গাজীপুর

টঙ্গীতে স্কুলছাত্র মুন্না হত্যাকাণ্ডের প্রায় ২ বছর পর রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ২

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : টঙ্গীতে মেধাবী ছাত্র তৌসিফুল ইসলাম মুন্না(১৪) হত্যাকাণ্ডের প্রায় দুই বছর পর রহস্য উদঘাটন করলো পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই আসামীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হলে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে তারা। 

মঙ্গলবার (৮ জুন) পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর গাজীপুর ইউনিট এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলো, ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট থানার চকমোকামিয়া গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন (২৫) ও জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ থানার জাকিরপাড়ার উসমান আলীর ছেলে মোফাজ্জল (৩১)। আসমামী আনোয়ার স্থানীয় গাজীপুরা নাসির শিকদারের বাড়িতে ও মোফাজ্জল মুক্তার হাজীর বাড়িতে ভাড়া থাকতো।

নিহত তৌসিফুল ইসলাম মুন্না গাজীপুরা সুমন মার্কেট এলাকার মিজানুর রহমান জাহাঙ্গীরের ছেলে। সে উত্তরা শাহিন ক্যাডেট স্কুলের’ অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র ছিল।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পিবিআই জানায়, তৌসিফুল ইসলাম মুন্নাদের পরিবার গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পূর্ব থানাধীন গাজীপুরা সুমন মার্কেট সংলগ্ন চন্দ্রিমা হাউজিংয়ের জনৈক হাবিবুর রহমান এর ৫তলা বাড়ীর ৪র্থ তলায় ভাড়া থাকতো। ২০১৯ সালের ১৮ জুলাই সকাল পৌনে ৮টায় ভিকটিম তৌসিফুল ইসলাম মুন্নাকে বাসায় একা রেখে তার মা মোছাঃ হামিদা আক্তার মুকুল ছোট সন্তান তামিমকে নিয়ে স্থানীয় আবু তালেব মডেল একাডেমিতে যায় এবং এর আগেই সকাল ৭টায় মুন্নার বাবা মিজানুর রহমান জাহাঙ্গীর তার কর্মস্থল ঢাকার বনানীর উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। মুন্নার মা হামিদা আক্তার সকাল সোয়া ১০টায় তার ছোট সন্তান তামিমসহ স্কুল থেকে ফিরে এসে বাইরে থেকে ফ্ল্যাটের দরজা আটকানো অবস্থায় পায় এবং ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেই তার সন্তান তৌসিফুল ইসলাম মুন্নাকে বেডরুমে খাটের উপর উপুর হয়ে রক্তাক্ত ও মৃত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার দেয়। এঘটনায় মুন্নার বাবা বাদী হয়ে টঙ্গী পূর্ব থানায় অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। থানা পুলিশ এ হত্যাকান্ডের কোন ক্লু উদঘাটন করতে না পারায় অবশেষে গাজীপুর পিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। পরে এ হত্যাকান্ডে জড়িত দুই আসামীকে গত সোমবার ভোর রাতে তাদেরকে নিজ নিজ ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দুই আসামীকে মঙ্গলবার (৮ জুন) গাজীপুর আদালতে পাঠানো হলেহ ত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে তারা।

পিবিআই গাজীপুর ইউনিটের প্রধান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান আসামীদের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে জানান, ২০১৯ সালের ১৮ জুলাই ঘটনার দিন সকাল অনুমান ৯টায় বাসায় ভিকটিম এর বাবা ও মা না থাকার সুযোগে ভিকটিম তৌসিফুল ইসলাম মুন্নাকে ডেকে দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশ করে এবং মোবাইল ও ক্যামেরা লুন্ঠন করার সময় ভিকটিম বাঁধা দেয়। সে সময় আসামীরা মুন্নাকে নির্মমভাবে পেটে ছুরি দিয়ে আঘাত করে এবং তার গলাকেটে হত্যা করা হয়। পরে আসামীরা ঘরের স্টীলের আলমিরা ভেঙ্গে একটি ডিজিটাল ক্যামেরা ও মোবাইল সেট লুটে নেয়। মূলত চুরি করার উদ্দেশ্যেই ফ্ল্যাটে প্রবেশ করলে আসামীদেরকে চিনে ফেলায় ভিকটিম তৌসিফুল ইসলাম মুন্নাকে হত্যা করা হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close
Close