গাজীপুরগাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ

গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সচিব হিসেবে নিয়োগ পেলেন সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (জিডিএ) সচিব হিসেবে নিয়োগ পেলেন সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বাবু।

রোববার (২৮ নভেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধিশাখার উপসচিব (প্রেষণ-১) মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (জিডিএ) সচিব হিসেবে পদায়নের লক্ষে সিনিয়র সহকারী সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বাবুকে প্রেষণ গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে ন্যাস্ত করা হয়েছে।

এর আগে গত ৩ নভেম্বর গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (জিডিএ) চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ-২) মো.হেমায়েত হোসেন।

উল্লেখ্য: সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বাবু (১৬৩৭০) বর্তমানে জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিসিএস ২৮তম ব্যাচের কর্মকর্তা সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বাবু ২০১০ সালের ১ ডিসেম্বর সহকারী কমিশনার হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। সে সময় তিনি নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর এবং চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলায় দায়িত্ব পালন করেছেন।

এরপর পদোন্নতি পেয়ে ২০১৮ সালের ১১ নভেম্বর থেকে ২০২০ সালের ১২ মে পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলায় দায়িত্ব পালন করেন।

পরবর্তীতে ২০২০ সালের ২০ মে থেকে ২০২১ সালের ২৯ আগস্ট পর্যন্ত সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বাবু অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় তিনি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সর্বশেষ ২০২১ সালের ১ সেপ্টেম্বর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে তিনি জামালপুর জেলায় যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তাঁর নিজ জেলা ময়মনসিংহ।

প্রসঙ্গত, গাজীপুর শহর ও তৎসলগ্ন এলাকায় পরিকল্পিত নগরায়নের উদ্দেশ্যে একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করার জন্য ২০২০ সালের ৮ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) ‘গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল-২০২০’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছিল।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।

বিলটি জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে পাঠানোর জন্য বিরোধীদলীয় কয়েকজন সংসদ সদস্য প্রস্তাব দিলেও সরকারিদলের সদস্যদের কণ্ঠভোটে সেই প্রস্তাব নাকচ হয়। পরে স্পিকার বিলটি পাসের প্রস্তাব কণ্ঠভোটে দিলে তা পাস হয়।

এর আগে চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি বিলটি পাসের জন্য সংসদে উত্থাপন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী। তখন বিলটি অধিকতর যাচাই-বাছাই করার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। সংসদীয় কমিটি ৬ আগস্ট বিলটি চূড়ান্ত করে পাসের জন্য সংসদে পাঠায়।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গাজীপুর শহর ও তৎসলগ্ন এলাকায় পরিকল্পনা, উন্নয়ন, সংস্কার ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে পরিকল্পিত নগরায়নের উদ্দেশ্যে জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০১৪-এর কার্যবিবরণীতে পরিকল্পিত নগরায়ন এবং জনসাধারণকে নাগরিক সুবিধা দেওয়ার জন্য গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (জিডিএ) গঠন করা হবে। সে পরিপ্রেক্ষিতে ‘গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন’-এর খসড়া প্রণীত হয়। খসড়া বিলটি ২০১৯ সালের ২৮ অক্টোবর মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে। বিলটিতে সরকারি টাকা ব্যয়ের প্রশ্ন জড়িত থাকায় সংবিধানের ৮২ অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতির সুপারিশ নেওয়া হয়েছে।

বিলে আরও বলা হয়, ‘গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান হবে। গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রধান কার্যালয় প্রতিষ্ঠিত হবে। কর্তৃপক্ষ পরিচালনার জন্য একজন চেয়ারম্যান, চারজন সার্বক্ষণিক সদস্যসহ ১৫ সদস্যের একটি কমিটি থাকবে। কর্তৃপক্ষের সচিব কমিটির সচিব হবেন। সদস্যরা তিন বছরের জন্য মনোনীত হবেন।

বিলের ৪০ ধারায় মহাপরিকল্পনার পরিপন্থী ভূমি ব্যবহারের দণ্ড সম্পর্কে বলা আছে- যদি কোনো ব্যক্তি মহাপরিকল্পনায় চিহ্নিত বা উল্লেখিত উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ভূমি ব্যবহার করেন, তাহলে সেটা অপরাধ বলে গণ্য হবে। এই অপরাধের জন্য ওই ব্যক্তিকে অনধিক ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

ইমারত নির্মাণ, জলধারা খনন, চালা অথবা উঁচু ভূমি ইত্যাদি বিষয়ে বিধি নিষেধ সম্পর্কে ৪১ ধারার (১) উপধারায় বলা আছে- অন্য কোনো যাই থাকুক না কেন এই আইন কার্যকর হবার পর কর্তৃপক্ষের আওতাধীন এলাকার মধ্যে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কোনো ইমারত নির্মাণ বা পুনঃনির্মাণ, পুকুর বা কৃত্রিম জলধারা খনন বা পুনঃখনন কিংবা চালা বা উঁচু ভূমি কাটা যাবে না।

বিলে বলা হয়, ‘গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান হবে। গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রধান কার্যালয় প্রতিষ্ঠিত হবে। কর্তৃপক্ষ আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে ভূমির যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করবেন। কর্তৃপক্ষ অপরিকল্পিত উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ ও আধুনিক পর্যটন ও নগর উন্নয়ন কার্যাবলী গ্রহণ করবেন। কৃষিভূমি, বনভূমি, নিম্নভূমি, জলাভূমি সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া কোনো ইমারত নির্মাণ, পুনঃনির্মাণ, পুকুর বা কৃত্রিম জলাধার খনন, পুনঃখনন বা উচুঁ ভূমি কাটা যাবে না।

”গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন ২০২০” এর গেজেট

https://www.gazipurkontho.com.bd/wp-content/uploads/2021/11/%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%80%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B0-%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A8%E0%A7%9F%E0%A6%A8-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%83%E0%A6%AA%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7-%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%A8-%E0%A7%A8%E0%A7%A6%E0%A7%A8%E0%A7%A6%E0%A6%8F%E0%A6%B0-%E0%A6%97%E0%A7%87%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%9F.pdf

 

আরো জানতে………..

গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেলেন হেমায়েত হোসেন

সংসদে ‘গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল-২০২০’ পাস

‘গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল ২০২০’ চূড়ান্ত করতে সংসদীয় কমিটি’র মতামত

‘গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল-২০২০’ সংসদে উত্থাপন

‘গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৯’ এর খসড়ার অনুমোদন

‘গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৯’ এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন

‘গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ হচ্ছে দেশের ষষ্ঠ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button