গাজীপুর

কালীগঞ্জে মসজিদ ও নদীর জমি থেকে ”মাটি চুরি”, অভিযোগ করে উল্টো বিপাকে যুবক!

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : কালীগঞ্জের মূলগাঁও এলাকায় মসজিদ ও নদীর জমি থেকে মাটি চুরির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ করে উল্টো হামলার শিকার হয়ে থানায় এজাহার দায়ের করেছে ভুক্তভোগী এক যুবক।
”হামালার ঘটনায় গত ১৭ এপ্রিল থানায় এজাহার দায়ের করলেও এখনো মামলা নথিভুক্ত করেনি পুলিশ!”
তবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন।
ভুক্তভোগী সুমন মিয়া (৩২) কালীগঞ্জ পৌরসভার মূলগাঁও দক্ষিণ চরপাড়া বাইতুল আমান জামে মসজিদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং একই এলাকার মৃত রশিদ মিয়ার ছেলে।
অভিযুক্তরা হলো পৌরসভার মূলগাঁও চরপাড়া এলাকার মৃত ওয়াজ উদ্দিনের ছেলে মনির হোসেন (৩৮), আক্তার হোসেন (৩৮) এবং নীলা কানিজ ফাতেমা। এছাড়াও একই এলাকার সাজেন মিয়া (২৮) এবং অজ্ঞাত আরও ৫/৬ জন।
থানায় দায়ের করা এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, “মূলগাঁও দক্ষিণ চরপাড়া বাইতুল আমান জামে মসজিদের পাশে থাকা শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী সরকারি সম্পত্তি থেকে চুরি করে মাটি কেটে বিক্রির মাধ্যমে সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি করে আসছিল অভিযুক্তরা। এ বিষয়ে গত ২২ ফেব্রুয়ারি ২০ টাকা মূল্যমানের কোর্ট ফি সংযুক্ত করে কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে সুমন মিয়া। পরবর্তীতে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও (ইউএনও) জানানো হয়। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মাটি কাটা বন্ধ করে দেন।”
এজাহারে উল্লেখ রয়েছে, “গত ১৭ এপ্রিল বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে অভিযুক্তরা পূণরায় অবৈধভাবে মসজিদের জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রির করতে থাকে। সে সময় তাদের মাটি কাটা বন্ধ করতে বললে অভিযুক্তরা সুমন মিয়াকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ভয়ভীতি দেখায় এবং মারার জন্য ধাওয়া করে। পরে সুমন ঘটনাস্থল ছেড়ে বাড়িতে চলে যায়। পরে অভিযুক্তরা তার বাড়িতে গিয়ে হামলা চালিয়ে সুমনের ঘরের দরজা-জানালা ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। সে সময় আশপাশে থাকা সুমনের আরো তিন ভাই এগিয়ে আসলে তাদেরসহ সুমনকে মারধর করে অভিযুক্তরা। এছাড়াও অভিযুক্তরা সুমনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার এবং মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। এরপর তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা।”
ভুক্তভোগী সুমন মিয়া বলেন, “ঘটনার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ওই দিনই আমি নিজে বাদী হয়ে থানায় এজাহার দায়ের করেছি। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কিন্তু এখনো অভিযুক্ত কাউকে আটক করেনি এবং মামলাও নথিভুক্ত করেনি। এ অবস্থায় আমিসহ আমার পরিবারের অন্য সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
অভিযোগ তদন্তকারী কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন বলেন, “ঘটনার সময় ‘জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯’ থেকে সুমনের কল পেলে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পরবর্তীতে উভয়পক্ষই থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। দু’পক্ষের লোকজন চিকিৎসাধীন রয়েছে। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিবলী সাদিক বলেন, “অবৈধভাবে মাটি কাটার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করে মাটি কাটা বন্ধ করে রাখার জন্য বলা হয়েছে। উভয় পক্ষের জমির নথিপত্র পর্যালোচনা করে পরবর্তী ব্যাবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।”

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close
Close