লাইফস্টাইল

বয়স চল্লিশের পর মেনে চলা প্রয়োজন কিছু বিষয়

গাজীপুর কণ্ঠ, বিনোদন ডেস্ক :  নারীদের ক্ষেত্রে বয়স যখন চল্লিশের দোরগোড়ায়, তখন যেন জীবনের গতিবিধি থেকে শরীর-স্বাস্থ্যের রূপরেখা হঠাৎ করেই পাল্টে যেতে থাকে। এ সময় ক্যারিয়ারের পরিবর্তন, মানসিক চাপ, সন্তান সামলানো থেকে শুরু করে ব্যক্তিজীবন নিয়ে পরিকল্পনা সবকিছুই মনোদৈহিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। বেশির ভাগ নারীই এ বয়সে অতিরিক্ত ওজন ও বিপাক কমে যাওয়ার সমস্যায় ভোগেন। তাই বয়স চল্লিশের পর মেনে চলা প্রয়োজন কিছু বিষয়……

কী খাচ্ছেন লিখে রাখুন: এক সপ্তাহে কী কী খাচ্ছেন লিখে রাখুন। দেখা গেছে, যারা ফুড ডায়েরি রাখে, তারা ১৫ শতাংশ বেশি ওজন কমায় যারা রাখে না তাদের চেয়ে। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোর দিকে বেশি খেয়াল রাখুন। কারণ ছুটির দিনগুলোয় খাওয়া বেড়ে যায়। সস, সালাদ ড্রেসিং, ড্রিংকস, নাশতা, স্প্রেড ইত্যাদি ধীরে ধীরে বাদ দিন বা খাচ্ছেন তার চেয়ে ১০ শতাংশ কম খান।

ইতিবাচক বাক্য উচ্চারণ: নিজেকে বলবেন না, ‘বেশি খাব না।’ মস্তিষ্ক কখনই ‘না’ শোনে না। তাই ‘কম খাব, ওজন কমাব’ ইত্যাদি বাক্য প্রতিদিন নিজেকে বলুন।

দিনে অন্তত ১ ঘণ্টা টিভি কম দেখুন: এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা বেশি টিভি দেখে, তারা বেশি খায়। কারণ এতে খাওয়ার চেয়ে মনোযোগ টিভির দিকে বেশি থাকে বলে তারা টের পায় না যে খাওয়া বেশি হয়ে যাচ্ছে।

প্রতিদিন ঘরের কাজ করুন: প্রতিদিন মেঝে, জানালা, শাওয়ার, বাথরুমের আয়না, আপনার গাড়ি ইত্যাদি ধুয়ে ফেলুন। দেখা গেছে যার ওজন ১৫০ পাউন্ড, তার প্রতি মিনিটে গড়ে ৪ ক্যালরি করে পোড়ে এ কাজগুলোর যেকোনো একটি করলে। পাশাপাশি শরীর ঝরঝরে অনুভূত হয়। আড়ষ্টতা কমে যায়।

নীল রঙের প্লেটে খাবার খান: আপনি জানেন কি? রঙের একটা প্রভাব আছে মস্তিষ্কের। কখনো খেয়াল করেছেন কি, রেস্টুরেন্টে নীল রঙ করা হয় না খুব একটা। কারণ নীল রঙ ক্ষুধামান্দ্য ঘটায়। তাই নীল প্লেটে খান। নীল রঙের টেবিলক্লথ বিছান। উল্টো দিকে লাল, হলুদ কমলা রঙ ক্ষুধা বাড়ায়।

১০ মিনিট সিঁড়ি ভাঙুন: অফিসে বেশির ভাগ সময় লিফটেই ওঠানামা করেন। এতে হাঁটার অভ্যাস হয়তো অনেকটা কমেই গেছে। কিন্তু বয়স চল্লিশের পর এমনিতেই শরীরের কলকবজা আড়ষ্ট হতে শুরু করে। তাই গড়ে ১০ মিনিট যদি প্রতিদিন সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামা করেন, তবে শরীর ফুরফুরে থাকবে। এর সঙ্গে দিনের শেষে আরো বাড়তি ২০ মিনিট হাঁটা যোগ করুন।

রাতে খাওয়ার আগে হাঁটুন: রাতে খাওয়ার আগে ২০ মিনিট হাঁটলে ক্ষুধা কমে ও সামান্য খাবার খেলেই পেট ভরা লাগে। এটা ইউনিভার্সিটি অব গ্লাসগোর এক গবেষণায় দেখা গেছে।

ঘরের খাবার খান: বাইরের খাবারে তেল-চর্বি বেশি থাকে। তাই ঘরে খান বেশির ভাগ খাবার। এতে সুস্থতার পাশাপাশি ওজনটাও ঠিক থাকবে। অতিরিক্ত তেল ও চর্বিজাতীয় খাবারে দ্রুত ওজন বাড়ে। আর ওজন বাড়লে কোমর ও হাঁটুর ওপর চাপ পড়ে, যা এ বয়সের জন্য হানিকর।

