আলোচিতগাজীপুরশিক্ষা

কালীগঞ্জে মাদ্রাসায় নিয়োগ: ‘মসজিদে বসে ঘুষ লেনদেন’, অধ্যক্ষের স্বীকারোক্তি ও ঘটনার আদ্যোপান্ত

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : কালীগঞ্জে সরকারি এমপিওভুক্ত চুপাইর জামিউল উলুম (জেড.ইউ) আলিম মাদ্রাসায় সহকারী গ্রন্থাগারিক পদে নিয়োগের জন্য আর্থিক লেনদেনের কথোপকথনের অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ঘটনার তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য!

তদন্ত কমিটি প্রমাণ পেয়েছে চাকুরি দেয়ার কথা বলে কয়েক দফায় আট লাখ টাকা ঘুষ লেনদেন করেছে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আ: ছাত্তার। এর মধ্যে মসজিদে বসেও ঘুষ লেনদেন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এছাড়াও ঘুষ লেনদেনের দায় স্বীকার ও ক্ষমা প্রার্থনা করে গভর্নিং বডির কাছে লিখিত জবানবন্দি দিয়েছে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ।

জানা গেছে, ২০০৫ সলের ১৬ মার্চ আ: সাত্তার চুপাইর জামিউল উলুম (জেড.ইউ) আলিম মাদ্রাসায় যোগদান করে। এরপর থেকেই তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও ঘুষ লেনদেনের মতো বিভিন্ন অভিযোগ উঠে আসছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাদ্রাসায় নিয়োগের জন্য আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কথোপকথনের বেশ কয়েকটি অডিও রেকর্ড ভাইরাল হয়। এর সূত্র ধরে মাদ্রাসার গভর্নিং বডি ঘটনার তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে। এরপর একে একে অধ্যক্ষের বেশ কিছু অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও ঘুষ লেনদেনের মতো চাঞ্চল্যকর বিভিন্ন তথ্য উঠেছে এসেছে। তদন্ত শেষে জড়িত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিল করেছে তদন্ত কমিটি। তদন্ত প্রতিবেদনের অনুলিপি মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), কালীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান এবং কালীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বরাবর দাখিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার সূত্রপাত: চুপাইর জামিউল উলুম (জেড.ইউ) আলিম মাদ্রাসায় সহকারী গ্রন্থাগারিক পদে নিয়োগের জন্য ২০২০ সালের ৩০ জুলাই দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত শর্ত অনুসারে যথাযথ নিয়ম অনুযায়ী চারজন প্রার্থী আবেদন করে। পরে ওই বছরের ২৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৫০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩১ নাম্বার পেয়ে চার প্রার্থীর মধ্যে প্রথম হয় জাকারিয়া হাবিব নামে এক চাকুরি প্রতাশী। পরবর্তীতে ওই পদে নিয়োগের জন্য তাকে নির্বাচিত করে মাদ্রাসার নিয়োগ সংক্রান্ত কমিটি। কিন্তু এরপর দুই মাস অতিবাহিত হলেও জাকারিয়া হাবিবকে নিয়োগপত্র দেয়নি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। এরপর জাকারিয়া হাবিবকে সহকারী গ্রন্থাগারিক পদে নিয়োগ দিতে তার পক্ষে ২০২১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান আইনজীবী ওছমান জিন্নুরাইন। এরপর জাকারিয়া হাবিকে নিয়োগ দেয়া হয়।

যা বিধি বহির্ভূতভাবে পূর্বের তারিখ উল্লেখ করে দেয়া হয়েছে বলে জানান সহকারী গ্রন্থাগারিক পদে যোগদান করা জাকারিয়া হাবিব। তিনি বলেন, নিয়োগ দেয়ার জন্য লিগ্যাল নোটিশ পাঠানোর পর তড়িঘড়ি করে অস্থায়ী ভিত্তিতে ২ বছরের জন্য একটি নিয়োগপত্র দেন অধ্যক্ষ। ওই নিয়োগপত্রে ২০২১ সালের ১৭ জানুয়ারি তারিখ উল্লেখ করা হয়েছিলো।

এরপর আমি যোগদান করি। এর ১ বছর অতিবাহিত হলেও বেতন-ভাতা পাওয়ার কোন প্রক্রিয়া (এমপিওভুক্ত) করেননি অধ্যক্ষ আ: সাত্তার। এ বিষয়ে অধ্যক্ষকে একাধীকবার অনুরোধ করা হলেও তিনি কোন পদক্ষেপ নেননি।

তাই এর প্রতিকার চেয়ে এবং অধ্যক্ষকে দেয়া ৮ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেনের বিষয় উল্লেখ করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বলে জানান জাকারিয়া হাবিব।

