গাজীপুর

কালীগঞ্জে ব্যবসায়ীকে মারধর, টাকা ও আইফোন চুরি: মোমেনসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : কালীগঞ্জে চাঁদার দাবিতে ব্যবসায়ীকে মারধর, ফ্যাক্টরিতে হামলা, নগদ টাকা ও মোবাইল চুরির ঘটনা ঘটেছে।

গত ২০ মে নাগরীর পাড়াবর্তা এলাকায় জে আর কে কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজে এ ঘটনা ঘটেছে।  

এ ঘটনায় নাগরীর বিতর্কিত মোমেন‌সহ ১২ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরো ৪ জনের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি, মারধর, চুরি এবং হুমকির অভিযোগে ১৪৩, ৪৪৭, ৪৪৮, ৩২৩, ৩৮৫, ৩৭৯, ৩৮০,  ৪২৭, ৩০৭, ১০৯ ও ৫০৬ ধারায় কালীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছে ফ্যাক্টরির মালিক কামাল হোসেন।

তবে এখনো পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

অপরদিকে অভিযুক্ত মোমেনের দাবি ঘটনার সময় সে অসুস্থ ছিল।‌ তাকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে মামলায় আসামি করা হয়েছে।

অভিযুক্ত প্রধান আসামি মোমেন (৪৫) কালীগঞ্জের নাগরী এলাকার রয়ান গ্রামের মোস্তফা মিয়ার ছেলে। অন্যরা হলো গলান এলাকার লেহাজ উদ্দিনের ছেলে হারুন (৪৫), মৃত মোতালেবের ছেলে লেহাজ উদ্দিন (২৫) আবু বক্করের ছেলে রহিম (২৫), হারুনের স্ত্রী আকলিমা (৩৫), মৃত মোতালেবের ছেলে আবু বক্কর (৫৫), মেয়ে ফাতেমা (৫০), পাড়াবর্তা এলাকার মৃত গফফারের ছেলে সবুজ (৪৫), গলান এলাকার আবু বক্করের ছেলে রোহান (১৯), বিরতুল এলাকার গাফফারের ছেলে সোহেল (৩৫), গলান এলাকার কাজিম উদ্দিনের ছেলে কামাল হোসেন (৩৮) এবং আবু বক্করের স্ত্রী রহিমা (৪৫)।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২০মে দুপুর পৌনে তিনটার দিকে অভিযুক্ত প্রধান আসামী মোমেন‌ের প্রত্যক্ষ নির্দেশে অভিযুক্ত আসামিরা দেশীয় অস্ত্র, দা, ছেন, লোহার হাতুড়ি, লাঠি-সোঠা নিয়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে পাড়াবর্তা এলাকায় থাকা বাদীর মালিকাধীন জে আর কে কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ ও বাগান বাড়িতে প্রবেশ করে। সে সময় বাদী তাদের প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে। পরে অভিযুক্তরা ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। বাদী চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে অভিযুক্তরা তাকে মারধর করে। সে সময় বাড়ির কেয়ারটেকার তৈয়ব আলী ও ড্রাইভার সাইফুল এগিয়ে আসলে তাদেরকেও মারধর করে অভিযুক্তরা। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা বাগান বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে ভাঙচুর করে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করে এবং ঘরে প্রবেশ করে দরজা-জানলা ও কাঁচের ডাইনিং টেবিল ভাঙচুর করে। পরে ঘরে থাকা ৫ লাখ ২২ হাজার টাকা এবং একটি আইফোন মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যায়।

মামলার বাদী জে আর কে কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক কামাল হোসেন বলেন, পূণরায় ফ্যাক্টরিতে হামলা, লুটপাট ও চুরির ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ সকল বিষয়ে অভিযুক্ত মোমেন বলেন, ”ঘটনার আগের দিন অর্থাৎ ১৯ মে থেকে আমি অসুস্থ। ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকের পরামর্শে সম্পূর্ণ বেড রেস্টে রয়েছি। ঘটনার সময় এবং ঘটনার দিন আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম না। জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে পূর্ব শত্রুতার জেরে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে মামলায় আমাকে আসামি করা হয়েছে।”

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এইচ এম ইমন বলেন, মামলা দায়েরের পর থেকে অভিযুক্ত সকল আসামি পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য: এর আগে এই একই ব্যবসায়ীর কছ থেকে ৩০ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে একই ফ্যাক্টরিতে হামলা ও চুরির ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনার নেতৃত্বে ছিলো মোমেন। পরে তাকে প্রধান আসামি করে ১২ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরো ৮০ জনের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি, চুরি এবং হুমকির অভিযোগে ১৪৩, ৪৪৭, ৩৮৫, ৩৭৯, ৪২৭ ও ৫০৬ ধারায় কালীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করে ফ্যাক্টরির মালিক কামাল হোসেন।

মামলা দায়েরের পর‌ এজাহার নামীয় ৪ আসামি এবং সন্দিগ্ধ আরো এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। এরমধ্যে একজন ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

 

কালীগঞ্জে মোমেনের নেতৃত্বে কোটি টাকার মালামাল চুরি, আদালতে স্বীকারোক্তি

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button