গাজীপুর

কালীগঞ্জে খ্রিস্টান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নে ডাকতদের হানা, আহত ১

নিজস্ব সংবাদদাতা : কালীগঞ্জে দুর্ধর্ষ ডাকাতরা দুই নৈশপ্রহরীকে বেঁধে রেখে তুমুলিয়া খ্রিস্টান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডে হানা দিয়েছে। সে সময় ডাকাতদের হামলায় এক নৈশপ্রহরী আহত হয়।

শনিবার দিবাগত মধ্যরাত এ ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনার সময় তুমুলিয়া খ্রিস্টান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন মকুল পালমা (৫৫) এবং রকি ক্রুস (৪৫)। ডাকাতদের হামলায় আহত হয় রকি ক্রুস।

জানা গেছে, এর আগে গত ১৫ জুলাই (শুক্রবার) দিবাগত মধ্যরাত নাগরী ইউনিয়নের কেটুন এলাকার রুহুল আমিন সরকারের বাড়ি‌ থেকে প্রায় ১৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে ডাকতরা। এরপর পর প্রায় দুই মাস হতে চললেও এখনো পর্যন্ত ওই ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। এছাড়াও লুন্ঠিত স্বর্ণালঙ্কারও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

তুমুলিয়া খ্রিস্টান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেড সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দিবাগত মধ্যরাত অনুমানিক পৌণে ২টার ক্রেডিট ইউনিয়নের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুই নৈশপ্রহরীকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক সীমানা প্রাচীরের ভেতরে প্রবেশ করে সশস্ত্র একদল ডাকাত। পরে ডাকতরা দুই নৈশপ্রহরীর হাত-পা এবং চোখ-মুখ বেঁধে ক্রেডিট ইউনিয়নের মূল ভবনের গেইটের তালা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে। ডাকাত দলে সদস্য ছিল আনুমানিক ১৫-১৬ জন। সে সময় ডাকাতরা ক্রেডিট ইউনিয়নের লকার/ভোল্ট কক্ষের খোঁজ করে। একপর্যায়ে ডাকতরা নৈশপ্রহরী রকি ক্রুসকে মারধর করে দোতলায় থাকা লকার কক্ষের সন্ধান পায়। পরে লকার কক্ষে প্রবেশের জন্য দোতলার প্রবেশদ্বারের তালা ভেঙ্গে কক্ষের ভেতর প্রবেশ করে। এরপর লকারের তালা ও লকার ভাঙ্গার জন্য দীর্ঘ সময় চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় ডাকতরা। একপর্যায়ে ডাকতরা বুঝতে পারে লকার ভাঙ্গা প্রায় অসম্ভব। তখন তারা ক্রেডিট ইউনিয়নের ভেতরে থাকা সিসি টিভির সকল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে হার্ডডিক্স নিয়ে পালিয়ে যায়। সে সময় দুই নৈশপ্রহরীকে ডাকতরা নিচ তলার বাঁধা অবস্থায় ফেলে গেছে।

সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তুমুলিয়া খ্রিস্টান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের পদস্থ কর্মকর্তারা এবং কালীগঞ্জ থানা পুলিশ।

তুমুলিয়া খ্রিস্টান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্বপন রোজারিও নৈশপ্রহরীদের বরাত দিয়ে বলেন, আনুমানিক রাত পৌনে ২টার দিকে একদল ডাকাত আমাদের দুই নৈশপ্রহরীর হাত-পা ও চোখ ও মুখ বেঁধে ভেতরে প্রবেশ করে। সে সময় ডাকতরা নৈশপ্রহরী রকি ক্রুসকে মারধর করে। পরে ডাকতরা একটি গেইট ও একটি দরজার তালা ভেঙ্গে লকার কক্ষে প্রবেশ করে। এরপর দীর্ঘ সময় লকারের তালা ও লকার ভাঙ্গার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় ডাকতরা। পরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে পালিয়ে যায় ডাকাতরা।

তুমুলিয়া খ্রিস্টান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের চেয়ারম্যান অসীম গমেজ বলেন, দুই নৈশপ্রহরীকে বেঁধে রেখে ডাকতরা আমাদের অফিস থেকে অর্থ ও মালামাল লুট করার চেষ্টা করে। আমাদের লকারের নিরাপত্তা বেষ্টনী মজবুত থাকায় তারা ব্যর্থ হয়ে পালিয়ে গেছে। তবে কোন মালামাল লুট করতে পারেনি ডাকতরা। ঘটনার পর দুই দফা কালীগঞ্জ থানা পুলিশের ওসিসহ একাধিক পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শক করেছে। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের জন্য প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

