ধর্মের এক নারী ও পুরুষ। তাদের বয়স ৫০ থেকে ৬০ এর মধ্যে। তারা ভাই-বোন এমন পরিচয়ে আনুমানিক ৫-৬ মাস আগে ওই বাড়ির তৃতীয় তলার উত্তর পাশের তিন কক্ষ বিশিষ্ট ফ্ল্যাট মাসিক ৬ হাজার টাকায় ভাড়া নেন। এরপর থেকে তারা বসবাস করে আসছে। তারা বেশিরভাগ সময় বাসাতেই অবস্থান করতো। বুধবার দুপুরে আরমান কাজী স্থানীয় ইউপি সদস্য মুজিবুর রহমানকে ফোন করে জানান তার বাসার এক ভাড়াটিয়া দুই দিন‌ যাবত কক্ষের দরজা খুলছে না। পরবর্তীতে উলুখোলা পুলিশ ক্যাম্পে খবর দেয়া হয়। এরপর দুপুর ৩টার‌ দিকে ইউপি সদস্যের উপস্থিতে‌ ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে দরজা খুলে অগ্নিদগ্ধ লাশ দেখতে পায় পুলিশ। লাশটি কক্ষের মাঝামাঝি অবস্থানে ফ্লোরে পড়েছিল। এর পাশেই একটি গ্যাস সিলিন্ডার রয়েছে। ওই সিলিন্ডার থেকে চুলায় থাকা সংযোগ লাইনের পাইপ আগুনে পোড়া ছিল। এরপর উলুখোলা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মধুসূদন পান্ডে বিকেল ৪টার দিকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সুরতাহল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

আরো জানা গেছে, ওই কক্ষের ভেতরে কোন আসবাবপত্র বা অন্য কোন বস্তু ছিলো না। পাশে থাকা অন্য দুই কক্ষেও উল্লেখযোগ্য কোন আসবাবপত্র নেই। ওই ফ্ল্যাট বসবাস করা নারী ঘটনার পর পুলিশের কাছে নিহতের কোন পরিচয় জানাতে পারেনি। তার নিজের পরিচয়ও কৌশলে এড়িয়ে গেছে। এরপর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই নারী এবং বাড়ির মালিক আরমান কাজীকে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ।

আরমান কাজীর পরিবারের সদস্যরা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আরমান কাজীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। বর্তমানে তিনি থানায় রয়েছে। এখনো পর্যন্ত নিহত ব্যক্তি এবং ওই নারীর পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।

নাগরী ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নং ওয়ার্ডের সদস্য মুজিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ”ঘটনার পর নিহত ব্যক্তি এবং বসবাস করা ওই নারীর কোন পরিচয় জানাতে পারেনি বাড়ির মালিক। তবে আরমান কাজী জানায় তারা ভাই-বোন পরিচয়ে বাসা ভাড়া নিয়েছে‌‌। কিন্তু ওই নারী বিষয়টি অস্বীকার করে বলে নিহত ব্যক্তিকে তিনি চেনেন না। তারা এক সঙ্গে নয় আলাদা বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন।”

লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে কালীগঞ্জ থানার কর্তব্যরত ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) মাজহারুল ইসলাম বলেন, ”নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে সার্বিক বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।”

সার্বিক বিষয়ে জানতে ঘটনার পর থেকে কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারজানা ইয়াসমিন, কালীগঞ্জ থানার ওসি আনিসুর রহমান এবং উলুখোলা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মধুসূদন পান্ডের ব্যবহৃত সরকারি মুঠোফোন নাম্বারে একাধিকবার কল করলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button