আলোচিতসারাদেশ

‘জিন্দা পার্কে’ চিকিৎসকসহ দর্শনার্থীদের মারধর, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : রূপগঞ্জের ‘জিন্দা পার্কে’ ঘুরতে যাওয়া এক চিকিৎসকসহ তার পরিবারের সদস্যদের মারধর করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে পার্ক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

সোমবার (২৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।

‘যদিও পার্ক কর্তৃপক্ষের দাবি দর্শনার্থীদের মারধর, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট’।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী গাজীপুর মহানগরের নলজানী এলাকার বাসিন্দা চিকিৎসক বেলাল হোসেন বাদী হয়ে জিন্দা পার্কের প্রতিষ্ঠাতাসহ তিনজন এবং অজ্ঞাত আরো ১০-১৫ জনের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

অভিযুক্তরা হলো জিন্দা পার্কের প্রতিষ্ঠাতা জিন্দা এলাকার মৃত কাদের আকন্দের ছেলে তাবারক হোসেন কুসুম আকন্দ তার দুই ভাই কাজল আকন্দ ও শারফিন আকন্দসহ অজ্ঞাত আরো ১০-১৫ জন।

থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গাজীপুরের বাসিন্দা ও ঢাকার শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার বেলাল হোসেন (এমবিবিএস) সোমবার সন্ধ্যায় তার মা, বোন, স্ত্রী এবং দুই ভাইসহ জিন্দা পার্কে ঘুরতে যায়। পার্কে প্রবেশের জন্য নির্ধারিত ১শ টাকা মূল্যের টিকেট কেটে তারা পার্কে প্রবেশ করে। সে সময় পার্কে ঘোরাফেরা কালে পার্কের অজ্ঞাত (২৪) এক কর্মচারী চিকিৎসকের পরিবারের সদস্যদের ইঙ্গিত করে বিভিন্ন ধরনের নোংরা ভাষায় কথা বলতে থাকে। পরে তাকে নোংরা ভাষায় কথা না বলতে অনুরোধ করলেও পার্কের ওই কর্মচারী ভুক্তভোগী চিকিৎসসহ তার পরিবারের সদস্যদের পার্ক থেকে বের হয়ে যেতে চাপ প্রয়োগ করেতে থাকে। এক পর্যায়ে এ নিয়ে তাদের সঙ্গে হয় কথা কাটাকাটির ওই কর্মচারীর। পরে ওই কর্মচারী ক্ষিপ্ত হয়ে চিকিৎসকসহ তাদের উদ্দেশ্য করে ইট দিয়ে ঢিল মারতে থাকে। ওই সময় তাদের আর্তচিৎকারে পার্কের ম্যানেজার তবারক হোসেন কুসুম, কাজল আকন্দ ও শারফিন আকন্দ এগিয়ে আসে।

কিন্তু তারা ঘটনার বিস্তারিত না শুনে বরং উল্টো চিকিৎসকসহ তার পরিবারের সদস্যদের আরো অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে।

পরে অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনকে ফোন করে ডেকে এনে চিকিৎসকের সঙ্গে থাকা নগদ ৩২ হাজার টাকা, তার স্ত্রীর গলায় থাকা দুই ভরি ওজনের স্বর্ণের নেকলেস (মূল্য আনুমানিক ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা) লুট করে নেয় এবং তাদের মারধর করে। পরে চিকিৎসকের ভাই সুমনের কাছে থাকে নগদ ১৭ হাজার টাকা লুট করে এবং তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার সময় ভেঙে যায়।

এরপর তাদের পার্কে আটকে রাখার চেষ্টা করে এবং এ বিষয়ে কোন ধরনের মামলা করলে চিকিৎসকসহ তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করাসহ তাদের হত্যা করে লাশ গুম করবে বলে হুমকি দেয় পার্কের ম্যানেজারসহ অন্যরা। পরে কৌশলে তারা পার্ক থেকে বের হয়ে সোমবার রাতেই রূপগঞ্জ থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

ভুক্তভোগী চিকিৎসক বেলাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘মারধর, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের বিষয়ে বিস্তারিত লিখে রূপগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পরিবার নিয়ে জিন্দা পার্কে ঘুরতে গিয়ে এরকম পরিস্থিতিতে পড়তে হবে জানা ছিলো না। এ বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে প্রতাশা করছি’।

এ বিষয়ে জিন্দা পার্কের ব্যবস্থাপক আব্দুল্লাহ আল শাহীন বলেন, ‘দর্শনার্থীদের জন্য সকাল থেকে মাগরিবের আজানের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত পার্কে অবস্থান করার জন্য নির্ধারিত সময়। সোমবার বিকেলে ওই দর্শনার্থীরা পার্কে প্রবেশ করে। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পার্কে অবস্থান করেও ওই দর্শনার্থীরা পার্ক ত্যাগ না করায় তাদের অনুরোধ করে বলা হয় পার্কে অবস্থানের নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা পার্কের এক কর্মীকে মারধর করে। তাবারক হোসেন কুসুম আকন্দ জিন্দা পার্কের প্রতিষ্ঠাতা। ঘটনার সময় তিনি ও শারফিন আকন্দ পার্কে উপস্থিতই ছিলেন না। দর্শনার্থীদের মারধর, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ সম্পূর্ণ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট’।

রূপগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সানোয়ার হোসেন বলেন, ‘অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক তদন্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close
Close