গাজীপুর

কালীগঞ্জে শিক্ষিকার ছেলের উপর হামলা, টাকা ছিনতাই: অভিযোগ করেও প্রতিকার নেই!

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : কালীগঞ্জে এক স্কুল শিক্ষিকার ছেলেকে মারধর করে টাকা ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করেও প্রতিকার মিলছে না বলে দাবী স্কুল শিক্ষিকার।

”ঘটনার পর এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো কোন আসামি আটক করেনি এবং মামলাও নথিভুক্ত করেছে না পুলিশ।”

গত ১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় হামলা ও টাকা ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটে। পরে ২ জানুয়ারি এ বিষয়ে থানায় এজাহার দায়ের করা হয়।

”অপরদিকে পুলিশের দাবী অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে। আটকের পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ঘটনায় অভিযুক্তরা হলো, কালীগঞ্জের ফুলদি টেকপাড়া এলাকাল ওমর আলীর দুই ছেলে রায়হান (২৫) ও রাহাদ (২২)। সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরো ৪/৫ জন।

ভুক্তভোগী আরিফুল ইসলাম (২৬) ফুলদি দক্ষিণপাড়া এলাকার আলমগীরের ছেলে। ভুক্তভোগীর মা ‘বাঙ্গালী ফুলদি দক্ষিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে’র শিক্ষিকা নাজমা আক্তার।

থানায় দায়ের করা এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘বিদেশ ফেরত আরিফুল ইসলাম গত ১ জানুয়ারি বিকেলে নোয়াপাড়া বাজারে একটি দোকান ভাড়া নেয়ার জন্য দোকান মালিককে অগ্রিম টাকা দেয়ার জন্য বাড়ি থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে বের হয়। পরে দোকান মালিককে না পেয়ে সন্ধ্যায় ওই টাকা সঙ্গে করে বাড়ি ফেরার পথে ফুলদী কোষাঘাটা এলাকায় আসলে আরিফুলের পথরোধ করলে সে মোটরসাইকেল থামাতেই তার উপর অতর্কিত হামলা চালায় অভিযুক্তরা রায়হান, রাহাদসহ তাদের সঙ্গে থাকা অজ্ঞাতনামা আরো ৪/৫ জন। একপর্যায়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার শ্বাসরোধ করে ও মারধর করতে থাকে এবং সঙ্গে থাকা নগদ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় অভিযুক্তরা। এ সময় আরিফুলের ডাক-চিৎকারে আশ-পাশের লোকজন আসলে তারা পালিয়ে যায়। পরে আরিফুলকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি ফার্মাসিতে এবং পরে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।’

এ ঘটনায় পরদিন ২ জানুয়ারি ভুক্তভোগী আরিফুল ইসলামের মা স্কুল শিক্ষিকা নাজমা আক্তার বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন।

বাদী স্কুল শিক্ষিকা নাজমা আক্তার বলেন, ”হামলায় আরিফুল অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে থাকায় আমি নিজে বাদী হয়ে ঘটনার পরদিন (২ জানুয়ারি) থানায় এজাহার দায়ের করি। এরপর ওইদিন দুপুরে কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাদিকুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এরপর আর কোন আইনি কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে না। এ বিষয়ে থানায় যোগাযোগ করলে তারা বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করেন। কোন অগ্রগতি না পেয়ে বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) থানায় গেলে কালীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম বলেন টাকা ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা মিথ্যে এবং আমার ছেলেই নাকি অভিযুক্তদের উপর মটোরসাইকেল তুলে দিয়েছিল। তাই মামলা রেকর্ড করা সম্ভব নয়।”

তিনি আরো বলেন, ”থানায় অভিযোগ দায়ের করেও কোন প্রতিকার মিলছে না। ঘটনার পর এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো কোন আসামি আটক করেনি এবং মামলাও নথিভুক্ত করছে না পুলিশ।”

কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাদিকুর রহমান বলেন, ”এজাহার দায়ের করার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে। তাদের আটক করার চেষ্টা চলছে। অভিযুক্তদের আটকের পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

কালীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম বলেন, ”এ ঘটনায় এখনো মামলা নথিভুক্ত করা হয়নি। তবে এ বিষয়ে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপপরিদর্শক (এসআই) সাদিকুর রহমানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বাদীর করা অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবী করেন তিনি।”

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button