আলোচিতরাজনীতি

জনপ্রিয়তা যাচাই চলছে এমপি-মন্ত্রীদের!

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, এ নিয়ে রাজনৈতিক দলসহ সরকারের ভাবনা ততই বাড়ছে। আগামী নির্বাচন কোন প্রক্রিয়ায় কার অধীনে হবে, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে কিনা, প্রধান দলগুলো নির্বাচনে আসবে কিনা- এমন নানা হিসাব-নিকাশ চলছে দেশি-বিদেশি মহলে। আস্থার সংকট কাটাতে নানা উদ্যোগের কথা শোনাচ্ছেন নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিদেশি বিভিন্ন মহলও বলছেন আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করতে হবে।

এমন প্রেক্ষাপটে সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা ৩০০ সংসদীয় আসনে একরকম অনুসন্ধান বা জরিপ কাজ শুরু করেছে। এই গোপন জরিপে ৩০০ সংসদীয় আসনে ভোটের মাঠে সরকারের অবস্থান কেমন, মন্ত্রী-এমপিদের জনসম্পৃক্ততা কেমন, নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে বিজয়ী হয়ে আসতে পারবেন কিনা, ভোটারদের পাল্লা কোন দিকে বেশি ভারী ইত্যাদি বিষয়ে ৩০০ আসনের ভোটের মাঠ থেকে তুলে আনার চেষ্টা করছে গোয়েন্দারা।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এই গোয়েন্দা অনুসন্ধান বা জরিপ শেষ পর্যায়ে। ঈদের আগেই তা শেষ করার কথা। মাঠের চিত্র ঢাকায় আসার পর এই গোপন অনুসন্ধানের প্রতিবেদন নিয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে। জরিপে ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী-এমপিদের মধ্যে কারা বিতর্কিত কর্মকা-ে জড়িত, সংসদীয় আসনের বর্তমান এমপির বিকল্প হিসেবে কার জনসম্পৃক্ততা বেশি- এসব বিষয় তুলে আনা হচ্ছে গোপন জরিপে। এই জরিপকালে গোয়েন্দারা স্থানীয়ভাবে যেমন দফায় দফায় খোঁজখবর নিচ্ছেন, আবার ভোটারদের সরাসরি জিজ্ঞাসা করে ভোটের পাল্লা কোন দিকে ভারী হতে পারে আগামী নির্বাচনে, তাও জানা বা বোঝার চেষ্টা করছেন।

এই গোপন জরিপে ৬৪ জেলার পুলিশ সুপারদেরও সম্পৃক্ত করা হয়েছে। একাধিক জেলার পুলিশ সুপার গোপন অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করার কথা স্বীকার করেছেন।

পুলিশের অতিরিক্ত আইজি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাও নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই গোপন অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এ কার্যক্রম শুরু করেছেন। ওই পুলিশ কর্মকর্তা এও বলেন, প্রতিটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এ ধরনের গোপন অনুসন্ধান করে থাকে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

সরকারের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র বলেছে, আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একাদশ কিংবা দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আদলে করার সম্ভাবনা ক্ষীণ। বৈশিক রাজনীতির গতি-প্রকৃতির প্রভাব থাকতে পারে আগামী নির্বাচনে। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপিদের পার পাওয়ার সুযোগ নেই বললেই চলে। গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনী আবহের মধ্যেই আগামী নির্বাচনের ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করতে হবে নির্বাচন কমিশন তথা সরকারকে। সে ক্ষেত্রে নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ প্রশাসনের অধীনে আগামী নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এমনটি হলে প্রত্যেক এমপিকে নিজ নিজ জনপ্রিয়তা তথা সম্পৃক্ততা দিয়েই ভোটের লড়াইয়ে টিকে থাকতে হবে। সে ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দল যেন যোগ্য প্রার্থীকে এমপি হিসেবে নৌকার টিকিট দিতে পারে গোয়েন্দা অনুসন্ধান বা গোপন জরিপ এ কাজটি সহজ করে দিতে পারে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, আগামী নির্বাচনে ৩০০ আসনে যোগ্য প্রার্থীকে এমপি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়াটা ক্ষমতাসীন দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিতে পারে। অনেক এমপির বিরুদ্ধেই বিতর্কিত নানা কর্মকা-ের অভিযোগ রয়েছে দলীয় হাইকমান্ডের কাছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এমপি-মন্ত্রীদের কর্মকা-ের বিষয়ে যে গোপন প্রতিবেদন সরকারের উচ্চ পর্যায়ে দাখিল করেছেন; তাতে চাঁদাবাজি, দখল, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা বিতর্কিত কর্মকা-ের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। তাছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের বড় দূরত্ব থাকার তথ্যও অনেক এমপির বিরুদ্ধে তুলে ধরা হয়েছে। তাছাড়া অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কথাও সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ৩০০ আসনে এমপি মনোনয়নের ক্ষেত্রে কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না। কারণ তাদের হার-জিতের ওপর ফের সরকারের ক্ষমতায় যাওয়া না যাওয়ার দিক নির্ভর করছে। তাই যাচাই-বাছাই করেই এবার দলীয় মনোনয়ন দিতে চায় ক্ষমতাসীন দলটি।

 

সূত্র: আমাদের সময়

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button