আলোচিতসারাদেশ

বাড়ি ফেরা মানুষের ঢল, বাস চালু করতে শাজাহান খানের হুমকি

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : নির্দেশনা অনুযায়ী দেশে পণ্যবাহী ট্রাক পারাপারের জন্য ফেরি চলার কথা সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত।

কিন্তু শনিবার (৮ মে) যাত্রীদের চাপে রাতদিন ২৪ ঘণ্টার জন্যই ফেরি খুলে দেয়া হয়েছে।

সাবেক নৌমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাজাহান খান দ্রুত দূরপাল্লার বাসও চালুর দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় ঈদের দিন এবং ঈদের পরে আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন।

ঈদে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে শুক্রবার রাত থেকেই হাজার হাজার মানুষ মাওয়া ও পাটুরিয়া ফেরিঘাটে হাজির হতে থাকেন। তারা ঢাকা থেকে বিভিন্ন ছোট ও ব্যক্তিগত পরিবহণে ও পায়ে হেঁটে ফেরিঘাটে হাজির হন। রাতেই তাদের চাপে মাওয়া ফেরি চালু হয়। আর শনিবার দুপুর ১২টার পর চালু হয় পাটুরিয়ার ফেরি।

পাটুরিয়া ফেরিঘাটের মহাব্যবস্থাপক জিল্লুর রহমান  জানান, এখানকার ১৬টি ফেরিই এখন পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার জন্য চালু থাকবে। মানুষের চাপে এটা করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না বলে দাবি করেন তিনি। মন্ত্রণালয়ও চাপ সামলাতে ফেরি চালুর অনুমতি দেয়। তিনি বলেন, ‘‘আগেই মাওয়া ফেরি চালু হওয়ায় আমরাও চালু করতে বাধ্য হয়েছি।’’

ফেরিঘাটে সকাল থেকে হয়রানির অভিযোগ করেন সেখানে উপস্থিত কয়েকজন। তারা বলেন ফেরি বন্ধ থাকলেও ভিআইপি ও বিশেষ সুবিধায় অনেকের জন্যই ফেরি চলছিল। যা সাধারণ মানুষকে বিক্ষুব্ধ করে। এক পর্যায়ে তাদের বেশ কয়েকবার ফেরিতে তুলে আবার নামিয়ে দেয়া হয়।

দূরপাল্লার বা আন্তঃজেলা বাস না চললেও মানুষ মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, পিকআপ, জেলার মধ্যে চলাচলরত বাস ও ভ্যানে করে গ্রামের বাড়ি রওনা হয়েছেন।

কেন বাড়ি ছুটছেন মানুষ?

ঢাকার মিরপুরের আলাউদ্দিন আহমেদ ছোট ব্যবসা করেন। থাকেন মিরপুরে৷ করোনায় তার ব্যবসা বন্ধ। গ্রামের বাড়ি বরিশালের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন তিনি। কেন করোনার মধ্যেও গ্রামের বাড়ি যেতে হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘ব্যবসা বন্ধ। পরিবার পরিজন নিয়ে ঢাকায় থাকার কোনো উপায় নেই। এখানে থাকলে না খেয়ে মরব। করোনায় মরব।’’

তিনি জানান, মিরপুর থেকে ছয়-সাত বার যানবাহন পরিবর্তন করে পাটুরিয়া ফেরিঘাটে পৌঁছান। ফেরি পার হয়ে এভাবেই যানবাহন পরিবর্তন করে করে বাড়ি যাবেন। জেলার ভেতরে যে বাস চলছে সেগুলোই তার ভরসা। তবে এজন্য অতিরিক্ত খরচ গুণতে হচ্ছে তাকে।

মোহাম্মদ কাওসার থাকেন কল্যাণপুরে। সকালেই তিনি অনেক কষ্ট করে ফেরিঘাটে স্ত্রীকে নিয়ে হাজির হয়েছেন। তার চাকরি চলে গেছে করোনায়। ঢাকায় থাকার মত কোনো উপায় নাই। বাসাভাড়াও দিতে পারছেন না। ‘‘করোনা হোক আর যাই হোক ঢাকায় থাকার উপায় নেই। ঢাকায় থাকলে না খেয়ে মরতে হবে,’’ বলেন কাওসার।

তবে সবাই যে এই পরিস্থিতিতে ঢাকা ছাড়ছেন তা নয়৷ অনেকই ব্যক্তিগত গাড়ি বা ২৫-৩০ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে মাইক্রোবাসে ঢাকা ছাড়ছেন। তারা আসলে গ্রামে সবার সাথে ঈদ করতে যাচ্ছেন।

সেরকমই একজন সোহরাব আলম বলেন, ‘‘সবার সাথে ঈদ করতে চাই৷ ঢাকায় ঈদে তো ঘরবন্দি হয়ে থাকতে হবে। সাবধানে যাচ্ছি৷ স্বাস্থ্যবিধি মানার চেষ্টা করছি।’’

কিন্তু এই হাজার হাজার মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো উপায় নাই। ফেরিঘাটের মহাব্যবস্থাপক জিল্লুর রহমান বলেন, ‘‘আমাদের পক্ষে স্বাস্থ্যবিধি মানানো সম্ভব নয়। এত মানুষের মধ্যে কীভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানানো সম্ভব?’’

‘দূরপাল্লার বাস চলবেনা কেন’

সরকার ১৬ মে পর্যন্ত লকডাউনের ঘোষণা দিলেও দোকান-পাট, সুপার মার্কেট সব খুলে দেয়া হয়েছে। সিটি সার্ভিস বাস ও জেলার মধ্যে বাস চলাচলও শুরু হয়েছে। তাই দূরপাল্লার বা আন্তঃজেলা বাস অবিলম্বে চালুর দাবি জানিয়েছেন শাজাহান খান। তিনি বলেন, ‘‘সবকিছু খোলা থাকলে দূরপাল্লার বাস চলবেনা কেন? আমরা অবিলম্বে বাস চালুর দাবি জানিয়েছি।  অন্যথায় ঈদের দিন দুপুর ১০টা থেকে দুই ঘণ্টা সব বাস টার্মিনালে অবস্থান ধর্মঘট পালন করব। ঈদের পর আরো কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।’’ তিনি দাবি করেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনেই বাস চালানো হবে। অর্ধেক আসন খালি রাখা হবে।

তাদের পক্ষ থেকে যাননবাহন মেরামত, র্কমচারী ও শ্রমিকদের বতেন-ভাতা ও ঈদ বোনাস ইত্যাদি দেয়ার জন্য গাড়ির মালকিদের নাম মাত্র সুদে ও সহজ শর্তে পাঁচ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনারও দাবি করা হয়েছে সরকারের কাছে।

দেশে ১৩ মে থেকে তিন দিনের ঈদের ছুটি শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই করোনায় যার যার অবস্থানে থেকে ঈদ করার আহ্বান জানিয়েছেন। আর সরকারি কর্মকর্তারা ছুটিতেও কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না বলে আদেশ দেয়া হয়েছে।

 

সূত্র: ডয়চে ভেলে

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close
Close