গাজীপুর

খেলাপি ঋণের দায়ে আ.লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : খেলাপি ঋণের দায়ে কালীগঞ্জের জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী গাজী সারওয়ার হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ মার্চ) বিকেলে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ফারিজা নুর।

”সম্প্রতি ময়মনসিংহের গৌরীপুরে অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনে খেলাপি ঋণের তথ্য গোপন করে বিজয়ী হওয়া প্রার্থীর নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট বাতিল চেয়ে মামলা করেছেন আওয়ামী লীগের মনোনীত পরাজিত প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম হবি।”

”বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে সম্ভাব্য কোনো প্রার্থীর ১ টাকা খেলাপি ঋণ থাকলেও তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অযোগ্য হবেন। গ্রাহকদের ক্রেডিট কার্ড বা সাধারণ ঋণের ক্ষেত্রেও ১ টাকা খেলাপি ঋণের বিধান প্রয়োজ্য হবে।”

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও তুমুলিয়া, বক্তারপুর এবং জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ফারিজা নুর জানান, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর ব্যাংকে খেলাপি ঋণ থাকায় গাজী সারওয়ার হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তবে তিনি আপিল করতে পারবেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তা আরও জানান, জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৪ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। তারা হলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত আমানুল্লাহ দর্জি, জাকের পার্টি মনোনীত মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাদানী খান, স্বতন্ত্র আবদুল জলিল এবং মো.নেছার উদ্দিন। প্রার্থিতা বৈধ হয়েছে। এছাড়াও সংরক্ষিত সদস্য পদে ১০ এবং সাধারণ সদস্য পদে ২৮ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে।

কোন প্রার্থী চাইলে তিন দিনের মধ্যে আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল দায়েরের করতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে আপিল দায়েরের নির্ধারিত তারিখের পরবর্তী তিনদিনের মধ্যে আপিল নিস্পত্তি করবেন আপিল কর্তৃপক্ষ।

প্রসঙ্গত, আগামী ১১ এপ্রিল কালীগঞ্জের উপজেলার ৬ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে সম্ভাব্য কোনো প্রার্থীর ১ টাকা খেলাপি ঋণ থাকলেও তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অযোগ্য হবেন। গ্রাহকদের ক্রেডিট কার্ড বা সাধারণ ঋণের ক্ষেত্রেও ১ টাকা খেলাপি ঋণের বিধান প্রয়োজ্য হবে। তবে কৃষি খাতের ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতা এবং এ খাতের মেয়াদি ঋণের খেলাপি গ্রাহকদের ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হবে না।

সূত্র জানায়, আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবিতে ৫০ হাজার ও তার বেশি অঙ্কের ঋণের স্থিতি অন্তর্ভুক্ত হতো। এছাড়া ক্রেডিট কার্ডের বিপরীতে ১০ হাজার ও তার বেশি অঙ্কের ঋণের স্থিতি সিআইবির আওতায় আসত। এর নিচের অঙ্কের কোনো ঋণের তথ্য সিআইবিতে অন্তর্ভুক্ত হতো না। এর নিচে কোনো গ্রাহক খেলাপি হলেও তাদের নাম সিআইবিতে থাকত না। ফলে তারা নির্বাচনে পার পেয়ে যেতেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৮ সালের ২৬ এপ্রিল এক সার্কুলার জারির মাধ্যমে সিআইবিতে জমা দেয়া ঋণের অঙ্কের ব্যাপারে আগে প্রচলিত নীতিমালায় পরিবর্তন এনেছে। ওই সার্কুলার অনুযায়ী, এখন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় কোনো গ্রাহকের নামে ১ টাকা ঋণ থাকলেও সেই তথ্য সিআইবিতে জমা দিতে হয়।

একই সঙ্গে ঋণের বিপরীতে কী পরিমাণ জামানত আছে, ঋণটি খেলাপি কি না, কতবার নবায়ন করা হয়েছে- এসব তথ্য সিআইবিতে থাকে। ক্রেডিট কার্ডসহ সব ধরনের ঋণ এর আওতায় থাকে।

