আইন-আদালতগাজীপুর

কাপাসিয়ায় যুবলীগ নেতার ধর্ষণে জন্ম নেয়া নবজাতকসহ কিশোরী অপহরণ, আদালতে মামলা

বিশেষ প্রতিনিধি : যুবলীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যানের ধর্ষণের ফলে জন্ম নেয়া নবজাতক ও প্রসূতি কিশোরী গৃহপরিচারিকাকে গুম-খুনের উদ্দেশ্যে অপহরণের অভিযোগে গাজীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়েছে।

ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরীর বাবা মামলাটি (মামলা নং-২২৭/২২) দায়ের করেছেন। তিনি নবজাতকসহ কিশোরীপ্রসূতীকে উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।

আদালত সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

অভিযুক্ত যুবলীগ নেতার নাম সাখাওয়াত হোসেন প্রধান। তিনি কাপাসিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামীলী যুবলীগের সভাপতি। আদালত মামলটি আমলে নিয়ে আগামী সাত কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো ইব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে আগামী ২৩ নভেম্বর পরবর্তী আদেশের তারিখ ধার্য করা হয়েছে।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, কিশোরীগৃহকর্মীকে স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে প্রায়ই ধর্ষণ করতেন উপজেলা যুবলীগের প্রভাবশালী এ নেতা ইউপি চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন প্রধান। এক পর্যায়ে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান স্থানীয় কবিরাজের কাছ থেকে ওষধ এনে ধর্ষিতাকে খাইয়ে দেন। এতে ভ্রুণ নষ্ট হয়ে গেছে ভেবে তিনি বেশ কিছু দিন স্বস্থিবোধ করছিলেন। কিছু দিন পর থেকে কিশোরীর গর্ভ প্রকাশ পেতে থাকলে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান গর্ভপাত ঘটানোর চেষ্টা চালান। কিন্তু ভ্রুণের পরিপক্কতা ও গর্ভবতী কিাশোরীর বয়স বিবেচনায় গর্ভপাতে প্রাণহানীর আশঙ্কা থাকায় অবশেষে গত ১২ জুন মেয়েটিকে ১৫০০ টাকা দিয়ে পিত্রালয়ে পাঠিয়ে দেন। এ ঘটনায় মেয়েটির অসহায় দিনমজুর বাবা বিচারের দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছিলেন। এরইমধ্যে গত ১৬ আগস্ট গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মেয়েটিকে উপজেলার তরগাঁও হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। এর পর কিশোরীপ্রসূতির বাবা নিরুপায় হয়ে গত ২৭ আগস্ট কাপাসিয়া থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা নেয়নি। বরং অভিযুক্ত যুবলীগ নেতার ৩০/৩৫ জনের সন্ত্রাসী বাহিনী গত ২৯ আগস্ট বাদীর স্থানীয় তরগাঁওস্থিত ভাড়া বাড়িতে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র তছনছ ও ঘরের যাবতীয় জিনিসপত্র রাস্তায় ফেলে দেয় এবং নবজাতকসহ প্রসূতি কিশোরীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। ধর্ষণের শিকার গৃহপরিচারিকা কিশোরীর বাবা এসব ঘটনা উল্লেখ করে গত ৩১ আগস্ট গাজীপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন।

অভিযুক্ত চেয়ারম্যান শাখাওয়াত হোসেন প্রধান বলেন, তিনি এ ঘটনার সাথে জড়িত নন। ডিএনএ টেস্টে প্রমাণ মিলবে না বলেও তিনি দাবি করেন।

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button