আলোচিতসারাদেশ

সাংবাদিককে হুমকি: আলোচিত ইউএনও মাহমুদা বেগমকে বদলি

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার এক সাংবাদিককে ‘হুমকি’ এবং লাইশিমুল মাঠে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নির্মাণ নিয়ে স্থানীয়দের আন্দোলনের মধ্যে আলোচনায় আসেন কেন্দুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা বেগম।

বুধবার (২৫ আগস্ট) মযমনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার মো. শফিকুর রেজা বিশ্বাস স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে আলোচিত ইউএনও মাহমুদা বেগমকে কেন্দুয়া থেকে মদন উপজেলায় একই পদে বদলি করা হয়েছে।

জানা গেছে, বলাইশিমুল মাঠে ঘর নির্মাণের উদযোগ নেওয়ার মধ্যেই এলাকাবাসী সেটি রক্ষার দাবিতে আন্দোলনে নামে, যার অংশ হিসেবে গত ২৮ মে ওই মাঠে মানববন্ধন করেন তারা। পরের দিন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম, ইউএনও মাহমুদা বেগম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার মেয়র আসাদুল হক ভূঁইয়া, ওসি আলী হোসেন মাঠে যান।

তারা আন্দোলনকারী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় করে মাঠের পূর্ব-উত্তর পাশে ঘর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। ওইদিনই জায়গাটির মাপ দিয়ে ঘর নির্মাণের স্থান নির্ধারণ করেন তারা।

৩০ মে একদিকে ঘর নির্মাণের জন্য ইট, বালুসহ অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী পাঠিয়ে কাজ শুরু করা হয়। অপরদিকে একইদিন মাঠ রক্ষার দাবি নিয়ে প্রশাসনে বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন আন্দোলনকারীরা।

আদালত মামলাটি খারিজ করে দিলে গ্রামবাসীদের একাংশ মাঠ রক্ষার দাবিতে আন্দোলন চালানোর ঘোষণা দেন। এরপর থেকে আন্দোলনকারীরা অন্তত পাঁচটি মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। ঢাকার শাহবাগেও ওই মাঠ রক্ষার সমর্থনে মানববন্ধন হয়।

৩০ জুন রাত ৯টার দিকে ‘একদল দুর্বৃত্ত’ প্রকল্পে পাহারারত গ্রাম পুলিশকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে নির্মাণাধীন ঘর ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়। এর আড়াই মাসের মাথায় ১৩ অগাস্ট প্রকল্পের দুটি ঘরে আগুন দেওয়া হয়।

অগ্নিকাণ্ডের পর বিকালে ইউএনও নিজ কার্যালয়ের মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন। পরবর্তীতে তার বক্তব্যের ভিডিও দৈনিক সংবাদের উপজেলা প্রতিনিধি হুমায়ূন কবীর নিজের ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সন্ধ্যায় ইউএনও তাকে ‘মামলায় জড়ানোর হুমকি’ দেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে ইউএনওকে সতর্কও করেন জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ।

নিয়ম অনুয়ায়ী, ইউএনও কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা। সাংবাদিক হুমায়ূন কবীরও এই প্রেসক্লাবের সদস্য।

১৩ অগাস্ট দুপুরে প্রেসক্লাবের কল্যাণ ট্রাস্ট্রের আলোচনায় ইউএনও উপস্থিত হলে নেতৃবৃন্দ বিষয়টি সেখানে তোলেন।

পরে প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী চৌধুরী কাজল সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে ইউএনও মহোদয় এবং সাংবাদিক দুজনই উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকের সঙ্গে ইউএনওর ভুল বোঝাবুঝি থেকে এমন হওয়ায় তার অবসান হয়েছে।”

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button