গাজীপুর

কালীগঞ্জে ঈদের শপিং-এ গিয়ে টাকা, মোবাইল খুইয়ে কাঁদছিলেন নারী, উদ্ধার করলো পুলিশ

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : ঈদের কেনাকাটা (শপিং) করতে মার্কেটে যায় দিপা (ছদ্মনাম), বয়স ৩৩। মার্কেটের একটি ফ্যাশন হাউজে বসে ভ্যানিটি ব্যাগ পাশে রেখে বোরকা পছন্দ করছিলেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখতে পান পাশে রাখা ব্যাগটি আর নেই। এরপর শুরু করলেন চিৎকার ও কানাকাটি। সে সময় আশপাশে থাকা লোকজন এগিয়ে আসে। এরপর সকলে মিলে মার্কেটে থাকা ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় (সিসিটিভি) ধারণ করা ভিডিও যাচাই করেন। তাৎক্ষণিক শনাক্ত করতে সক্ষম হন ব্যাগ চুরি করা এক নারীকে। সে সময় পাশের এক দোকানে অবস্থান করছিলেন ওই নারী। এরপর তাকে ধরে ফেলেন লোকজন। কিন্তু এই অল্প সময়ের ব্যবধানেই চুরি করা ব্যাগটি তিনি পাচার করে দেন। খবর দেয়া হয় কালীগঞ্জ থানা পুলিশকে।

গত বৃহস্পতিবার (৬ মে) বেলা সাড়ে দশটার দিকে কালীগঞ্জ বাজারের একতা শপিং কমপ্লেক্স এ ঘটনা ঘটে।

এরপর পুলিশ ওই নারীকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার এক পর্যায়ে অপকটে স্বীকার করেন ব্যাগ চুরির ঘটনা।  কিন্তু ব্যাগ কোথায় সে সম্পর্কে মুখ খুলতে কিছুটা বিলম্ব করছিলো। এর মধ্যেই সংবাদ পাওয়া যায় অন্য এক নারী চুরি হওয়া ব্যাগটি কুড়িয়ে পেয়েছেন। কিন্তু ব্যাগের মধ্যে থাকা নগদ দশ হাজার টাকা, একটি মোবাইল এবং স্বর্ণের গহনা কিছুই নেই। রয়েছে শুধু ব্যাংকের একটি চেক।

পরে দ্বিতীয় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় আটক ওই নারীকে। এরপর তিনি জানান, ব্যাগে থাকা টাকা, মোবাইল এবং গহনা তার সহযোগী সবজিকে (২০) দিয়ে আগেই পাচার করে দিয়ে ব্যাগটি ফেলে দিয়েছিলেন বলে।

এরপর চুরি হওয়া টাকা ও মালামাল উদ্ধারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এর মধ্যেই কেটে যায় গোটা দিন।

পরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আটক ওই নারীকে নিয়ে পুলিশ রওনা হয় তার বাড়ির দিকে। রাত সাড়ে নয়টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের সোম বাড়িয়া বাজার এলাকায় পৌঁছে সহযোগী সজিবকে আটক এবং চুরি হওয়া নগদ দশ হাজার টাকা, মোবাইল ফোন এবং স্বর্ণের গহনা উদ্ধার করে জব্দ করে পুলিশ। আর এভাবেই শেষ হয় উদ্ধার অভিযান।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলছিলেন কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুকান্ত বিশ্বাস।

সুকান্ত বিশ্বাস বলেন, ”এ ঘটনায় আটক দু’জনেকে আসামি করে ভুক্তভোগী ওই নারী বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন {মামলা নাম্বার ২(৫)২১}।”

মামলার নথিপত্র সূত্রে জানা গেছে, ১৮৬০ সালের পেনাল কোড এর ৩৮০/৪১১ ধারা অনুযায়ী চুরি ও চোরাই মালামাল নিজ হেফাজতে রাখার অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে মামলায়। এছাড়াও চোরাই মালামালের মূল্য দেখানো হয়েছে নগদ টাকাসহ ৪২ হাজার টাকা। আসামি দু’জনের পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছে, কাপাসিয়া থানার নলগাঁও এর কাজাহটি গ্রামের ইউসুফের স্ত্রী মোসা: হাসি(৩০) এবং তার সহযোগী একই এলাকার বকুলের ছেলে সজিব (২০)।

ভুক্তভোগী ওই নারীর বাড়ি কালীগঞ্জের দক্ষিণ সোম এলাকায়। তবে তিনি কালীগঞ্জ পৌরসভার মুনসেফপুর গ্রামে ভাড়া বাসায় থাকেন।

কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুকান্ত বিশ্বাস আরো বলেন, “গ্রেপ্তার দু’জনকে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া নগদ টাকা ও মালামাল জব্দ করে আদালতে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ভুক্তভোগীকে তা হস্তান্তর করা হবে।”

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close
Close