জাতীয়শিক্ষা

১২ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর সব কোচিং সেন্টার বন্ধ: শিক্ষামন্ত্রী

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ঘিরে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের সব কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

১৫ সেপ্টেম্বর শুরু হতে যাওয়া এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সামনে রেখে সোমবার (০৫ সেপ্টেম্বর)  সচিবালয়ে জাতীয় মনিটরিং ও আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, “আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত সকল কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে।”

আর এ বিষয়ে সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করে দীপু মনি বলেন, “আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এসএসসি, দাখিল, এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষা স্বাস্থ্যবিধি মেনে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে এবং ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবকসহ সকলের জন্যই গৃহীত ব্যবস্থাসমূহ অত্যন্ত সন্তোষজনক হবে।”

মহামারীর কারণে চার মাস পিছিয়ে গত ১৯ জুন চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগ মুহূর্তে দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা দেখা দেওয়ায় পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এ সমাপনী পরীক্ষার নতুন সূচি প্রকাশ করা হয় ৩১ জুলাই।

এবারও এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা হবে পুনর্বিন্যস্ত পাঠ্যসূচি অনুযায়ী। পরীক্ষা হবে বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টা।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, ২০২২ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ২০ লাখ ২১ হাজার ৮৬৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবে।

এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষার্থী ১৫ লাখ ৯৯ হাজার ৭১১জন। দাখিল পরীক্ষার্থী ২ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯৫ জন। আর ভোকেশনাল শিক্ষার্থী ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৬২ জন।

সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর তত্ত্বীয় পরীক্ষা ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে শেষ হবে ১ অক্টোবর। আর ব্যবহারিক পরীক্ষা ১০ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে শেষ হবে ১৫ অক্টোবর।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের তত্ত্বীয় পরীক্ষা ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে শেষ হবে ৩ অক্টোবরে এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা ১০ অক্টোবর শুরু হয়ে ১৫ অক্টোবর শেষ হবে।

এছাড়া কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের তত্ত্বীয় পরীক্ষা শুরু হবে ১৫ সেপ্টেম্বর, যা শেষ হবে ১ অক্টোবর এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা ১১ অক্টোবর শুরু হয়ে ১৮ অক্টোবর শেষ হবে।

২ ঘণ্টার পরীক্ষায় প্রতিটি বিষয়ে নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের জন্য ২০ মিনিট এবং রচনামূলক প্রশ্নের জন্য ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট সময় থাকবে।

বাংলা দ্বিতীয় পত্র, ইংরেজি প্রথম পত্র ও দ্বিতীয় পত্র- এই বিষয়গুলোতে ৫০ নম্বরের পরীক্ষা হবে।

অন্য বিষয়গুলোর মধ্যে যেসব বিষয়ে ব্যবহারিক আছে, সেগুলোতে ৪৫ নম্বরের (রচনামূলক ৩০ ও নৈর্ব্যক্তিক ১৫ নম্বর) এবং ব্যবহারিক না থাকলে ৫৫ নম্বরের (রচনামূলক ৪০ ও নৈর্ব্যক্তিক ১৫) পরীক্ষা দিতে হবে শিক্ষার্থীদের।

ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং বিজ্ঞান- এসব বিষয়ের পরীক্ষা না নিয়ে সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে।

পরীক্ষায় নন-প্রোগ্রামেবল সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবে শিক্ষার্থীরা। পরীক্ষা শুরুর তিনদিন আগে প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছ থেকে নিতে হবে প্রবেশপত্র।

মন্ত্রী জানান, দৃষ্টি ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী এবং হাত নেই এমন প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ১৫ মিনিট বেশি সময় পাবে।

অন্যদিকে অটিস্টিক, ডাউন সিনড্রোম এবং সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত পরীক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় পাবে পরীক্ষা দিতে। আর সব ধরনের প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের জন্য শ্রুতি লেখক সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে বরাবরের মত।

দীপু মনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস এড়াতে পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোনের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। শিক্ষা বোর্ডগুলোর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা কেন্দ্রগুলো অনলাইনে সার্বক্ষণিকভাবে যোগাযোগ রাখবে। পরীক্ষা সংশ্লিষ্টরা ছাড়া অন্য কোন্য ব্যক্তি পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবে না

“পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিটি আগে মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের প্রশ্নপত্রের সেট কোড জানিয়ে দেওয়া হবে। কেন্দ্র সচিব ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন/ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। তবে কেন্দ্র সচিব ছবি তোলা যায় না এমন মোবাইল ফোন নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন।“

পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যেই ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী।

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button