বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

ঘড়ির বাজারে ‘রোলেক্স’ রাজত্ব করছে ১১০ বছরের বেশি সময় ধরে

গাজীপুর কণ্ঠ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক : দামি ও মানসম্পন্ন ঘড়ির বিখ্যাত একটি ব্র্যান্ড হচ্ছে, রোলেক্স। মূলত অভিজাতদের জন্যই ঘড়ি তৈরি করে রোলেক্স। এ ঘড়ির কদর রয়েছে বিশ্বব্যাপী।

নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে গুণগতমান নিশ্চিত হওয়ার পরই বাজারে ঘড়ি ছাড়ে রোলেক্স। পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে প্রতিটি ঘড়ির এক বছর সময় লাগে।

১১০ বছরের বেশি সময় ধরে দামি ঘড়ির বাজারে রাজত্ব করে চলেছে রোলেক্স। কোম্পানিটির ঘড়ির ব্যাপারে কম-বেশি সবারই ধারণা রয়েছে। তবে ব্র্যান্ডটির নাম কীভাবে ‘রোলেক্স’ হলো, সে ব্যাপারে হয়তো অনেকেরই জানা নেই। চলুন এ ব্যাপারে আজ জেনে নেওয়া যাক।

রোলেক্সের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠাতা হ্যানস উইলসড্রফ তার নতুন ব্র্যান্ডের ঘড়ির জন্য এমন একটি সংক্ষিপ্ত নাম রাখতে চেয়েছিলেন, যা যেকোনো ভাষায় সহজে উচ্চারণ করার পাশাপাশি মনে রাখাটাও সহজ হবে। এ ছাড়া নামটি ঘড়ির ওপর ভালো মানাবে। ইংরেজি বড় অক্ষরের হবে ও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।

প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে আরো বলা হয়েছে- উইলসড্রফ বলেন, ‘আমি ইংরেজি অক্ষরগুলো নানাভাবে সাজানোর চেষ্টা করি। এই চেষ্টা আমাকে কয়েকশত নাম দিয়েছে কিন্তু তাদের কোনোটিই সঠিক মনে হয়নি। একদিন সকালে লন্ডনের সিটি অব চ্যাপসাইডের পাশে ঘোড়া-টানা গাড়িতে করে যাওয়ার সময় আমার কানে ফিসফিস আওয়াজে শুনতে পাই-রোলেক্স।’

অর্থাৎ উইলসড্রফের কানের কাছে গায়েবি আওয়াজে কারো বলে দেওয়া নামই হচ্ছে, রোলেক্স।

১৯০৫ সালে লন্ডনে ২৫ বছর বয়সি উইলসড্রফ তার শ্যালকের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ঘড়ি তৈরির কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার ১৫ বছর পর ১৯১৯ সালের দিকে রোলেক্স তাদের কারখানাটি স্থানান্তর করে নেন সুইজারল্যান্ডে। বর্তমানে এর সদর দফতর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়।

বিশ্বে রোলেক্স প্রথম বাজারে এনেছিল পানিরোধক ঘড়ি। সর্বপ্রথম দিন ও তারিখ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তন করার প্রযুক্তিও ঘড়িতে সংযোজন করে রোলেক্স। অতীতকাল থেকেই নানা সুযোগ-সুবিধা ও নিখুঁত নির্মাণশৈলির কারণে রোলেক্সের ঘড়িগুলো আভিজাত্য আর বিলাসিতার পরিচায়ক। আজকের দিনেও রোলেক্সের ঘড়ি অন্যান্য ঘড়ির তুলনায় অনেক দামি।

সবচেয়ে কম মূল্যের রোলেক্স ঘড়ির যে মডেল বর্তমানে বাজারে রয়েছে, সেটির দাম প্রায় ৫ লাখ টাকা। আর রোলেক্সের সবচেয়ে বেশি মূল্যের যে ঘড়িগুলো রয়েছে, সেগুলোর যেকোনো একটি কিনতে ব্যয় করতে হবে কয়েক কোটি টাকা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button