গত ৪ মার্চ ময়মনসিংহের যুগ্ম জেলা জজ প্রথম ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল আদালতে দায়ের করা মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গৌরীপুর পৌরসভা নির্বাচনে বিজয়ী মেয়র প্রার্থী সৈয়দ রফিকুল ইসলাম তার ভাই সৈয়দ মাজহারুল ইসলামের সৈয়দ ফার্নিচার মার্টের শেয়ারের মালিক। ব্যবসা বাড়াতে যৌথ মালিকানাধীন সম্পত্তি গৌরীপুর বাজার শাখা সোনালী ব্যাংক লিমিটেডে বন্ধক রেখে সৈয়দ রফিকুল ইসলাম ঋণ নেন। কিন্তু ৩০ ডিসেম্বর হলফনামায় নিজেকে ঋণ খেলাপি উল্লেখ না করে হলফনামা দাখিল করেন।

গত ২ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক নুরজাহান আখতার কর্তৃক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সৈয়দ রফিকুল ইসলামকে ঋণ খেলাপি হিসেবে চিঠি দিয়েছেন। ওই তথ্যের ভিত্তিতে গত ৩ জানুয়ারি গৌরীপুর পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহিম সৈয়দ রফিকুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন।

এরপর ৪ জানুয়ারি সৈয়দ রফিকুল ইসলাম ময়মনসিংহের সাবেক জেলা প্রশাসক ও গৌরীপুর পৌরসভা নির্বাচনের আপিল কর্তৃপক্ষ বরাবর আপিল দাখিল করেন। পরে মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন অনাদায়ী ঋণের জন্য সৈয়দ রফিকুল ইসলামের অনাদায়ী ঋণের বিষয়ে জেলা আপিল কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসককে তথ্য গোপন ও প্রভাবিত করে নিজেকে ঋণখেলাপি নয় বলে দেখাতে সমর্থ হন। নচেৎ সৈয়দ রফিকুল ইসলাম মেয়র পদে থাকার যোগ্য প্রার্থী ছিলেন না।

অর্থাৎ সৈয়দ রফিকুল ইসলাম মনোনয়নপত্র জমাদানের তারিখে ঋণখেলাপি ছিলেন এবং তার মনোনয়নপত্র বৈধ ছিল না। ফলে অবৈধ মনোনয়নপত্র মূলে সৈয়দ রফিকুল ইসলামের গৌরীপুর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচন, অর্জিত ফলাফল বেআইনি দাবি করা হয়েছে এবং সেই নির্বাচনী ফলাফল বাতিল করে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী অপর বৈধ মেয়র পদ প্রার্থীদের মধ্যে বেশি ভোট পাওয়া শফিকুল ইসলাম হবিকে মেয়র নির্বাচিত ঘোষণার দাবি করা হয়েছে এ মামলায়।

 

আরো জানতে….

হলফনামায় তথ্য গোপন: পৌরসভা নির্বাচনের গেজেট বাতিল চেয়ে মামলা

ইউপি নির্বাচন: কালীগঞ্জে চেয়ারম্যান পদে ২০ প্রার্থীসহ ২৮৮ জনের মনোনয়ন বৈধ

কালীগঞ্জে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলেন বর্তমান ৫ চেয়ারম্যান এবং নতুন ১ প্রার্থী

প্রতীক বরাদ্দের আগে নির্বাচনী প্রচার নয়: ২টার আগে ও ৮টার পরে মাইক বাজানো যাবে না

ইউপি নির্বাচন: কালীগঞ্জের ছয় ইউনিয়নে আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ১২ জন

ইউপি ভোট: নির্বাচনী এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তাহার পক্ষ অনুদান-ত্রাণ বিতরণ নয়

‘মাইম্যান প্রার্থী করতে জনপ্রিয়দের বাদ’, দলীয় ফরম বিক্রি উন্মুক্ত করল আওয়ামী লীগ

কালীগঞ্জের ৬ ইউনিয়নে ভোট ১১ এপ্রিল: সীমানা সংক্রান্ত জটিলতায় নাগরী!

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close
Close