গাজীপুর

কালীগঞ্জ পৌর ‘নির্বাচনের ফলাফলের কপি’ দিতে অস্বীকৃতি রিটার্নিং কর্মকর্তার!

বিশেষ প্রতিনিধি : বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের তফসীল অনুযায়ী ২৮ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ৫ম ধাপের পৌরসভা পর্যায়ের নির্বাচন। এদিন কালীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনও একই দিনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এবারই প্রথম কালীগঞ্জ পৌরসভার সবকটি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া ভোট শেষ হয় বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ইভিএম পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়াতে কেন্দ্র প্রতি ফলাফল পেতে খুব বেশি সময় পেতে হয়নি। বিকেল ৫টার পর পরই ফলাপল পেতে শুরু করে স্থানীয়রা। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ধ্যা পৌণে ৮টার দিকে উপজেলার শহীদ ময়েজ উদ্দিন অডিটোরিয়ামে এ ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কাজী মো. ইস্তাফিজুল হক আকন্দ।

এদিকে, রাতে ফলাফল ঘোষণা করার পর বিজয়ী মেয়র, সাধারণ ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলরের হাতে বিজয়ী হিসেবে ফলাফলের কোন কপি তুলে দিতে পারেননি রিটার্নিং কর্মকর্তা। বিজয়ীদেরকে পরদিন (০১ মার্চ) সোমবার সকালে নির্বাচন অফিসের এসে ফলাফলের কপি গ্রহন করতে বলেন। সকাল ১১টা থেকে বিজয়ী জনপ্রতিনিধিরা উপজেলা নির্বাচন অফিসে ভীর করলেও ফলাফলের কপি এখনো তৈরি হয়নি বলে তাদের ১ থেকে দেড় ঘন্টা পরে আসতে বলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কাজী মো. ইস্তাফিজুল হক আকন্দ। পরে আবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বিজয়ী জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচন অফিসে গেলে এখনো রেজাল্ট সীট তৈরি হয়নি বলে দুপুরের পর আসতে বলেন ওই নির্বাচন কর্মকর্তা। প্রায় একটি মাস নির্বাচনী মাঠে কাজ করে বেড়ানো বিজয়ী জনপ্রতিনিধিরা অনেকটাই ক্লান্ত হয়েছেন। এতো সময় নিয়ে বেসরকারীভাবে ফলাফলের কপি পেতে বিলম্ব হওয়ায় ওই নির্বাচন কর্মকর্তার উপর বিরক্ত হয়েছেন বিজয়ী জনপ্রতিনিধি ও তাদের কর্মী ও সমর্থকরা। অবশেষে সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে বিজয়ী জনপ্রতিনিধিদের ফলাফলের কপি তুলে দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও গাজীপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কাজী মো. ইস্তাফিজুল হক আকন্দ।

অরদিকে নির্বাচনের ফলাফলের কপি স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা চাইলে তা দিতে অস্বীকৃতি জানান, পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কাজী মো. ইস্তাফিজুল হক আকন্দ।

কেন ফলাফলের কপি দেওয়া যাবে না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, ‘ফলাফলের কপি সাংবাদিকদের দেওয়ার কোন নিয়ন নেই’। তবে বিজয়ী প্রার্থীদের দেওয়া হয়েছে তাদের কাছ থেকে ছবি তুলে বা ফটোকপি করে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। প্রার্থীদের কাছ থেকে ফলাফলের কপি পেতে হলে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে যেতে হবে এমন প্রশ্নের জাবাবে তিনি বলেন, আর কোন ব্যাখ্যা দিতে আমি রাজি না।

এ ব্যাপারে গাজীপুর জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন বলেন, আমার জানা মতে নির্বাচনের ফলাফলের কপি সাংবাদিকদেরকে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তাই সরবারাহ করার উচিত।

গাজীপুর জেলা প্রশাসক এস. এম তরিকুল ইসলাম বলেন, যেহেতু কালীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কাজী মো. ইস্তাফিজুল হক আকন্দ দায়িত্বে ছিলেন, সেহেতু কেন দিতে পারবেন না সেটা ওনিই ভাল বলতে পারবেন। তবে বিষয়টি নিয়ে ওই রিটার্নিং কর্মকর্তার সাথে কথা বলবেন বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close
Close