সার্বিক বিষয়ে জানতে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনিসুর রহমানের ব্যবহৃত সরকারি মোবাইল নাম্বারে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

 

উল্লেখ্য: ডাকাতি ও দস্যুতা প্রতিরোধে সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তরের ক্রাইম অ্যানালাইসিস শাখা থেকে পুলিশের সব ইউনিটকে ১০ দফা নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘ডাকাতি বা দস্যুতার মতো অপরাধের বিষয়ে সময়োচিত ও যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা না গেলে এ জাতীয় অপরাধ বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকে। আর তা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি ও পুলিশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করে।’

ডাকাতি ও দস্যুতা প্রতিরোধে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনাগুলো হলো-

১. কোনো ডাকাতি বা দস্যুতার ঘটনা ঘটলে এজাহারকারীর বক্তব্যের আলোকে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করতে হবে। এজাহারকারীর দেয়া তথ্যে কোনো অসামঞ্জস্যতা দেখা গেলে তথ্য যাচাই করে অনতিবিলম্বে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

২. ডাকাতির মামলায পুলিশ সুপার বা মেট্রো ডিসি মামলা তদারকি করবেন। দস্যুতার মামলা হলে পুলিশ সুপার নিজে অথবা ন্যূনতম একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তা তদারকি করবেন।

৩. সাজা ভোগকারী ডাকাত ও ডাকাতি মামলার জামিনপ্রাপ্ত আসামিদের প্রয়োজনীয় তথ্যাদিসহ তালিকা করতে হবে এবং তাদের অবস্থান ও গতিবিধি সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে।

ডাকাতি ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়তার নিরিখে পার্শ্ববর্তী পুলিশ ইউনিটগুলোর সঙ্গে আন্তঃযোগাযোগ ও সমন্বয় বৃদ্ধি এবং তথ্য বিনিময় করতে হবে।
৫. ঘটনার পরপরই সম্ভাব্য স্থানে আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করতে হবে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসামি গ্রেপ্তার করতে হবে।

৬. দস্যুতা, ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদক মামলার কারণে বরখাস্ত হওয়া আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাক্তন সদস্যদের তালিকা সংরক্ষণ করতে হবে এবং তাদের অবস্থান ও গতিবিধি সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে।

৭. ডাকাতি ও দস্যুতা প্রতিরোধে সময়ে সময়ে একাধিক ইউনিট সমন্বিতভাবে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করবে।

৮. মামলার তদন্ত কার্যক্রম যথাযথভাবে এবং যথাসম্ভব দ্রুততম সময়ে শেষ করে পুলিশ রিপোর্ট দাখিল করতে হবে।

৯. গণমাধ্যমে ডাকাতি বা দস্যুতার সংবাদ প্রকাশ হলে তা দৃষ্টিগোচর হওয়ামাত্র বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের সঙ্গে প্রাপ্ত তথ্যের গরমিল দেখা গেলে তা যথাযথভাবে যাচাই করে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকে ইউনিটের মিডিয়া ফোকাল পারসনের মাধ্যমে জানাতে হবে।

১০. পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পাঠানো ডাকাতি মামলা প্রতিরোধ সংক্রান্ত সাধারণ নির্দেশনাবলী যথাযথভাবে প্রতিপালন করতে হবে।

 

আরো জানতে………

কালীগঞ্জে বিমানবন্দর কর্মীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, ১৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট

কালীগঞ্জে নিয়মিত চলছে ডাকাতি, মামলা হলো দস্যূতার?

কালীগঞ্জে ‘ডাকাতির চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে’ এক নারীকে ছুরিকাঘাতে খুন

কালীগঞ্জে ডাকাতদের হানা, ৯৯৯ থেকে ফোন পেয়ে জিম্মি দশা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ

কালীগঞ্জে আবারো দুই ব্যবসায়ীর বাড়িতে ডাকাতি, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার লুট

কালীগঞ্জে ব্যবসায়ীর বাড়িতে ডাকাতি, নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট

কালীগঞ্জে ফাঁড়ির পাশেই ‘পুলিশ পরিচয়ে’ পাঁচ স্বর্ণের দোকানে লুট!

পুলিশের সাফল্যে: কালীগঞ্জে ডাকাতি করে পালিয়েও রক্ষা হলনা ৮ ডাকাতের

কালীগঞ্জে এক রাতে চার বাড়িতে ডাকাতি, নগদ টাকাসহ স্বর্ণালংকার লুট

কালীগঞ্জে নিয়মিত চলছে ডাকাতি, মামলা হলো দস্যূতার?

শিবপুরের কুখ্যাত জুম্মনসহ গণপিটুনিতে দুই ডাকাত কালীগঞ্জে নিহত

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button