গাজীপুর

কালীগঞ্জে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হা-মীম গ্রুপের নারী পোশাক শ্রমিকের মৃত্য!

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : কালীগঞ্জের ভাদার্ত্তী এলাকায় অবস্থিত হা-মীম গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান রিফাত গার্মেন্টসে পোশাক তৈরির কাজে কর্মরত থাকা রুনা (২৬) নামে এক নারী শ্রমিক অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুন) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়েছে।

এর আগে‌ সোমবার দিনভর‌ অসুস্থতা নিয়েই কাজ‌ করতে হয়েছিল‌ তাকে। পরে বিকেলে প্রথমে কারখানার মেডিকেল সেন্টারে এবং পরবর্তীতে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে রাতভর চিকিৎসাধীন থাকার পর সকালে মৃত্যু হয়।

নিহত রুনা দুর্বাটি এলাকার আমির হোসেনের স্ত্রী। তিনি হা-মীম গ্রুপের ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের ভেতরে থাকা রিফাত গার্মেন্টসে সুইং অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারখানার কয়েকজন শ্রমিক জানান, সোমবার আনুমানিক বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কর্মরত অবস্থায় রুনা হঠাৎ করে পেটে ব্যথা অনুভব করছিল। সে সময় তার বিভাগে‌ দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের কাছে ছুটি চেয়েছিলেন রুনা। কিন্তু তাকে ছুটি না দিয়ে কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছিল। এরপর বিকেলে মাত্রা অতিরিক্ত অসুস্থতা অনুভব করলে তাকে কারখানার ভেতরে থাকা মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেয়া হয়। একপর্যায়ে তার অবস্থার অবনতি হতে দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরে সন্ধায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয় এবং রাতভর চিকিৎসাধীন থাকার পর ভোরবেলা মৃত্যু হয়।

নিহতের স্বামীর বড় ভাই মামুন বলেন, প্রতিদিনের মতো রুনা সকাল সাতটায় কাজে যোগ দেয়ার উদ্দেশ্যে সোমবার ভোরে বাড়ি থেকে বের হয়। সন্ধ্যায় খবর পেয়ে তাকে হাসপাতালে গিয়ে ভর্তি অবস্থায় পাই। রাতভর তাকে স্যালাইন দেওয়া হয়। পরে সকালে হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। সারাদিন কারখানায় কি হয়েছে সে বিষয় কোনো তথ্য জীবিত থাকা অবস্থায় আমরা রুনার‌ কাছ‌ থেকে বা পরে অন্য কোন মাধ্যমে জানতে পারিনি। সকালে কারখানার কয়েকজন লোক এসে আমাদের সঙ্গে দেখা করে হাসপাতাল থেকে কাগজপত্র সংগ্রহের পর তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলে‌ গেছেন।

হা-মীম ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের মেডিকেল অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সোমবার আনুমানিক বিকেল সাড়ে চারটার দিকে রুনা পেটে ব্যথা নিয়ে মেডিকেল সেন্টারে আসলে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে কোম্পানির নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে শুনেছি।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাসফিয়া আশরাফী হাসপাতালের নথিতে উল্লেখ করা তথ্যের বরাত দিয়ে বলেন, সোমবার সন্ধ্যা ৬ টা ২৫ মিনিটে পেটে ব্যথা থাকা অবস্থায় রুনাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে ভর্তি রেখে রাতভর  চিকিৎসা দেয়া হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।

তিনি আরো বলেন, সকালে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে যাওয়ার পর তার মৃত্যু হয়েছে বলে শুনেছি।

হা-মীম ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের সিনিয়র প্রশাসনিক কর্মকর্তা মেহেদি হাসান বলেন, সোমবার বিকেলে সুইং অপারেটর রুনা অসুস্থতা অনুভব করলে তাকে প্রথমে আমাদের নিজস্ব মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাকে কোম্পানির অ্যাম্বুলেন্সে করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানে রাতভর চিকিৎসা শেষে সকালে তার মৃত্যু হয়। পরে কোম্পানির অ্যাম্বুলেন্সে করে লাশ তার বাড়ি পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

 

আরো জানতে…………..

বস্ত্র শিল্পের এক ঐতিহ্যবাহী শিল্প প্রতিষ্ঠানের নাম ‘মসলিন কটন মিল’

কালীগঞ্জে হা-মীম গ্রুপের ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে কাভার্ড ভ্যানের চাপায় নিরাপত্তা প্রহরীর মৃত্যু

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button