অপরদিকে জাকারিয়া হাবিবকে নিয়োগের জন্য ঘুষ (আর্থিক) লেনদেন সংক্রান্ত কথোপকথনের কয়েকটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এতেই পাল্টে যায় ঘটনার দৃশ্যপট। প্রকাশ্যে আসে ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি। এলাকায় শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। এর জের ধরে গত ৭ মার্চ মাদ্রাসা সংলগ্ন দালান বাজারে স্থানীয় কয়েক’শ লোকের উপস্থিতে চেয়ারম্যান খাইরুল আমল দুই পক্ষের বক্তব্য শুনেন। এতে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ আ: সাত্তার অর্থ লেনদেনের বিষয়টি স্বীকার করেন। পাশাপাশি একই দিন মাদ্রাসার গভর্নিং বডি জরুরী সভা আহ্বান করেন। ওই সভায় উপস্থিত হয়ে অধ্যক্ষ আ: সাত্তার ঘটনার দায় স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করে লিখিত জবানবন্দি দেয়।

জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খাইরুল আমল বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ৭ মার্চ স্থানীয়দের উপস্থিতিতে অধ্যক্ষ আ: সাত্তার ও জাকারিয়া হাবিবের বক্তব্য শোনা হয়। সে সময় অধ্যক্ষ জাকারিয়া হাবিবের কাছ থেকে অর্থ লেনদেনের বিষয়টি স্বীকার করে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী জাকারিয়া হাবিবকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

অর্থ লেনদেনের বিবরণ: অধ্যক্ষ আ: সাত্তারকে কয়েক দফায় মোট আট লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে জাকারিয়া হাবিবকে। এর মধ্যে প্রথমে ২০২০ সালের ২৩ ডিসেম্বর গাজীপুর জেলা শহরের রাজবাড়ি এলাকায় বসে ২ লাখ টাকা, এরপর ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসের ২ তারিখে দেড় লাখ টাকা, ২৫ জানুয়ারি ইসলাম ব্যাংক কাপাসিয়া শাখায় অধ্যক্ষর নিজ নামীয় একাউন্টে নিয়োগের খরচ বাবদ ৫০ হাজার টাকা, ফেব্রুয়ারি মাসের ১৮ তারিখে দেড় লাখ টাকা, মে মাসের ৯ তারিখে কাপাসিয়ায় একটি মসজিদে বসে এমপিও ছাড়ানোর কথা বলে নেন দেড় লাখ টাকা এবং মে মাসের ২৭ তারিখে এক লাখ টাকাসহ মোট আট লাখ টাকা অধ্যক্ষকে দেন জাকারিয়া হাবিব। এছাড়াও ইসলামী ব্যাংকের একটি ব্লাঙ্ক চেক (০৭৯৭০৯১) নিয়েছে অধ্যক্ষ। এসব তথ্য জানিয়েছে ভুক্তভোগী জাকারিয়া হাবিব।

জানা গেছে, অধ্যক্ষ আ: সাত্তার গভর্নিং বডির কাছে দেয়া স্বীকারোক্তিতে উল্লেখ করেছে, জাকারিয়া হাবিবের নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে কয়েকটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। প্রকাশিত অডিওতে কালীগঞ্জের কয়েকজন সম্মানিত রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের নামে মিথ্যা বানোয়াট কথা বলা হয়। নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে বিশিষ্ট ব্যক্তিরা কোনোভাবেই জড়িত না এবং তাদের সাথে অর্থ লেনদেনর প্রশ্নই উঠে না। অডিওতে তাদের সম্পর্কে যে বক্তব্য প্রকাশ হয়েছে তা নিতান্তই আমার ব্যক্তিগত ও মনগড়া। উক্ত বক্তব্যের জন্য আমি নিজেই দায়ী। উল্লেখিত ব্যক্তিদের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।

