গাজীপুর

টঙ্গীতে করোনায় ভবঘুরে যুবকের মূত্যু, লাশ দাফনে এগিয়ে গেলেন কোয়ান্টাম স্বেচ্ছাসেবীরা

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত হযরত আলী (৩০) নামে এক ভবঘুরে যুবকের মূত্যু হয়েছে। পরে তার লাশ দাফনে এগিয়ে যায় কোয়ান্টাম স্বেচ্ছাসেবীরা।

সোমবার রাতে হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে তার মৃত্যু হয়।

নিহত হযরত আলী ভোলা জেলার সিরাজ আলীর ছেলে বলে জানা গেছে। সে টঙ্গী এলাকায় ‘ভবঘুরে’ হিসেবে ঘোরাফেরা করতেন।

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন গাজীপুর শাখার অর্গানিয়ার আলীম-আল-রাজী বলেন, ভবঘুরে হযরত আলী সোমবার রাতে টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে মারা যান। পরে টঙ্গী পূর্ব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হুমায়ুন কবির স্বেচ্ছা দাফন কার্যক্রমের অগ্রগামী সংগঠন কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনকে অবহিত করলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইড লাইন অনুযায়ী সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে গোসল, জানাজা শেষে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল হোসেনের সার্বিক সহযোগিতায় মঙ্গলবার মরকুন কবরস্থানে হযরত আলীর মরদেহ দাফন সম্পন্ন করেন কোয়ান্টামের স্বেচ্ছাসেবকরা।

আলীম-আল-রাজী বলেন, একটি দাফন প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩০ রকমের উপকরণ ব্যবহার করে কোয়ান্টাম। দাফনকাজে সুরক্ষার জন্য ব্যবহার করা হয় অ্যালকোহলসহ কয়েক ধরনের জীবাণুনাশক। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী এ দাফন কার্যক্রম চলছে। কার্যক্রমের পুরো প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত পিপিই, মাস্ক, ফেসশিল্ড, সার্জিক্যাল হ্যান্ড গ্লাভস, হেভি গ্লাভস, নেককভার, মরদেহের কাফনের কাপড়, মরদেহ বহনের জন্য বিশেষ বডিব্যাগসহ সুরক্ষার জন্যে কয়েক ধরনের জীবাণুনাশক- পুরোটাই কোয়ান্টামের স্ব-অর্থায়নে স্বেচ্ছাসেবায় পরিচালিত হচ্ছে।

গাজীপুর জেলায় দাফন সংশ্লিষ্ট যে কোন ধরনের সহযোগিতার জন্য যোগাযযোগ করা যাবে- কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন করোনা দাফন হটলাইন ০১৩০৬৪১৩১৬৩, ০১৭২৯২০২০২৫, ০১৭৯৯৩৫৫৬৫৫ এই নম্বরে।

এ ছাড়া কোয়ান্টামের ওয়েবসাইটেও এ সংক্রান্ত সকল তথ্য পাওয়া যাবে-http://www.quantummethod.org.bd/

উল্লেখ্য: করোনায় মৃতদেহ দাফন বা সৎকারে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সক্রিয় রয়েছে দেশের অন্যতম স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন। ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে শেষ বিদায় জানাতে ২৪ ঘণ্টা কাজ করে যাচ্ছেন কোয়ান্টামের দেড় হাজার স্বেচ্ছাসেবী। রাজধানীসহ সারা দেশেই মমতার পরশে শেষ বিদায়ে চলছে তাদের নিরলস মানবিক এ সেবা কার্যক্রম। ২০২০ সালে করোনার শুরু থেকে গত ১ আগস্ট ২০২১ পর্যন্ত ৫ হাজার ১৯২ টি মরদেহের শেষকৃত্য সম্পন্ন করেছেন কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের কর্মীরা।

এরমধ্যে মুসলিম ৪ হাজার ৫৫৫ টি, সনাতন ৫৭৩ টি, বৌদ্ধধর্মের ২৫ টি এবং খ্রিস্টান ধর্মের ৩৯ টি মরদেহ রয়েছে।

রাজধানীর কাকরাইলে কোয়ান্টাম দাফন কার্যক্রমের ইনচার্জ খন্দকার সজিবুল ইসলাম জানান, ২০২০ সালের এপ্রিলে করোনার শুরু থেকেই করোনা বা করোনা উপসর্গে মরদেহের শেষকৃত্যে অংশ নিচ্ছে কোয়ান্টাম। স্বপরিকল্পনা, স্বঅর্থায়ন আর স্বেচ্ছাসেবকদের স্বেচ্ছাশ্রমে চলছে এ দাফন সেবা। সারা দেশে স্বেচ্ছাসেবীর সংখ্যা প্রায় ১৫০০।

বিভিন্ন পেশার বিভিন্ন বয়সী স্বেচ্ছাসেবকদের তালিকায় রয়েছেন আলাদা নারী স্বেচ্ছাসেবক দল। মুসলিম ছাড়াও অন্য ধর্মাবলম্বীদের জন্য রয়েছে স্বস্ব ধর্মের পৃথক দল।

স্বাস্থ্যবিধি ও ধর্মীয় রীতি মেনে চলছে কোয়ান্টামের এ সেবা। হাসপাতাল ছাড়াও কাকরাইলে নিজস্ব গোসলখানায় ভাইরাসমুক্ত করে শেষ সজ্জায় সাজিয়ে কবরস্থান বা সমাধি পর্যন্ত চলছে কোয়ান্টামের এ সেবা।

খন্দকার সজিবুল ইসলাম আরো জানান, মৃতের সংখ্যা বাড়লেও গত বছরের তুলনায় এ বছরের চিত্র অতটা অমানবিক নয়। গত বছর আপনজনদের দাফন বা সৎকারে এগিয়ে না আসা, লাশ ফেলে পালিয়ে যাওয়া ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। এ বছর আপনজনদের অনেকেই পাশে থাকছেন। অংশ নিচ্ছেন জানাজায়। নিজেরাই দায়িত্ব নিচ্ছেন দাফনের। তিনি বলেন, এখনো লকডাউনের মধ্যেও ফোন পাওয়া মাত্রই কর্মীরা ছুটে যাচ্ছেন হাসপাতাল, বাসা, কবরস্থান কিংবা শশ্মানে। সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের দান-অনুদানে চলছে আমাদের এই সেবা কার্যক্রম। কোয়ান্টামের এই মানবিক সেবা কার্যক্রমে যে কেউ চাইলে আর্থিকভাবে শরিক হতে পারেন।

 

আরো জানতে…..

কোভিড-১৯: গাজীপুরেও লাশ দাফনে এগিয়ে এসেছে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button