আলোচিতশিক্ষা

বিশ্ববিদ্যালয় খুললে অস্থিরতার আশঙ্কা কেন?

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : দেশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুললে অস্থিরতার আশঙ্কা করা হচ্ছে বিভিন্ন মহল থেকে। কিন্তু কিসের অস্থিরতা? কেন অস্থিরতার কথা বলা হচ্ছে?

কী কারণেই বা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুললে অস্থির পরিস্থিতি হতে পারে তার কোনো পরিস্কার ধারণা কেউ দিতে পারেননি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র সমাবেশে অংশ নিয়ে বলেছেন, ‘‘বিস্ময়, দুঃখ ও নিন্দার সঙ্গে আমরা দেখি যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত যে শিক্ষকদের হল পরিচালনা করার কথা, তারা সেই দায়িত্ব সন্ত্রাসীদের হাতে ছেড়ে দিয়ে চুপচাপ বসে থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয় খুললে সরকার অস্থিরতার আশঙ্কা করছে৷ তার মানে, তারুণ্য ও স্বাধীন বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চাকে তাদের ভয়।”

অধ্যাপক মুহাম্মদ বলেন, ‘‘সরকার চাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের যে কোনোভাবে ক্যাম্পাস থেকে দূরে রাখতে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনেরও একই ভাবনা। গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়া হল, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় খোলার ব্যাপারে এখনও সিদ্ধান্ত দিচ্ছে না। প্রস্তুতির যে কথা বলা হচ্ছে, সেটা তো আগে থেকেই নেওয়া উচিত ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়তো স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। কর্তৃপক্ষ চাইলেই তো আগে থেকে প্রস্তুতি নিতে পারতেন।”

তিনি বলেন, ‘‘বিশ্ববিদ্যালগুলোর বেশিরভাগ প্রশাসনই মেরুদণ্ডহীন। আবার অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়নকাজ চলছে। সেখানেতো অনিয়ম দুর্নীতি হচ্ছে। ফলে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস থেকে দূরে রাখতে পারলে তাদের বিরুদ্ধে তো আর কেউ কথা বলবে না। সরকার আসলে মুক্তবুদ্ধির চর্চাকে ভয় পায়। একারণে ক্যাম্পাস খুলতে চাচ্ছে না।”

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান বলেন, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর অস্থিরতার প্রসঙ্গ কেন আসছে? বিশ্ববিদ্যালয়তো খোলা থাকারই কথা। এটাতো বন্ধ থাকার কথা না। এখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আসবেন পড়ালেখা হবে, গবেষণা হবে, এটাই তো বিশ্ববিদ্যালয়ের চরিত্র। অস্থিরতার কথা যারা বলছেন তারাই বলতে পারবেন কেন বলছেন?”

তিনি বলেন, ‘‘আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি খোলা হবে। ক্যাম্পাস ও হলগুলো কবে থেকে খোলা হবে সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে শনিবার সিন্ডিকেটের বৈঠক ডাকা হয়েছে। ওই বৈঠকেই এসব ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

গত ২৭ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শোক দিবসের আলোচনায় অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে অস্থিতিশীলতা তৈরির ষড়যন্ত্রের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এই ব্যাপারে সতর্ক থেকে এদের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগকে আটঘাট বেঁধে নামতে হবে।”

তিনি বলেন, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গে ষড়যন্ত্রকারীরা অস্থিতিশীলতার প্রস্তুতিও নিচ্ছে। তারা সরকারকে হটানোর প্রস্তুতিও নিচ্ছে। তাই ছাত্রলীগকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।”

এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে এক সাংবাদিক সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিও বলেছিলেন, ‘‘আমরা দেখছি একটি চিহ্নিত মহল দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য বারবারই অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। এখন আমাদের ছাত্রসমাজকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন তারা।”

আর দু’দিন আগে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেছেন, ‘‘আমরা নাকি অস্থিরতার ভয়ে বিশ্ববিদ্যালয় খুলছি না। তাদের এই তথ্য সঠিক নয়।”

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘‘করোনা পরিস্থিতিসহ সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগ সবকিছুতেই ব্যর্থ হয়েছে। এখন তারা বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে ভয় পাচ্ছে, কারণ তারা জানে বিশ্ববিদ্যালয় খুললে শিক্ষার্থীরা মাঠে নামবে। এই কারণে তারা স্কুল-কলেজ খুললেও বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে তাল বাহানা করছে।”

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ঘিরে অস্থিতিশীলতার কোন তথ্য আছে কি-না জানতে চাইলে ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশের কমিশনার মুহা. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘‘আমাদের কাছে এই ধরনের কোন তথ্য নেই। কেন অস্থিতিশীল হবে? কারা করবে? নানাভাবে আমরা তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেছি, কিন্তু এমন কিছু পাইনি।”

তবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের মধ্যে কিছুটা ক্ষোভ রয়েছে বলে কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে৷ যদিও তাদের সে ক্ষোভের কারণ রাজনৈতিক নয়। তারা যেটা বলছে, করোনার মধ্যে অনেকের পরিবারই আর্থিকভাবে সংকটে পড়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেমিস্টার ফিসহ কোনো ধরনের ফি কমায়নি। এটা নিয়ে কয়েকমাস ধরে তারা অনলাইনে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন ফি কমানোর দাবি জানিয়ে আসছে। এখন খোলার পর তারা এই দাবিতে তারা সোচ্চার হতে পারে।

এদিকে, পরিচয়পত্র দেখানো ও অন্তত এক ডোজ টিকা নেওয়ার শর্তে ৫ অক্টোবর থেকে অগ্রাধিকারভিত্তিতে স্নাতক চতুর্থ বর্ষ ও স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে উঠতে পারবেন। শনিবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

 

সূত্র: ডয়চে ভেলে

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button