আইন-আদালতআলোচিতসারাদেশ

‘ধর্ষণ ও হত্যা চেষ্টার’ অভিযোগে নাগরপুর থানা পুলিশের ‘নিষ্ক্রিয়তা’ চ্যালেঞ্জ করে রিট

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : ‘ধর্ষণ ও হত্যা চেষ্টার’ অভিযোগে ‘মামলা না নেওয়ায়’ টাঙ্গাইলের নাগরপুর থানা পুলিশের ‘নিষ্ক্রিয়তা’ চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে একটি রিট আবেদন হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদনটি করেন নাগরপুর উপজেলার বাসিন্দা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আশরাফুল ইসলাম।

মামলা না নেওয়ার ঘটনায় বিচারিক তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে তার ওই রিট আবেদনে।

রিটে বিবাদী করা হয়েছে, স্বরাষ্ট্র সচিব, টাঙ্গাইলের মুখ্য বিচারিক হাকিম, পুলিশ প্রধান, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, নাগরপুরের উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও নাগরপুর থানার ওসিকে।

আগামী সপ্তাহে বিচারপতি মজিবুর রহমান ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের হাই কোর্ট বেঞ্চে আবেদনটির শুনানি হতে পারে বলে জানিয়েছেন আশরাফুল।

রিট আবেদনে বলা হয়েছে, টঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার কাঁচপাই গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে মতিউর রহমান স্থানীয় দশম শ্রেণি পড়ুয়া একটি মেয়েকে উত্যক্ত করে আসছিল।

এক পর্যায়ে মতিউর মেয়েটিকে বিয়ে করার জন্য তার বাবার কাছে প্রস্তাব দেয়। কিন্তু মেয়ের বাবা তাতে আপত্তি জানান।

“এরপর গত ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মতিউর ঘরে ঢুকে ভয় দেখিয়ে মেয়েটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। কিন্তু তা না পেরে চাকু দিয়ে গলা কেটে মেয়েটিকে হত্যার চেষ্টা করে। মেয়েটির চিৎকারে প্রতিবেশী ও আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। ততক্ষণে মতিউর পালিয়ে যায়।”

পরে মেয়েটিকে নাগরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। সেখানেই মেয়েটির চিকিৎসা হয়।

ঘটনার পরদিন, অর্থাৎ ১৫ সেপ্টেম্বর সকালে মেয়েটির বাবা নাগরপুর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ এজাহার লিখে তাতে মেয়েটির বাবার সই রেখে দেয়।

কিন্তু অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করেন মেয়েটির বাবা। এই আইনজীবীও নাগরপুরের বাসিন্দা।

পরে এই আইনজীবী জাতীয় নারী শিশু ও নির্যাতন প্রতিরোধ সেলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার সহযোগিতায় মেয়েটির বাবা গত ৭ অক্টোবর টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।

মামলায় একমাত্র আসামি মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৪)(খ) এবং দণ্ডবিধির ৩২৬, ৩০৭ ও ৪৬০ ধারার অভিযোগ আনা হয়।

রিট আবেদনে বলা হয়, ফৌজদারী কার্যবিধির ৪(১)(চ) ধারা এবং বাংলাদেশ পুলিশ প্রবিধান ১৯৪৩ এর ২৪৩ ধারা অনুযায়ী এই রকম আমলযোগ্য ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে মামলা নিতে ‘বাধ্য’।

কিন্তু নাগরপুর থানার ওসি আলম চাঁদ দীর্ঘ ২২ দিন পরও মামলা নথিভুক্ত না করে এবং আসামির বিরুদ্ধে কোনো রকম ব্যবস্থা না নিয়ে ‘আইন লঙ্ঘন করেছেন’ বলে অভিযোগ করা হয়েছে রিট আবেদনে।

রিটকারী আইনজীবী আশরাফুল ইসলাম বলেন, “ধর্ষণের আলামত খুব অল্প সময়ের মধ্যে নষ্ট হয়ে যায়। মেয়েটি সেদিন ধর্ষণের শিকার হলে ওসির অসহযোগিতার কারণে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতে হত মেয়েটিকে।

“তার চেয়ে বড় কথা হল, ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে আসামি মেয়েটির গলায় ছুরি চালিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। মেয়েটির গলায় হত্যা চেষ্টার সেসব চিহ্ন স্পষ্ট। তারপরও নাগরপুর থানার ওসি মামলা নেননি। এমনকি কোনো রকম ব্যবস্থাই গ্রহণ করেননি। সে কারণে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে জনস্বার্থে রিট আবেদনটি করেছি।”

 

সূত্র: বিডিনিউজ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close
Close