আলোচিতশিক্ষা

ক্ষমতার দাপট: বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন নিয়োগ মানেই কারও না কারও আত্মীয়!

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : ভাই অফিস সহায়ক। নিজে সহকারী রেজিস্ট্রার। আর স্ত্রী সেকশন অফিসার। এভাবেই কর্মী নিয়োগ চলে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে।

নতুন নিয়োগের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়োগপত্র ভেসে বেড়ালেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে নেই সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য। সর্বশেষ সার্কুলারে কতজন নিয়োগ পেয়েছেন, এ ব্যাপারে জানাতে পারছেন না খোদ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার কিংবা জনসংযোগ কর্মকর্তা। তাহলে প্রশ্ন ওঠে, এই নিয়োগগুলো দেয় কে?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে নিয়োগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন পূর্তকাজের টেন্ডার—সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ করে একটি সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের একজন সাবেক সভাপতি, যিনি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত আছেন।

১১ অক্টোবর নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় সেকশন অফিসার পদে ৬ জন এবং শিক্ষক পদে ১৫ জন নিয়োগ পেয়েছেন। সেকশন অফিসার পদে নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন সহকারী রেজিস্ট্রার রনির স্ত্রী জাহানারা নেওয়াজ স্মৃতি, ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের সাংসদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্যের পুত্রবধূ আইরিন আক্তার ঝুমু, শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলামের স্ত্রী নিশাদ নাভিলা, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক আপেল মাহমুদ, সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী নুসরাত জাহান শিমু এবং সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী ফয়সাল রাব্বী।

এর মধ্যে রনির স্ত্রী নেওয়াজ স্মৃতি সেকশন অফিসার হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, ক্ষমতার দাপটে বিশ্ববিদ্যালয়কে পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছেন ক্ষমতার পালাবদলে ছাত্রদল থেকে ছাত্রলীগে আসা সাবেক এ নেতা। অভিযোগ রয়েছে, ভিসির দপ্তরের সহকারী রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের স্ত্রীকে চাকরি দিয়েছেন তিনি।

বিশেষ সুবিধায় নিজের স্ত্রীকে চাকরি দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে জাকিবুল হাসান রনি ব্যস্ততার অজুহাতে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরবর্তী সময়ে জানাবেন বলে ফোন কেটে দেন। পরে তাঁর মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক ও বর্তমান একাধিক নেতার অভিযোগ, ছাত্রলীগের সভাপতি হওয়ার পরে ‘আঙুল ফুলে কলাগাছ’ হয়েছেন রনি। সহোদর ভাই অফিস সহায়কের কাজ করলেও তিনি চড়েন ৩০ লাখ টাকার গাড়িতে। নেতা হওয়ার পরে বাড়ি করেছেন অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে।

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের একাধিক নেতা বলছেন, সাবেক নেতা হলেও ক্যাম্পাসে রনির প্রভাব-প্রতিপত্তি একটুকু কমেনি। কারণ, তাঁর ভাগনে রাকিবুল হাসান রাকিব বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। বানিয়েছেন রনি। রাকিবের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসের উন্নয়নমূলক কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কেএসপিএল ইউসিসিএল জয়েন্ট ভেঞ্চারের কাছে চাঁদাবাজিরও অভিযোগ উঠেছিল।

এ নিয়ে একাধিক গণমাধ্যমে নিউজ প্রকাশিত হয়। মামা-ভাগনে সিন্ডিকেটের আধিপত্যে নাখোশ খোদ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও। তাঁদের অভিযোগ, বিগত সময়ে রনি ভর্তি-বাণিজ্য, নিয়োগ-বাণিজ্যের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। কিন্তু এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা বরাবরই প্রশ্নবিদ্ধ।

সম্প্রতি শিক্ষক-কর্মকর্তাদের নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার ড. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘কতজন নিয়োগ পেয়েছে তা এখনো আমি জানি না, বিষয়টি পরে জানাব।’

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক প্রার্থীর নিয়োগপত্র ভেসে বেড়ালেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে নেই এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য। সর্বশেষ সার্কুলারে কতজন নিয়োগ পেয়েছেন, এ ব্যাপারে জানাতে পারছেন না খোদ বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা, রেজিস্ট্রার কিংবা ভিসি।

নিয়োগ-বাণিজ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘সম্প্রতি কতজন নিয়োগ পেয়েছে তা আমার সঠিক জানা নাই, তবে সেকশন অফিসার পদে ৬ জন এবং শিক্ষক পদে ১৫ জনের মতো হতে পারে। এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার বলতে পারবে। তবে এখানে টাকাপয়সার লেনদেন হয়নি। আমি আপনি যদি ভালো থাকি, তাহলে জগৎ ভালো থাকবে।’

 

সূত্র: আজকের পত্রিকা

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close
Close