অর্থনীতিআলোচিত

নিবন্ধিত অ্যাম্বুলেন্সের ২৩ শতাংশই ফিটনেসবিহীন!

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : কভিড মহামারীর সময় দেশে অ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। যদিও এসব অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে বড় একটি অংশের ফিটনেস নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ)। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, দেশে নিবন্ধিত অ্যাম্বুলেন্সের প্রায় ২৩ শতাংশ রাস্তায় চলাচল করছে ফিটনেসবিহীন অবস্থায়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মহামারীকালে দেশে অ্যাম্বুলেন্স বাণিজ্য রমরমা হয়ে উঠেছে। চাহিদা বাড়ায় অনেকেই নতুন অ্যাম্বুলেন্স রাস্তায় নামিয়েছেন। তবে এসব অ্যাম্বুলেন্সে জরুরি স্বাস্থ্যসেবার চেয়ে বাণিজ্যিক প্রয়োজনই গুরুত্ব পেয়েছে বেশি। ঝামেলা এড়াতে অনেকে নিবন্ধন নিলেও অবহেলিত থেকে গিয়েছে অ্যাম্বুলেন্সের ফিটনেসের বিষয়টি। আবার নিবন্ধনবিহীন অবস্থায়ও অনেক অ্যাম্বুলেন্স চলাচল করছে রাস্তায়, যেগুলোরও ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

বিআরটিএর গত মাস পর্যন্ত হালনাগাদকৃত তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ৭ হাজার ৩৫২টি নিবন্ধনধারী অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৬৭১টি অ্যাম্বুলেন্সেরই ফিটনেস নেই। সে হিসেবে দেশে নিবন্ধিত অ্যাম্বুলেন্সের ২২ দশমিক ৭২ শতাংশেরই প্রয়োজনীয় ফিটনেস নেই।

সংস্থাটির পরিসংখ্যানে করোনাকালে অ্যাম্বুলেন্স বাণিজ্য রমরমা হয়ে ওঠার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। এতে দেখা যাচ্ছে করোনার আগে ২০১৯ সালে দেশে নিবন্ধিত অ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ১১। সে হিসেবে মহামারীর দেড় বছরে এ সংখ্যা বেড়েছে ১ হাজার ৩৪১টি। এর মধ্যে শুধু ঢাকাতেই নিবন্ধিত হয়েছে ১ হাজার ৪৪৬টির। সারা দেশে নিবন্ধিত অ্যাম্বুলেন্সের ৮০ শতাংশই চলে রাজধানীতে। বর্তমানে ঢাকায় চলাচলরত অ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যা ৫ হাজার ৫৭।

তবে ফিটনেস নবায়নে অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা। এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন বলেন, অ্যাম্বুলেন্সের ফিটনেস নবায়ন করতে আগে ৪০ হাজার টাকা লেগে যেত। বর্তমানে ৬ হাজার টাকার মধ্যেই ফিটনেস নবায়ন করা যাচ্ছে। ফলে ফিটনেসহীন অ্যম্বুলেন্সের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে আসছে।

ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিষয়টি দেশের পরিবহন খাতে দিনে দিনে প্রকট হয়ে উঠেছে। দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত যানবাহনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই চলাচল করছে ফিটনেসবিহীন অবস্থায়। বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে মোটরসাইকেল ছাড়া ১৯ ধরনের যানবাহন রয়েছে। মোটরসাইকেল বাদ দিয়ে দেশে নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা ১৪ লাখ ৯৩ হাজার ২৭৬। এর মধ্যে ফিটনেস নেই ৪ লাখ ৯২ হাজার ১২৭টির বা প্রায় ৩৩ শতাংশের।

ফিটনেসবিহীন যানের মধ্যে প্রথম সারিতে রয়েছে অটোরিকশা। দেশে ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৫৩৭টি নিবন্ধিত অটোরিকশার মধ্যের ফিটনেস নেই ১ লাখ ৭৯ হাজার ২২৭টির। এ তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ট্রাক। ১ লাখ ৪২ হাজার ৪০৯টি নিবন্ধিত ট্রাকের মধ্যে ফিটনেস নেই ৫৩ হাজার ২৫৯টির। ১ লাখ ৪১ হাজার ১৩১টি নিবন্ধিত পিকআপের মধ্যে ৫১ হাজার ৩৫৯টিরই ফিটনেস নেই। তালিকায় প্রাইভেট কারের অবস্থান চতুর্থ। নিবন্ধিত ৩ লাখ ৭৭ হাজার ২১৩টি প্রাইভেট কারের মধ্যে ফিটনেস নেই ৪৪ হাজার ১৫৪টির। এছাড়া ৪৪ হাজার ৩২৯টি ট্রাক্টরের মধ্যে ৩০ হাজার ২২২টির ফিটনেস নেই।

এ বিষয়ে বিআরটিএর চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, করোনাকালে অনেকেই ফিটনেস নবায়ন করতে পারেনি। এতে করে দেশে ফিটনেসবিহীন গাড়ির সংখ্যা বেড়ে গিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে সুযোগ দেয়া হয়েছে, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ফিটনেস নবায়ন করলে কোনো জরিমানা দিতে হবে না। আশা করা যাচ্ছে এর মধ্যে ফিটনেসবিহীন গাড়ির সংখ্যা কমে আসবে।

তিনি আরো বলেন, ফিটনেস ছাড়া যেসব গাড়ি রাস্তায় চলে সেগুলোর ব্যাপারে আমরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করি, মামলা করি। ফলে ফিটনেস না থাকা গাড়িগুলো চাপে পড়ে ফিটনেস নবায়ন করতে বাধ্য হয়।

 

সূত্র: বণিক বার্তা

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button