গাজীপুর

স্বামী প্রবাসে দুই বছর, কাপাসিয়ায় পরকীয়ায় মত্ত স্ত্রী ৮ মাসের অন্ত:সত্বা: পলাতক ভাতিজা!

বিশেষ প্রতিনিধি : চাচা দীর্ঘ দিন ধরে বিদেশে থাকেন, চাচীকে বাড়িতে একা পেয়ে পরকীয়ায় মত্ত হয়ে নিয়মিত সহবাস করতেন ভাতিজা। ফলে চাচা ছাড়াই চাচী এখন আট মাসের অন্ত:সত্বা। বিষয়টি নিছক গল্পের মতো শোনা গেলেও বাস্তবিকই এমন ঘটনা ঘটেছে কাপাসিয়ার কড়িহাতা ইউনিয়নের কোড্ডাইদ গ্রামে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় এলাকায় বেশ আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

ইতিমধ্যে অভিযুক্ত ভাতিজা গা ঢাকা দিয়েছেন। অপরদিকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ রয়েছেন অন্ত:সত্বা গৃহবধূ চাচীও।

অভিযুক্ত ভাতিজা মহসিন (২২) কোড্ডাইদ গ্রামের আহমদ আলীর ছেলে। সে অন্ত:সত্বা গৃহবধূর চাচাতো ভাসুরের ছেলে।

এলাকাবাসী জানান, মহসিনের চাচা প্রায় দুই বছর আগে দেশে ছুটি কাটিয়ে কাতার যান। এরপর থেকে টানা দুই বছর ধরে চাচা দেশে না থাকলেও তার স্ত্রী রত্না (ছদ্মনাম) এখন আট মাসের অন্ত:সত্তা। এ নিয়ে এলাকায় সালিশ দরবার হলে প্রবাসীর স্ত্রী রত্না মাতাব্বরদের জানায়, তার চাচাতো ভাসুরের ছেলে মহসিন তাকে বাড়িতে একা পেয়ে প্রায়ই ধর্ষণ করতো। মহসিনের দ্বারাই তিনি অন্ত:সত্বা হয়েছেন।

রত্নার শ্বাশুরী বলেন, আমরা মহসিনকে বার বার নিষেধ করতাম খালি বাড়িতে না আসতে। কিন্তু সে নিষেধ মানতো না। বরং আমাদের সাথে খারাপ আচরণ করতো। অবশেষে বিচার সালিশে সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে রত্নাকে মহসিনের সাথে বিবাহ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু মহসিন আগে থেকেই পলাতক থাকায় স্থানীয় মাতাব্বররা রত্নাকে গত ১৪ জুন মহসিনদের ঘরে উঠিয়ে দিয়ে আসেন।

জানা যায়, রত্নাকে মহসিনের বাড়িতে উঠিয়ে দেয়ার ঘটনায় মসহিনের বাবা আহমদ আলী স্থানীয় ওয়ার্ড ইউপি সদস্য সাফিউদ্দিন, ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি ওয়াজ উদ্দিনসহ ১০০-১৫০ জনের নামে কাপাসিয়া থানায় অভিযোগ করেন।

রত্নার বাবা বলেন, থানা পুলিশের ফোন পেয়ে গত ২৫ জুন তিনি রত্নাকে আনার জন্য মহসিনদের বাড়িতে যান। কিন্তু রত্না আসতে না চাওয়ায় তিনি ফিরে আসেন। এর পর তিনি জানতে পারেন, ওই দিন সন্ধ্যায় রত্নাকে মহসিনদের বাড়ি থেকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়েছে। এর পর থেকে তারা রত্নার কোন হদিস পাচ্ছেন না। এ ব্যাপারে থানায় গেলে সাধারণ ডায়েরী বা অভিযোগ কোনটিই পুলিশ গ্রহণ করছে না বলেও অভিযোগ করেন রত্নার বাবা।

এদিকে স্থানীয়রা জানান, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ওয়াজ উদ্দিন, সাবেক ছাত্রীগ নেতা আসাদুল্লাহ ও মোমেন বর্তমানে অভিযুক্ত মহসিনের পক্ষ নিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দিয়ে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছেন।

ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ওয়াজ উদ্দিন বলেন, কাপাসিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুজ্জামান, উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর সঙ্গীয় ফোর্সসহ গ্রামে এসে রত্নাকে মহসিনদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার জন্য মাতাব্বরদের নির্দেশ দেন এবং রত্নার বাবাকে ফোন করে বলেন তার মেয়েকে নিয়ে যেতে।

অভিযুক্ত মহসিন ও তার বাবা আহমদ আলীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মহসিনের মা রেনুজা বেগম বলেন, থানা পুলিশের সহযেগিতায় স্থানীয় মাতাব্বরদের উপস্থিতিতে গত শুক্রবার রত্না তার বাবার সাথে আমাদের বাড়ি থেকে চলে গেছে। রত্না তার বাবার হেফাজতেই আছে বলে তিনি দাবী করেন। রত্নার অন্ত:সত্বার ঘটনায় তার ছেলে মহসিন জড়িত নয় এবং শত্রুতাবশত: তার ছেলেকে জড়ানো হচ্ছে দাবী করে তিনি বলেন, ‘আমার পোলা এই কথা হুইন্যা লজ্জায় কই নিরুদ্দেশ হইয়া গেছে, কই আছে আমরা কিছুই জানি না।’

এদিকে এ ব্যাপারে কাপাসিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীরের সাথে যেগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানি না। ওসি তদন্ত স্যার বিষয়টি জানেন।

কাপাসিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবী করেন তিনি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close
Close