আলোচিতসারাদেশ

মার্চ থেকে ধাপে ধাপে ইউপি ভোট

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : সরগরম পৌরসভা নির্বাচনের প্রচারণার মধ্যে এবার স্থানীয় সরকারের আরেক প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পৌরসভায় ভোটগ্রহণ চলছে। এরই মধ্যে প্রথম ধাপের ভোট সম্পন্ন হয়েছে।

এছাড়া এখন পর্যন্ত চার ধাপের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। সে হিসেবে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তারপরই স্থানীয় সরকারের আরেক প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন। আগামী মার্চে ইউপির প্রথম ধাপের ভোট করার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এবার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ও ব্যালটের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত হবে। তবে বেশিরভাগ ইউপিতে ইভিএম ব্যবহার করতে চায় সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।

এ বিষয়ে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ নির্বাচন মার্চ থেকে শুরু হবে।

তিনি বলেন, এবার নির্বাচন উপযোগী ইউনিয়নগুলোর নির্বাচন ৮ থেকে ৯ ধাপে হতে পারে। ব্যালট ও ইভিএম দুই পদ্ধতিতেই ভোটগ্রহণ করা হবে। তবে কমিশনের নীতি হচ্ছে মেক্সিমামে ইভিএম ব্যবহার করা।

দেশে বর্তমানে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। সর্বশেষ ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো স্থানীয় সরকারের ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সে বছর ১১ ফেব্রুয়ারি তফসিল ঘোষণা করে প্রথম ধাপে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় ২২ মার্চ।

প্রথম ধাপে ৭৫২টি, দ্বিতীয় ধাপে ৭১০টি ইউপিতে ৩১ মার্চ, তৃতীয় ধাপে ৭১১টি ইউপিতে ২৩ এপ্রিল, চতুর্থ ধাপে ৭ মে ৭২৮টি, পঞ্চম ধাপে ৭১৪টি ইউপিতে এবং ষষ্ঠ ধাপে ৬৬০টি ইউপিতে ৪ জুন ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়া ২০১১ সালে প্রথম ধাপে মার্চ-এপ্রিল মাসে ৫৩৮টি ইউপিতে নির্বাচন হয়েছিল। এরপর মে মাসে ১৩৪টি, জুন মাসে ৩ হাজার ১৫২টি, জুলাই মাসে ৪০৮টি এবং ১ আগস্ট থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে ৩৪টি ইউপিতে নির্বাচন হয়েছিল। এর বাইরে ২০১২ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে মেয়াদ শেষ হওয়ায় ১১২টি ইউপিতে নির্বাচন করা হয়।

স্থানীয় সরকার (ইউপি) নির্বাচন আইন অনুযায়ী এবারও চেয়ারম্যান পদে রাজনৈতিক দলের পরিচয় ও প্রতীকে নির্বাচন হবে। তবে সদস্য (মেম্বার) ও সংরক্ষিত নারী সদস্য (মেম্বার) পদে আগের মতোই নির্দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে।

ইসি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে দেশে ৪ হাজার ৫৭১টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ২২ মার্চ শুরু হয়ে ছয় ধাপে ইউপি নির্বাচন শেষ হয় ওই বছরের ৪ জুন। স্থানীয় সরকার ইউনিয়ন পরিষদ আইন, ২০০৯-এর ২৯ (৩)-এ বলা আছে, ‘পরিষদ গঠনের জন্য কোনো সাধারণ নির্বাচন ঐ পরিষদের জন্য পূর্ববর্তী সাধারণ নির্বাচনের তারিখ হইতে পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে।’ অর্থাৎ চলতি বছরের ২১ মার্চের আগেই ইউপি নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। আগামী গত ২১ অক্টোবর থেকে ইউপি নির্বাচনের কাউন্ট ডাউন শুরু হয়েছে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, ৪ হাজার ৫৭১টি ইউপির মধ্যে ৪ হাজার ১০০ ইউপিতে ভোট করা যাবে। প্রায় ২০০ ইউপিতে মামলাসহ নানা জটিলতার কারণে নির্বাচন আটকে আছে। ফেব্রুয়ারির যেকোনো সময় এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close
Close