আইন-আদালতআলোচিত

আদালতের রায় প্রতিপালন না করায় ভূমি উপসচিব ও কিশোরগঞ্জের ডিসিকে হাইকোর্টে তলব

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : সরকারি জলমহাল ইজারা নিয়ে আদালতের দেয়া রায় প্রতিপালন না করায় ভূমি মন্ত্রণালয় উপসচিব মো. তাজুল ইসলাম মিয়া ও কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ শামীম আলমকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ৩১ অক্টোবর তাদেরকে আদালতে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এছাড়া, তাদের বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ফারুক হোসেন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এমএমজি পায়েল।

অ্যাডভোকেট ফারুক হোসেন বলেন, গত ১৭ জুন হাইকোর্ট এক রায়ে শিংপুর-নাগরপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিকে একটি জলমহাল লিজ দেয়ার রায় ঘোষনা করেন। পরে আদালতের আদেশটি ৩০শে জুন মামলার বিবাদীদের কাছে সরবরাহ করা হয়। এরপর রিটকারীগণ জল মহালটি নিজেদের পক্ষে পাওয়ার জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের যোগাযোগ করলে সেখান থেকে বলা হয় এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক পদক্ষেপ নেবে।

পরে বলা হয় বিবাদীপক্ষ এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। কিন্তু তারা আপিল না করে জলমহলটি খাস কালেকশনে দিয়ে দেয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৯ আগস্ট আদালতের রায় বাস্তবায়ন না করায় বিবাদীদের প্রতি নোটিশ প্রদান করা হয়। এরপর নোটিশের সন্তোষজনক জবাব না পেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করে সিংপুর-নাগপুর মৎস্য সমিতি।

হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছিল, জলমহাল নীতিমালা অনুসারে অ-মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির অনুকূলে জলমহাল বন্দোবস্ত প্রদান করা যাবে না। জলমহাল নীতিমালা ২০০৯ এর ৫(৪)(ঙ) বিধিতে পরিষ্কারভাবে বলা আছে, আবেদনকারী কোনো মৎস্যজীবী সমিতিতে যদি এমন কোনো সদস্য থাকেন যিনি প্রকৃত মৎস্যজীবী নয়, তাহলে ওই সমিতি জলমহাল বন্দোবস্ত/ইজারা পাওয়ার অযোগ্য বিবেচিত হবে।

 

সূত্র: মানবজমিন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close
Close