খেলাধুলাশিল্প পুলিশসারাদেশ

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ফাইনাল সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের বিশেষ টহল দল

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ—কোপা আমেরিকার ফাইনালে উঠেছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশের প্রতি জেলায় এই দুই দলের সমর্থক দিয়ে ভরা। এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ পরিস্থিতি ইতিমধ্যে খবরে উঠে এসেছে।

এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সময় ১১ জুলাই ভোর ৬টায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফাইনাল খেলার উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিশৃঙ্খলা এড়াতে ১১৬টি বিট পুলিশের দল মোতায়েন করা হবে। এ ছাড়া ওই দিন ভোররাতে পুলিশের আরও ৪০টি বিশেষ টহল দল মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।

গত মঙ্গলবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের দামচাইল বাজারে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই দিন সকালে প্রথমে কথা-কাটাকাটির জেরে পরে বিকেলে প্রতিপক্ষের হামলায় ব্রাজিলের এক সমর্থকের চাচা নওয়াব মিয়া (৬০) আহত হন। এর জেরে ওই রাতে পাল্টা হামলায় আর্জেন্টিনার তিন সমর্থক জাকির মিয়া (৩২), সেলিম মিয়া (৪৫) ও সৈয়দাবুর রহমান (৩৫) আহত হন। তাঁরা সবাই সাদেকপুর ইউনিয়নের আলাকপুর গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় লোকজন জানান, কোপা আমেরিকার ব্রাজিল বনাম পেরুর মধ্যকার সেমিফাইনাল খেলা শেষে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে ব্রাজিল ফুটবল দলের সমর্থক রেজাউল ইসলামের সঙ্গে আর্জেন্টিনার ফুটবল দলের সমর্থক জীবন মিয়ার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হলে স্থানীয়রা তাঁদের তখনকার মতো নিবৃত্ত করেন। ওই দিন বিকেল পাঁচটার দিকে ব্রাজিল সমর্থক রেজাউলের চাচা নওয়াব মিয়া দামচাইল বাজার এলাকার জমিতে গরুর জন্য ঘাস কাটতে যান। সকালের ঘটনার জেরে আর্জেন্টিনার সমর্থক জীবন মিয়া ও তাঁর সহযোগী আব্দুর রহমান, সেলিম মিয়াসহ ৪-৫ জন যুবক তাঁকে একা পেয়ে মারধর করেন।

এর জের ধরে রাত সাড়ে নয়টার দিকে নওয়াবের ছেলে ব্রাজিলের সমর্থক আরমান মিয়া, আলী হোসেন ও ইসহাক মিয়া দামচাইল বাজারে আর্জেন্টিনার ফুটবল দলের সমর্থক জাকির, সেলিম ও সৈয়দাবুর ও লাল মিয়াকে পেয়ে মারধর করেন। এ খবর ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ বাড়তি নিরাপত্তা গ্রহণ করেছে।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আনিসুর রহমান কয়েক মাস ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের পৌর এলাকাসহ নয়টি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিট পুলিশিং কার্যক্রম চালু করেছে। পৌর এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ড ও প্রতিটি ইউনিয়নে বিট পুলিশিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জেলায় বর্তমানে বিট পুলিশের ১১৬টি বিট রয়েছে। প্রতিটি বিটে একজন উপপরিদর্শক (এসআই), সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও দুজন কনস্টেবল রয়েছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন বলেন, ফুটবল খেলা নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকে পুলিশ সদস্যরা নিজ নিজ বিট এলাকায় স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছেন। এ ছাড়া আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের ফুটবল দলের ফাইনাল খেলার দিন ভোররাত থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ও সদর উপজেলায় ১৫টি বিট পুলিশের দল ও ১০টি পুলিশের বিশেষ টহল দল থাকবে। পুরো জেলায় পুলিশের মোট ৪০টি বিশেষ টহল দল মোতায়েন থাকবে। প্রতি টহল দলে ৪-৫ জন করে পুলিশ সদস্য থাকবেন।

 

সূত্র: প্রথম আলো

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close
Close