গাজীপুরসিটি কর্পোরেশন

মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রোববার (২৬ জুন) সংবাদ মাধ্যমকে এ তথ্য জানায় দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ আরিফ সাদেক।

মুহাম্মদ আরিফ সাদেক বলেন, অভিযোগ যাচাই-বাছাই শেষে কমিশনের এক সভায় অনুসন্ধানের এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উপ-পরিচালক নারগিস সুলতানা ও সহকারী পরিচালক মো. আশিকুর রহমানকে অভিযোগ অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে’ তাদেরকে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

গাজীপুরের মেয়র পদ থেকে সাত মাস আগে বাদ পড়া জাহাঙ্গীর ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প থেকে অনিয়মের মাধ্যমে তিনি ‘কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ’ করে সিটি করপোরেশনের নামে ভুয়া ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ‘লেনদেন করেছেন’ বলে অভিযোগ পেয়েছে দুদক।

ওই ভুয়া অ্যাকাউন্টে ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে সিটি করপোরেশনের নামে কয়েক কোটি টাকা জমা এবং উত্তোলন করে জাহাঙ্গীর আলম ‘আত্মসাৎ করেছেন’ বলে অভিযোগ করা হয়েছে সেখানে।

বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য জাহাঙ্গীরকে গত বছরের ১৯ নভেম্বর দল থেকে বহিষ্কার করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এর এক সপ্তাহের মাথায় ২৫ নভেম্বর তাকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ থেকে বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

ওই সময় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছিলেন, “জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে অনেকগুলো অভিযোগ দাখিল হয়েছে। সেগুলো সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আমলে নেওয়া হয়েছে। আইনের ধারা অনুযায়ী সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।”

একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি বিষয়গুলো তদন্ত করছে বলেও ওই সময় জানিয়েছিলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।

২০১৮ সালে গাজীপুর সিটি করপোরশেন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে দলীয় প্রতীকে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন জাহাঙ্গীর।

রোববার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “আমি সরকারি দায়িত্ব পালন করছি। আমি তো জানি না কে কী অভিযোগ করেছে। দুদক থেকে এ বিষয়ে আমাকে কোনো অবগত করা হয়নি।”

তিনি বলেন, “এখন কোন অভিযোগ থেকে বা যেভাবেই হোক অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত যদি নিয়ে থাকে, আমি একজন নাগরিক হিসেবে সঠিক তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই। অনুসন্ধান করুক, আমি চাই সত্যটা প্রকাশ হোক। আইনের শাসন ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা হোক। কেউ কোনো অপরাধ করে থাকলে তার বিচার হোক, তবে কাউকে যেন মিথ্যা কিছু দিয়ে বা দোষ না করলে যেন ফাঁসিয়ে দেওয়া না হয়।”

আওয়ামী লীগ দল থেকে বহিস্কার করার পর থেকে এই ধরনের অভিযোগ শুরু হয়েছে মন্তব্য করে জাহাঙ্গীর আলম সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যদি দায়িত্ব থাকাকালে তদন্ত শুরু হত, তাহলে তো মানুষ বিশ্বাস করত, দুদকের তো হাত পা বাঁধা ছিল না। তারপরও এই তদন্ত করা হোক, মানুষ সত্যটা যেন জানতে পারে। নাগরিক হিসেবে আমি ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করি।”

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button