গাজীপুর

মসলিন কটন মিলের শ্রমিকদের পাওনা ২০০ কোটি টাকা পরিশোধের দাবিতে মানববন্ধন

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : বাংলাদেশের শিল্প অগ্রসরতা তথা বস্ত্র শিল্পের এক ঐতিহ্যবাহী শিল্প প্রতিষ্ঠানের নাম ‘মসলিন কটন মিল’। ১৯৫২ সালে কালীগঞ্জ উপজেলার ভাদার্ত্তী গ্রামে স্রোতস্বিনী শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে নয়নাভিরাম স্থানে ১০০ একর ভূমির উপর প্রতিষ্ঠা করে তৎকালীন এশিয়ার সর্ববৃহৎ কাপড় কল ‘মসলিন কটন মিল’ পাকিস্তান শিল্প উন্নয়ন করপোরেশন (পিআইডিসি)।

১৯৫৪ সালে উৎপাদন শুরু হলে স্পিনিং বা সুতা বিভাগে টাকুর সংখ্যা ৪৮ হাজার, বয়ন বিভাগে লুম সংখ্যা ৪৯৬ এবং ডাইং ও ফিনিশিং বিভাগ ছিল। সে সময় ২ হাজার ৮ শ’জন শ্রমিক, ২৭০ জন কর্মচারী এবং ৩৫ জন কর্মকর্তা কর্মরত ছিলেন। প্রতিদিন গড়ে ১৫ হাজার টন পর্যমত্ম সুতা এবং সোয়ালক্ষ মিটার কাপড় উৎপাদিত হত ‘মসলিন কটন মিলে’।

এরপর কয়েক দফা মালিকানা পরিবর্তন হতে হতে সর্বশেষ ২০০১ সালে বন্ধ হয়ে যায়  মসলিন কটন মিল। বন্ধের সময়  শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা ছিলো প্রায় ২০০ কোটি টাকা।

সেই টাকা পরিশোধের দাবিতে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন মসলিন কটন মিল শ্রমিকরা। মানববন্ধন শেষে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী কাছে স্মারকলিপি দেন শ্রমিকরা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম মিলস লিমিটেড শ্রমিক কর্মচারী নিয়োগসূত্রে আমরা রাষ্ট্রের শ্রমিক কর্মচারী। আমাদের জানা মতে মসলিন কটন মিলের জমির পরিমান প্রায় ১০০ একর।  এর মধ্যে থাকা স্থাপনা ও ১২০টি মেশিনসহ অন্যান্য মালামল মিলে বর্তমান বাজার মূল্য হবে প্রায় ৩ থেকে ৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে শ্রমিকদের পাওনা টাকা আছে প্রায় ২০০ কোটি টাকার বেশি। এ ন্যায্য পাওনা পরিশোধে কতিপয় ব্যক্তি লুকোচুরি করেছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।

শ্রমিক নেতারা বলেন, বারবার তাগাদা দিলেও ন্যায্য পাওনা না পেয়ে অবশেষে আমাদেরকে রাস্তায় আন্দোলনে নামতে হয়েছে। আমরা চাই অনতিবিলম্বে আমাদের পাওনা মিটিয়ে দেয়া হোক। অন্যথায় আরও বড় ধরনের আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দেন তারা।

মসলিন কটন মিলস লিমিটেডে সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি শেখ রফিকুল আলম রতনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান এম এ ভাসানী, কাজী আরেফ ফাউন্ডেশনের সভাপতি কাজি মাসুদ আহমেদ, গণফোরামের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা আহমেদ, মসলিন কটন মিলস লিমিটেড সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান এম এ ভাসানী আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় কোন লোক ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত থাকলে জাতীয় নেতাদের আত্মা কষ্ট পায়। তাই আর কাল বিলম্ব না করে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধ করে দেয়ার জন্য বস্ত্র ও পাটমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য: ২০১৩ সালের ০৩ আগস্ট তৎকালীন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি’র চেষ্টায় ঐতিহ্যবাহী ‘মসলিন কটন মিল’ ভিন্ন নামে বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করা হয়। ওই দিন মসলিন কটন মিলস উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে কারখানাটি ফের চালু করার ঘোষণা দেন তৎকালীন পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী।

হা-মীম গ্রুপের পক্ষে রিফাত গার্মেন্টস ১৩৫ কোটি টাকায় মিলটি তখন কিনে নিয়েছে। বর্তমানে হা-মীম ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে রূপান্তরিত হয়ে রিফাত গার্মেন্টস পোশাক উৎপাদন করছে ঐতিহ্যবাহী ‘মসলিন কটন মিলে’।

 

আরো জানতে….

বস্ত্র শিল্পের এক ঐতিহ্যবাহী শিল্প প্রতিষ্ঠানের নাম ‘মসলিন কটন মিল’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close
Close