খেলাধুলা

২০১৮ থেকে ১৬ খেলোয়াড় বিক্রি করেছে বার্সেলোনা!

গাজীপুর কণ্ঠ, খেলাধুলা ডেস্ক : বার্সেলোনার সাম্প্রতিক ব্যর্থতা আর দলবদল নীতিতে অস্থিরতা যেন এক সূত্রে গাঁথা। ২০১৮ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কোয়ার্টার ফাইনালে ইতালির এএস রোমার বিপক্ষে অঘটনের শিকার হয়ে বিদায় নেয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১৬ খেলোয়াড় বিক্রি করেছে কাতালান জায়ান্টরা।

১৬ জনের মধ্যে শুধু তিনজন খেলোয়াড় ন্যু ক্যাম্পে তিন মৌসুমের বেশি সময় টিকে ছিলেন। এরা হলেন, থমাস ভার্মালেন, ইভান রাকিতিচ ও লুইস সুয়ারেজ। সর্বশেষ গতকাল বুধবার রাতে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদে নাম লেখান উরুগুইয়ান স্ট্রাইকার সুয়ারেজ।

সোমবার বার্সেলোনা ছেড়ে ইন্টার মিলানে নাম লেখান চিলিয়ান মিডফিল্ডার আরতুরো ভিদাল। বার্সার ঘূর্ণায়মান গেট পলিসির কারণে এ সপ্তাহে ইংলিশ ক্লাব উলভারহ্যাম্পটনে ধার চুক্তিতে নাম লেখান ডিফেন্ডার নেলসন সেমেদো। এছাড়া আরো বহু খেলোয়াড় এই তিন মৌসুমে বিদায় নিয়েছেন।

মারলন (০ মৌসুম)

মারলনের খেলা কমই দেখেছেন ব্ল–গ্রানা সমর্থকরা। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে ব্রাজিলের ফ্লুমিনেন্স থেকে ধার চুক্তিতে আনা হয় তাকে। বার্সেলোনা ‘বি’ দল ও মূল দলে আলো ছড়ানোয় তাকে ৫০ লাখ ইউরোয় কিনে নেয় বার্সা। যদিও তাকে না খেলিয়ে ফরাসি দল নিসের কাছে ধারে পাঠানো হয়। সেখান থেকে যান সাসুওলোতে, এ বছর নতুন ঠিকানা হয় তার ফুলহাম।

জেরার্ড দিউলোফিউ (অর্ধ মৌসুম)

২০১৭ সালে নিজেদের একাডেমির তৈরি জেরার্ড দিউলোফিউকে ১২ মিলিয়ন ইউরোয় ফিরিয়ে আনে বার্সেলোনা। কিন্তু উইঙ্গারটি প্রত্যাশামতো খেলার সুযোগ না পেয়ে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ইংল্যান্ডের ওয়াটফোর্ডে চলে যান। ওই বছরই গ্রীষ্মে ১৩ মিলিয়ন ইউরোয় তাকে স্থায়ীভাবে কিনে নেয় হর্নেটরা।

ইয়েরি মিনা (অর্ধ মৌসুম)

দিউলোফিউর মতোই ঠিক অর্ধেকটা মৌসুম ন্যু ক্যাম্পে কাটাতে পেরেছেন ইয়েরি মিনা। ২০১৮ সালে ১২ মিলিয়ন ইউরোয় পালমেইরাস থেকে কেনা মিনাকে একাদশে খেলার সুযোগ কমই দিয়েছেন তখনকার কোচ আর্নেস্তো ভালভার্দে। ওই বছরই ৩০ মিলিয়ন ইউরোয় তাকে বিক্রি করে দেয়া হয় এভারটনের কাছে।

পাওলিনহো (এক মৌসুম)

২০১৭ সালে চীনের গুয়াংজু এভারগ্রান্ডে থেকে আনা হয় পাওলিনহোকে। যদিও পরের বছরই তিনি বিদায় নেন। তাকে কেনায় অনেক সমালোচনা হলেও এক মৌসুমে তিনি ৯ গোল করার পাশাপাশি তিনটি অ্যাসিস্ট করেন।

ম্যালকম (এক মৌসুম)

২০১৯ সালে এক দিনের ব্যবধানে দুই ক্লাবের সঙ্গে চুক্তি করেন ম্যালকম! রোমার সঙ্গে চুক্তি করেন এবং ইতালিগামী বিমানেও ওঠার কথা। যদিও শেষ মুহূর্তে সেই চুক্তি বাতিল করে তিনি যোগ দেন বার্সেলোনায়। কাতালানরা তাকে একরকম হাইজ্যাক করে নিয়ে যায়। কিন্তু এত নাটকের পর মাত্র এক মৌসুম ন্যু ক্যাম্পে টিকতে পেরেছেন তিনি। যে ফিতে (৪০ মিলিয়ন ইউরো) কেনা হয়েছিল ঠিক সেই ফিতেই তাকে রাশিয়ার জেনিত সেন্ট পিটার্সবুর্গের কাছে বিক্রি করে দেয় বার্সা।