খাদ্যতালিকায় নজর: বয়স চল্লিশের কোটায় গেলে জিহ্বার চেয়ে পাকস্থলির দিকে বেশি নজর দেয়া প্রয়োজন। এর অর্থ, স্বাদযুক্ত খাবারের চেয়ে যে খাবার সহজপাচ্য ও উপকারী, সেগুলোয় ধ্যান দিতে হবে। যেমন—

খেতে হবে পানিবহুল খাবার: যেমন টমেটো, তরমুজ, শসা বেশি খান। সেই সঙ্গে স্যুপ ও সালাদ। শুধু পানি খেয়ে পেট ভরবেন না। কারণ সেই ভরা আর তৃষ্ণা মেটানোয় শরীর দুভাবে কাজ করে। প্রচুর শাক খান। কিন্তু এসব রান্নায় বা তৈরিকৃত সালাদে মেয়নেজ দেবেন না।

সাদা খাবার বাদ দিন: যেমন চিনি, রিফাইন আটা, ময়দা, সুজি খাবেন না।

কালো কফি পান করুন: কফিতে চিনি, দুধ, ক্রিম দেয়া বাদ দিন এখন থেকেই।

চর্বি পোড়াবে এমন খাবারে অভ্যস্ত হোন: কিছু কিছু খাবার আছে, যা দেহ থেকে চর্বি পুড়িয়ে ক্যালরি কমায়। একে ফ্যাট রিলিজিং ফুড বলে। যদি কিছু খেতেই ইচ্ছা হয়, এসব খাবার খান যেমন— ১ চামচ মধু ৬৪ ফ্যাট রিলিজিং ক্যালরি পোড়ায়, একটা শক্ত সেদ্ধ ডিম হজমে ৭০ ক্যালরি পোড়ে, এক আউন্স ডার্ক চকোলেট খেলে ১৬৮ ক্যালরি খরচ হবে আপনার। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন যারা ৫০০ ক্যালরির কম খাদ্যগ্রহণ করছেন এবং দিনে তিনবার টক দই খাচ্ছেন, ১২ সপ্তাহে তারা বেশি ওজন কমিয়েছেন যারা শুধু ৫০০ ক্যালরির সমপরিমাণ খাদ্যগ্রহণ করেছেন। কারণ টক দইতে যে ক্যালসিয়াম আছে, তা দেহে নতুন চর্বির কোষ তৈরিতে বাধা দেয় এবং দেহে চর্বি ভেঙে ক্যালরি পুড়তে সহায়তা করে।

ওট মিল: গবেষণায় দেখা গেছে যারা ওট মিল খান, সপ্তাহে তিনদিন তাদের ওজন দ্রুত কমে। নাশতায় দুধ, বাদাম ও ফল দিয়ে খেতে পারেন।

ঝাল খান: সালসায় ঝাল, মরিচ ইত্যাদিতে ক্যালরি কম থাকে, কিন্তু শরীরকে এরা উজ্জীবিত করে বেশি ক্যালরি পোড়াতে।

জুসের বদলে ফল খান: ফলে ফাইবার থাকে, যা আপনাকে পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে জুসের পরিবর্তে।

দুধ বদলান: স্কিম মিল্ক বা ননি ছাড়া দুধ খান। প্রথমে এটা খেতে ভালো লাগবে না। ধীরে ধীরে এতে অভ্যাস করে নিন।

দুপুরের আগে বেশি খেয়ে নিন: আমাদের দেহঘড়ি দুপুরের আগের খাবার থেকে কম ক্যালরি জমা করে। তাই সকালে প্রচুর খান। দুপুরের মধ্যে বেশি খেয়ে ফেলেন। রাতে এমন খাবার খাদ্যতালিকায় রাখুন, যা হজম হতে বেশি ক্যালরি পোড়ে। যেমন বাতাবি লেবু, লেটুস, পালং শাক (গাঢ় সবুজ শাক), তরমুজ, কমলা, গাজর, টমেটো, শসা, ফুলকপি, লাল মরিচ ইত্যাদি।

উচ্চক্যালরি খাবার: যদি খেতে ইচ্ছা করে, খুব সামান্য পরিমাণ নিন। ধীরে ধীরে তা, খান ও গন্ধ নিন। মস্তিষ্ক বোঝে, আপনি অনেক আপনার পছন্দের হাই ক্যালরি খাবারটা খাচ্ছেন।

রুটিন করুন: একটা আপনার জন্য সহজসাধ্য রুটিন করুন। শরীরকে রুটিনে বাঁধুন। উপকার পাবেন।

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button