গাজীপুর

গাজীপুরে মা-মেয়ে হত্যার রহস্য উদঘাটন: জড়িত দুই জনকে কালীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : গাজীপুরে গলায় ছুরিকাঘাতে মা-মেয়েকে হত্যার রহস্য উদঘাটন ও জড়িত দুইজনকে কালীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে জিএমপি পুলিশ।

শনিবার (২৭ নভেম্বর) মেট্টোপলিটন পুলিশের সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ-উত্তর) জাকির হাসান।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- কালীগঞ্জের সালদিয়া গ্রামের ছাত্তার খানের ছেলে জাহিদুল ইসলাম খান (২১) এবং একই এলাকার মনির হোসেনের ছেলে মোঃ মহিউদ্দিন ওরফে বাবু (৩৫)।

নিহতরা হলেন. কালীগঞ্জের নরুন বাজার এলাকার বাসির উদ্দিন বেপারীর মেয়ে ফেরদৌসি (৩০) ও তার শিশুকন্যা তাসমিয়া (৫)। ফেরদৌসী এবং আসামিদের বাড়ি পাশাপাশি গ্রামে।

gazipurkontho

সংবাদ সম্মেলনে উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ-উত্তর) জাকির হাসান বলেন, নিহত ফেরদৌসী গাজীপুরের গার্ডিয়ান লাইফ ইন্সুরেন্স নিমিটেডের মাঠকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। ওই ইন্সুরেন্স কেম্পানীতে ভাতিজি লিমাকেও চাকরির ব্যবস্থা করে দেন। চাকরির পাওয়ার পর লিমা তার স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটায়। এ বিচ্ছেদে ফেরদৌসীর ইন্ধন রয়েছে এমন সন্দেহে এবং ইন্সুরেন্সের কিস্তির টাকার জন্য বার বার ফোন দেয়ায় গ্রেপ্তার দুজনে মিলে ফেরদৌসীকে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ড দেখে চিৎকার করলে সাক্ষী মুছে ফেলতে এ সময় মেয়েকেও খুন করা হয়।

উপ-পুলিশ কমিশনার জাকির হাসান জানান, আসামির বাবুর স্ত্রী লীমাকে ওই ইন্সুরেন্স কোম্পানিতে চাকরি পাইয়ে দেয়ার কিছু দিন পর বাবু লিমার মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ। এ বিচ্ছেদের জন্য বাবু তার ফুফু শাশুড়ি ফেরদৌসীকে দায়ী সন্দেহে করে। প্রতিশোধ নিতে সে ফেরদৌসীকে হত্যার পরিকল্পনা করে। অপরদিকে, ফেওদৌসীর নিকট থেকে আসামি জাহিদুল ওই কোম্পানীর বীমা খুললেও বকেয়া ছিল। বকেয়া কিস্তির জন্য তাকে বার বার ফোন ফেরদৌসী। এতে জাহিদুলও ক্ষুব্ধ ছিল এবং হত্যা পরিকল্পনায় বাবুকে সঙ্গ দেয়। পরে তারা ঘটনার দু’দিন আগে হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নের স্থান রেকি করে।

ঘটনার দিন গত বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) বিকেলে জাহিদুল ইসলাম কিস্তির টাকা এবং অন্য আরেকজনকে একটি বীমা করিয়ে দেবে এই কথায় ডেকে নেয়। মেয়ে তাসমিয়াকে নিয়ে ফেরদৌসী সিটি করপোরেশনের হাড়িনালের ভাড়া বাসা থেকে বের হন। পরে জাহিদুল তাদের নিয়ে হাড়িনাল থেকে রিকশাযোগে দেশিপাড়া এলাকায় যান। বাবু আগে থেকেই সেখানে অবস্থান করছিল। ঘটনাস্থলে গিয়ে রিকশা থেকে ফেরদৌসী নামার সঙ্গে সঙ্গে দুজনে (জাহিদুল ও বাবু) ফেরদৌসীর গলায় ছুরিকাঘাত করে। এতে ফেরদৌসী মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ঘটনা দেখে তাসমিয়া চিৎকার করলে জাহিদুল তাকেও গলা কেটে হত্যা করে। পরে মোটর সাইকেলযোগে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে ঘাতকরা। স্থানীয়দের মাধ্যমে পুলিশ খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায় এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় পরিচয় শনাক্ত করা হয়। এ ব্যাপারে নিহতের ভাই ইজ্জত আলী বাদী হয়ে মামলা করেছেন।

জাকির হাসান আরো বলেন, ক্লুলেস এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এক পর্যায়ে কালীগঞ্জের সালদিয়া এলাকার জাহিদুলের হাতে নতুন কাটা দাগ রয়েছে এমন তথ্য পাওয়া যায়। পরে কালীগঞ্জের সালদিয়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। সে সময় ঘটনার বর্ণনা ও জড়িত বাবুর নাম প্রকাশ করে জাহিদুল। পরে বাবুকেও সালদিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যমতে, হত্যায় ব্যবহৃত দুটি ছুরি, মোটরসাইকেল এবং ফেরদৌসীর হাতব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, গাজীপুর মেট্টো পুলিশের এডিসি রেজওয়ান আহমেদ, সদর জোনের এসি রিপন চন্দ্র সরকার, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো: রফিকুল ইসলাম।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close
Close