গাজীপুর

৯৯৯-এ ফোনের চার ঘণ্টার মধ্যেই অপহৃত মাদ্রাসা ছাত্রকে উদ্ধার করেছে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন কল পেয়ে কালীগঞ্জের নাগরী ইউনিয়নের নগরভেলা থেকে অপহৃত এক মাদ্রাসা ছাত্রকে চার ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার করেছে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) রাত দশটার দিকে গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকা থেকে অপহৃত ওই মাদ্রাসা ছাত্রকে উদ্ধার করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬ টা ২ মিনিটে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন কল করে অপহরণের বিষয়টি পুলিশকে জানান মাদ্রাসা ছাত্রের স্বজনরা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালীগঞ্জ থানার উলুখোলা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম।

উদ্ধার হওয়া মাদ্রাসা ছাত্র আশফাক (১৩)। সে নাগরী ইউনিয়নের নগরভেলা গায়েন বাড়ির আরশেদ আলী ফিরোজের ছেলে। সে নগরভেলা এলাকার মাদরাসাতুল কাউসার আল ইসলামিয়ার হেফজ বিভাগের ছাত্র।

উদ্ধার হওয়ার পর পুলিশের সঙ্গে মাদ্রাসা ছাত্র আশফাক।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬ টা ২ মিনিটে কালীগঞ্জের নাগরী ইউনিয়নের নগরভেলা গ্রাম থেকে এক ব্যক্তি ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯’-এ ফোন করে জানান আশফাক নামে এক ছাত্রকে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে অপহরণ করা হয়েছে। অপহরণকারীরা ছাত্রের স্বজনদের কাছে ফোনে মুক্তিপণ হিসেবে ১ লাখ টাকা দাবি করেছে এবং টাকা না দিলে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে।

অপহৃত মাদ্রাসা ছাত্রের স্বজনরা জানান, আশফাক বিকেলে বাড়ি থেকে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে মোটরসাইকেলে তুলে উলুখোলার দিকে নিয়ে যায় অপহরণকারীরা। দুই মোটরসাইকেলে চারজন অপহরণকারী ছিলো। পরে অপহরণকারীরা আশফাকের বাবার ফোনে কল করে মুক্তিপণ হিসেবে ১ লাখ টাকা দাবি করে এবং টাকা না দিলে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এরপর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির বিষয়ে বিস্তারিত পুলিশকে জানানো হয়। পরে কালীগঞ্জ থানার উলুখোলা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপহরণকারীদের দেওয়া বিকাশ নাম্বারের লোকেশন ট্রাক করে রাত দশটার দিকে গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আশফাককে উদ্ধার করেন।

কালীগঞ্জ থানার উলুখোলা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬ টা ২ মিনিটে ৯৯৯-এ থেকে কল পেয়ে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানতে পারি। তাৎক্ষণিকভাবে অপহরণকারীদের বিকাশ নাম্বারের সূত্র ধরে উদ্ধার অভিযান শুরু করি। প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপহরণকারীদের বিকাশ মোবাইল নাম্বারের লোকেশন ট্রাক করার এক পর্যায়ে জানা যায় তারা আশফাককে অপহরণের পর ঢাকা বাইপাস সড়ক ধরে মিরেরবাজার হয়ে ভোগড়া বাইপাস অতিক্রম করে কালিয়াকৈরের চন্দ্রা এলাকায় নিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে আবার গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় এসে অবস্থান করছিলো। অবশেষে রাত ১০ টার দিকে গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অপহৃত মাদ্রাসা ছাত্র আশফাককে উদ্ধার করা হয়। তবে অপহরণকারীরা পালিয়ে যায়। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে।

তিনি আরো বলেন, ৯৯৯-এ ফোন করার চার ঘণ্টার মধ্যেই অপহৃত মাদ্রাসা ছাত্রকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close
Close