আইন-আদালতআলোচিতজাতীয়সারাদেশ

আদালতে বা থানায় মামলা করার সময় বাদীর এনআইডি নম্বর দিতে হবে: হাই কোর্ট

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : আদালতে বা থানায় মামলা বা অভিযোগ (এফআইরআর) করার ক্ষেত্রে বাদী বা অভিযোগকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর উল্লেখ করতে হবে বলে আদেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।

সংশ্লিষ্ট বিচারিক হাকিম বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে এখন থেকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

এছাড়া পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) ৪৯টি মামলা তদন্ত করে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

‘অস্তিত্বহীন’ বাদীর মামলা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাই কোর্ট বেঞ্চ সোমবার রুলসহ এ আদেশ দেয়।

রিট আবেদনকারীর বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভিন্ন ফৌজদারী মামলার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, সেই সাথে মিথ্যা মামলার দায়েরের মাধ্যমে রিট আবেদনকারীকে যারা হয়রানী করছে- তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দাখিল করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।

স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) ও অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক, র‌্যাবের মহাপরিচালক, ডিএমপি কমিশনার, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) উপ মহাপরিদর্শকসহ ৪০ বিবাদীকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

রিট আবেদনটি করেছিলেন ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, চুরি-ডাকাতি, মানবপাচার, এসিড নিক্ষেপসহ নানা অভিযোগের ৪৯টি মামলার আসামি রাজধানীর শান্তিবাগ এলাকার বাসিন্দা একরামুল আহসান কাঞ্চন।

আদালতে তার আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী এমাদুল হক বসির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

ঢাকার শান্তিবাগ এলাকার বাসিন্দা কাঞ্চনের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, চুরি ডাকাতি, মানবপাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে ওই ৪৯টি মামলা হয়।

আইনজীবী এমাদুল হক বসির বলেন, মারামারির মামলায় ২০১৩ সালের ১৮ আগস্ট সূত্রাপুর থানা পুলিশ একরামুল আহসান কাঞ্চনকে প্রথম গ্রেপ্তার করে। এরপর দুই বছর তিন মাস তিনি কারাগারে ছিলেন। এর মধ্যে ১৭টি মামলা হয়।

পরে ২০১৫ সালের ২১ মে জামিনে বের হয়ে আসেন কাঞ্চন। পরে আরও বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তিনি জামিনে বের হয়ে আসেন।

গত বছর অক্টোবরে নারায়ণগঞ্জের যুগ্ম জেলা জজ আদালতে একটি কারখানার মালিক পরিচয় দিয়ে কাঞ্চনের বিরুদ্ধে ৪৯তম মামলাটি করা হয়। কিন্তু সেই মামলার বাদীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এমাদুল হক বসির বলেন, “এ বিবেচনায় একরামুল আহসান কাঞ্চন ৩৬ মামলায় খালাস পেয়েছেন। বাকি ১৩ মামলায় তিনি জামিনে আছেন।”

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close
Close