আলোচিতজাতীয়

জীবন বীমার এমডি বিক্রি করেন চাকরির প্রশ্ন!

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : জীবন বীমা করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমডি মো. জহুরুল হকের বিরুদ্ধে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাধ্যমে বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। প্রার্থীদের কাছে অর্থের বিনিময়ে তিনি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও খাতা সরবরাহ করেন।

এমন অভিযোগে সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) তার কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এ ছাড়া নিয়োগবাণিজ্য ও ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়েও এদিন অভিযান চালানো হয়। দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিটে আসা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই দুই অভিযান চালানো হয়েছে। এ ছাড়া আরও কিছু অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আটটি দপ্তরে চিঠি দিয়েছে দুদক।

দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ আরিফ সাদেক জানান, জীবন বীমা করপোরেশনের এমডির বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদে লোক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের মাধ্যমে বাণিজ্যের অভিযোগ আসে। অভিযোগটি আমলে নিয়ে গতকাল সেখানে অভিযান চালায় দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নেয়ামুল আহসান গাজীর নেতৃত্বাধীন একটি টিম। অভিযানকালে দুদক টিম জীবন বীমা অফিস থেকে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ও উত্তরপত্রসহ এ সংক্রান্ত বেশকিছু রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করেছে। একই সঙ্গে জীবন বীমার এমডি ও পরিচালকসহ (প্রশাসন) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়। দুদক টিম অভিযোগের অনুসন্ধানের স্বার্থে এ সংক্রান্ত আরও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও সংগৃহীত রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কমিশনে একটি প্রতিবেদন দাখিল করবে।

তিনি আরও জানান, কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নিয়োগবাণিজ্য এবং ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে কলেজ ফান্ডের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এসেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে কুষ্টিয়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. জাকারিয়ার নেতৃত্বে একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে দুদক টিম কলেজ থেকে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে। কিছু অভিযোগের বিষয়ে সুপ্রীমকোর্টে রিট চলমান রয়েছে, যা বর্তমানে আদালতের এখতিয়ারভুক্ত। কলেজ ক্যাম্পাসে দোকান বরাদ্দ ও নতুন ভবন নিমার্ণে যথাযথভাবে নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে কিনা তা যাচাইয়ের জন্য এ সংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টিম কমিশনে একটি প্রতিবেদন দাখিল করবে।

এদিকে দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিটে আসা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ৮টি দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানান মুহাম্মদ আরিফ সাদেক। এর মধ্যে রয়েছে- হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দালালদের সঙ্গে যোগসাজশ করে বহির্বিভাগের টিকিট বিক্রিতে অনিয়ম, এলজিইডি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে লক্ষ্মীছড়ি থেকে সিন্দুকছড়ি পর্যন্ত সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, বরগুনার এলজিইডির ফোরম্যান মো. জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের কাজের বিল ছাড়করণে ঘুষ নেওয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলজিইডি অফিসের উপসহকারী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে কর্মস্থলে মাদক সেবন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দুই একর জায়গা অবৈধভাবে দখল করে বিভিন্ন দোকানপাট নির্মাণ করে ব্যবসা, ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রাহকের জমির খাজনা আদায়ে হয়রানি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই সরকারি রাস্তায় রিং কালভার্ট তৈরি। এ ছাড়া এলজিইডি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে পুরাতন ফেরিঘাট-মহিষেরচর ও বাহেরচর কাতলা গ্রাম পর্যন্ত কোটি টাকার রাস্তা নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, এলজিইডি প্রধান প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলী ময়মনসিংহ ও মাদারীপুর এবং ভোলা ও কুমিল্লার জেলা প্রশাসককে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close
Close