তদন্ত কমিটি: গত ৭ মার্চ অনুষ্ঠিত মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আ: সাত্তার ও জাকারিয়া হাবিবের কথোপকথনের অডিও রেকর্ড এবং অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক করা হয় মাদ্রাসার গভর্নিং বডির দাতা সদস্য হেকমত আলীকে, এছাড়াও শিক্ষক প্রতিনিধি মোহাম্মদ সালাউদ্দিন এবং অভিভাবক প্রতিনিধি নুরুল আমিনকে সদস্য করা হয়। ঘটনার তদন্ত শেষে গত ১২ মার্চ কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে। তদন্ত প্রতিবেদনের অনুলিপি মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), কালীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান এবং কালীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বরাবর দাখিল করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সহকারী গ্রন্থাগারিক পদে চাকরি দেয়ার কথা বলে কয়েক দফায় মোট ৮ লাখ টাকা ও একটি ব্লাঙ্ক চেক অভিযোগকারী জাকারিয়া হাবিবের কাছ থেকে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ আ: সত্তার গ্রহণ করে। চাকুরি না হওয়ায় তা ফেরত দিতে টালবাহানা করে অধ্যক্ষ এবং আত্মসাৎ করার চেষ্টা করে। জাকারিয়া হাবিবের চাকুরি নিশ্চিত করার অজুহাত দেখিয়ে স্থানীয় কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের কথা বলে তার কাছ থেকে দফায় দফায় মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে তা আদায় করে অধ্যক্ষ। অথচ যাদের নাম ভাঙিয়ে টাকা আদায় করেছে তারা এসবের কিছুই জানে না। তদন্ত কমিটির সদস্যরা অভিযুক্ত অধ্যক্ষ ও অভিযোগকারী জাকারিয়া হাবিবের জবানবন্দি রেকর্ড করেছে। অধ্যক্ষ তার বিরুদ্ধে উঠা সকল অভিযোগ সত্য বলে স্বীকার করে। এছাড়াও চাকুরি দেয়ার নামে করে জাকারিয়া হাবিবের কাছ থেকে কয়েক দফায় ৮ লাখ টাকা ও একটি ব্লাঙ্ক চেক গ্রহণ করেছে অধ্যক্ষ। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে আর্থিক লেনদেনের যে অডিও রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছে সে সম্পর্কে অধ্যক্ষ স্বীকারোক্তি দেয়। যাদের নামে ব্যবহার করে জাকারিয়া হাবিবের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়েছে তারা এ ব্যাপারে কিছু জানেন বলে জানায় অধ্যক্ষ। এটি ছিল বেশি টাকা আদায়ের কৌশল মাত্র।

এছাড়াও তদন্ত প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আরো দুর্নীতি ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে। এরমধ্যে অধ্যক্ষের স্ত্রী কানিজ ফাতেমাকে প্যাটার্ন (নির্দিষ্ট পন্থা) বহির্ভূতভাবে মাদ্রাসায় নিয়োগ দিয়ে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। যা ২০১৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জরিপে তাকে প্যাটার্ন বহির্ভূত উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি মাদ্রাসা পরিদর্শন শেষে পরিদর্শন কর্মকর্তা ওই নিয়োগকে বিধিবহির্ভূত উল্লেখ করেছে।

প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, বিগত অর্থ বছরে জেলা পরিষদ থেকে বরাদ্দকৃত ১ লাখ টাকা উত্তোলন করে তা দিয়ে কোন কাজ না করেই অর্থ আত্মসাৎ, মাদ্রাসার এফডিআরের লাভাংশ, মাদ্রাসার জেনারেল ফান্ডের টাকা এবং মাদ্রাসার টিউশন ফি এর টাকা আত্মসাৎ করেছে অধ্যক্ষ।

এসকল বিষয়ে প্রমাণিত হওয়ায় অধ্যক্ষর বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য গভর্নিং বডি ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের সুপারিশ করে তদন্ত কমিটি।

সার্বিক বিষয়ে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ আ: সাত্তারের কাছে জানতে চাইলে এ বিষয়ে কোন মন্তব্যে করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি বলেন, মোবাইলে কথা বলার কারণে অনেক কিছু হয়েছে। এখন আমার আর কোন মন্তব্যে নেই।

মাদ্রাসার গভর্নিং বডির দাতা সদস্য ও তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক হেকমত আলী বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কার্যক্রম শেষ করে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে অর্থ লেনদেনের বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তদন্ত প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে।

চুপাইর জামিউল উলুম (জেড.ইউ) আলিম মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি ড. মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যর কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করেছে। গভর্নিং বডির পরবর্তী সভা ২৭ মার্চ (রোববার)। ওইদিন সভায় গভর্নিং বডির সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে বিধি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

কালীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নূর-ই-জান্নাত বলেন, ওই মাদ্রাসায় সহকারী গ্রন্থাগারিক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রার্থীর নিয়োগে পক্রিয়ায় অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। তাই তার এমপিওভুক্ত করণ হবে না। নিয়োগে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য: এর আগে ২০২০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি অফিস সহকারী-কাম হিসাব সহকারীর শূন্য পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দিয়ে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থী চাকুরি প্রত্যাশী মোয়াজ্জেম হোসেনকে নিয়োগপত্র না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিলো মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। সে সময় ওই ঘটনায় নিয়োগ প্রত্যাশী মোয়াজ্জেম হোসেন বাদী হয়ে মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতিসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে গাজীপুরের সিনিয়র সহকারী জজ ৫ম আদালতে একটি দেওয়ানী মামলা দায়ের করে। পরে আদালত বিবাদীদের বিরুদ্ধে সমন জারি করে। এরপর অফিস সহকারী-কাম হিসাব সহকারীর শূন্য পদে নিয়োগ প্রত্যাশী মোয়াজ্জেম হোসেনকে নিয়োগ দিয়েছে।

 

আরো জানতে……

কালীগঞ্জে আলিম মাদ্রাসায় নিয়োগপত্র পায়নি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থী: ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button