লুকাস দিনিয়ে ও আন্দ্রে গোমেজ (দুই মৌসুম করে)

শুধু ইয়েরি মিনাই নয়, ২০১৮ সালে ন্যু ক্যাম্প ছেড়ে গুডিসন পার্কে যোগ দেন দিনিয়ে ও গোমেজ। জর্ডি আলবার জায়গা নিতে পারেননি দিনিয়ে আর গোমেজ তো প্রকাশ্যেই বলেছেন, ন্যু ক্যাম্পে তিনি উৎকণ্ঠায় ভোগেন সব সময়।

পাকো অ্যালকাসের (দুই মৌসুম)

২০১৬ সালে ৩০ মিলিয়ন ইউরোয় ভ্যালেন্সিয়া থেকে ন্যু ক্যাম্পে নাম লেখানোটা অ্যালকাসেরের জন্য বিরাট ঘটনাই ছিল। যদিও লিওনেল মেসি, লুইস সুয়ারেজ ও নেইমারদের ভিড়ে সঙ্গতকারণেই তিনি নিয়মিত সুযোগ পাননি। ফলে ২০১৮ সালে ২১ মিলিয়ন ইউরো ফিতে নাম লেখান বরুশিয়া ডর্টমুন্ডে।

আর্থার মেলো (দুই মৌসুম)

২০২০ সালেও সাম্প্রতিক সময়ে কেনা খেলোয়াড়দের বিক্রি করার নীতি ধরে রেখেছে বার্সা। এদের মধ্যে অন্যতম আর্থার মেলো। মিরালেম পিয়ানিচের সঙ্গে অদলবদল চুক্তি করা হয় তাকে নিয়ে। জাভি হার্নান্দেজের ‘উত্তরসুরি’ মনে করা এই খেলোয়াড়টি যে এত দ্রুতই বিদায় নেবেন, তা কেউই হয়তো ভাবেননি।

আরতুরো ভিদাল (দুই মৌসুম)

বায়ার্ন থেকে কেনা চিলিয়ান মিডফিল্ডার ভিদাল গত সপ্তাহে যোগ দেন ইতালির ইন্টার মিলানে।

ডেনিস সুয়ারেজ (আড়াই মৌসুম)

২০১৬ সালে বার্সায় আগমন ঘটে সুয়ারেজের। যদিও ক্লাবে কখনই নিজের জায়গা তৈরি করে নিতে পারেননি। আর্সেনালে এক মৌসুম ধারে খেলার পর ২০১৯ সালে ১৩ মিলিয়ন ইউরোয় নাম লেখান হোমটাউনের ক্লাব সেল্টা ভিগোয়।

অ্যালেক্স ভিদাল (তিন মৌসুম)

তিন মৌসুম খেলেছেন এমনদের মধ্যে অন্যতম। ২০১৬ সালে কাতালান ক্লাবে নাম লেখান। ইনজুরিতে ভোগার পর ২০১৮ সালে যোগ দেন সেভিয়ায়।

জ্যাসপার চিলেসেন (তিন মৌসুম)

তিনি হতে পারতেন মার্ক-আন্দ্রে টার স্টেগেনের যোগ্য বিকল্প। যদিও কোপা ডেল রে টুর্নামেন্টেই শুধু সুযোগ মিলত তার। অবশেষে তাকে ভ্যালেন্সিয়ায় পাঠায় বার্সা, বিপরীতে ন্যু ক্যাম্পে আসেন নেতো।

নেলসন সেমেদো (তিন মৌসুম)

পর্তুগিজ খেলোয়াড়টি ন্যু ক্যাম্পে কখনই সেভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি এবং দানি আলভেজের জায়গাও নিতে পারেননি। তিনি যে তিন মৌসুম ছিলেন ঘটনাচক্রে ওই তিন মৌসুমই চ্যাম্পিয়ন্স লিগে যথাক্রমে রোমা, লিভারপুল ও বায়ার্নের কাছে হেরে বিদায় নেয় বার্সা। ফলে তারও বিদায় ঘটে।

এছাড়া বেলজিয়ান ভার্মালেন চার মৌসুম এবং ক্রোয়াট রাকিতিচ ও উরুগুইয়ান লুইস সুয়ারেজ ছয় মৌসুম কাটিয়েছেন ন্যু ক্যাম্পে।

সাম্প্রতিক ইতিহাসে বার্সার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছিলেন রাকিচিত ও সুয়ারেজ। কিন্তু চলতি মৌসুম থেকেই সদ্য সাবেক ক্লাবের মুখোমুখি হবেন তারা। রাকিচিত গেছেন সাবেক ক্লাব সেভিয়ায়, আর সুয়ারেজ অ্যাতলেটিকোয়।

 

সূত্র: মার্কা

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close
Close