গাজীপুরমুক্তমত

শহীদ ময়েজউদ্দিন: জীবনদানের গৌরবময় উজ্জ্বলতায় এক সাহসী মানুষ

গোলাম কিবরিয়া পিনু : শহীদ মোহাম্মদ ময়েজউদ্দিনের ৩৬তম মৃত্যুবার্ষিকী ২৭ শে সেপ্টেম্বর। ১৯৮৪ সালের ২৭ শে সেপ্টেম্বর কালিগঞ্জে হরতাল চলাকালীন এক মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়ার সময় নিহত হোন তিনি। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের পটভূমিতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য সেইদিন সেই হরতাল ডাকা হয়েছিল।

স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী সেই হরতাল সফল করার লক্ষ্যে ঢাকা থেকে তিনি তাঁর নিজের গ্রামের এলাকায় গিয়েছিলেন- ঢাকার অন্যান্য কর্মসূচি স্থগিত করে। সাধারণ মানুষকে সংগঠিত করার এক প্রণোদনা নিয়ে সেইদিন ছুটে গিয়েছিলেন নিজের গ্রামীণ জনপদে। সেখানে সেদিন সকাল ৯টার সময় তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে তৎকালীন সামরিক-স্বৈরাচারের সমর্থনপুষ্ট ঘাতকেরা। তার গলায়, বুকে, পেটে ও শরীরের অন্যান্য অংশে ছুরিকাঘাত করা হয় নিষ্ঠুরভাবে। সেই সময় বাংলাদেশের গণমাধ্যম স্বৈরাচারের কঠোর নিয়ন্ত্রণে ছিল, এখনকার মত এত টিভি-চ্যানেল, পত্র-পত্রিকা ও ইন্টারনেট মানুষের সংবাদ জানার উৎস হিসেবে তখন ব্যবহৃত হতো না। তৎকালীন সরকারি প্রচার মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের খবর প্রচার হওয়ার আগেই বিবিসি, ভয়েস অব আমেরিকা ও অন্যান্য বিদেশি গণমাধ্যমে এই সংবাদ প্রচারিত হয়। এই হত্যাকাণ্ডের খবর শুনে শুধু দেশে নয় বিদেশেও বেশ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছিল।

শহীদ মোহাম্মদ ময়েজউদ্দিনের বর্বোরোচিত হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সারাদেশে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল আগুনের স্ফূলিঙ্গের মতন দ্রুত। তার আত্মদানের মধ্যে দিয়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন আরও জোরালো হয়ে উঠে। তার বুকের রক্ত স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মূলভূমিকে আরও মর্যাদাদান করার পাশাপাশি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়ে দেয়। যে রক্তমাখা পথরেখা তৈরি হয়- সেই চিহ্নিত পথ ধরেই অবশেষে স্বৈরাচার শাসনের অবসান ঘটে। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনঃ প্রবর্তনে শহীদ ময়েজউদ্দিনের জীবনদান আর এক গৌরবের ইতিহাস হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে, চিহ্নিত হয়ে থাকবে ভবিষ্যতেও। রাজনৈতিক কর্মসূচী বাস্তবায়নের প্রচেষ্টারত অবস্থায় তিনি নিহত হলেন। এই মৃত্যুকে বলা যায় নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক মৃত্যু। এই সত্যের কাছে অবশ্যই আমাদের যেতে হবে। না হলে ঢাকা হবে আবরণ দিয়ে এই মৃত্যুর পটভূমি। রাজনৈতিক মৃত্যু বলে গোটা দেশে এই মৃত্যু আলোড়ন তুলেছে বেশি। রাজনৈতিক ঘটনাকে করেছে প্রভাবিত ও বিকশিত। এইখানে এই মৃত্যুর তাৎপর্য অনেকটা।

শহীদ মোহাম্মদ ময়েজউদ্দিন বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাসের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত হয়ে আছেন এবং যার তাৎপর্যপূর্ণ অবদান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে জড়িয়ে আছে। অন্যদিকে সামাজিক কল্যাণেও তার আছে জনগণের সাথে সমব্যথী হয়ে কাজ করার অনন্য ইতিহাস। তাকে আজ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। এখনো মনে পড়ছে সেইদিনের ঘটনা! মো. ময়েজউদ্দিনের নিহত হওয়ার খবর পেলাম বাসায় এক সাংবাদিক বন্ধুর কাছে।

সেদিন ছিল হরতালের দিন। বন্ধুটি এসেছিল আমার কাছে। আমি বিশ্বাস করতে পারিনি। কিন্তু পাশের বাসার একজন ভদ্রলোকও দেখি উদ্বেগের সঙ্গে সেই হত্যাকাণ্ডের কথা বলছিলেন। সেই অবিশ্বাস্য সত্যকে অবশেষে গ্রহণ করতে হলো। এই নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের সংবাদে চঞ্চল হয়ে আমি তখনই গেলাম- নিহত মোহাম্মদ ময়েজউদ্দিনের সিদ্বেশ্বরীর বাসায়। তখন তার লাশ ছিল না সেখানে। ছিল শোকার্ত পরিজন-আত্মীয়-স্বজন-বন্ধু-বান্ধব-শুভার্থীরা। লাশ তখন ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতালে। নিহত হবার পরদিন কবরে সমাহিত হওয়া পর্যন্ত লাশের আশে-পাশে, সঙ্গে ছিলাম। ক্লান্ত হয়েছি- ভীষণ, তবুও ছাড়িনি ছায়া-মায়াময় লাশ। কিন্তু কেন এই টান?

এই টান ছিল অনেক কারণে। সব কারণ বলা সম্ভব হয়ে উঠছে না এখন। তার সঙ্গে আমার পূর্ব পরিচয় ছিল না ব্যক্তিগতভাবে, বিচ্ছিন্নভাবে নাম জানতাম। পেশাগত কারণে তার সঙ্গে মেশার সুযোগ পাই, ঘনিষ্ঠ মূর্হুত আসে সেই সূত্র ধরে। সে সব অনেক স্মৃতি!

তাঁর পুরো নাম মোহাম্মদ ময়েজউদ্দিন। কিন্তু দেশমাতৃকার জন্য জীবনদানের গৌরবময় উজ্জ্বলতায় মৃত্যু পরবর্তী সময় থেকে তিনি ‘শহীদ ময়েজউদ্দিন’ নামে সমধিক পরিচিত। মোহাম্মদ ময়েজউদ্দিন-এর জন্ম কালীগঞ্জ উপজেলার মোক্তারপুর ইউনিয়নের বড়হরা গ্রামে। তাঁর পিতার নাম ছুরত আলী ও মাতা শহর বানু। ১৩ বছর বয়সে তার পিতার মৃত্যু হয়। গ্রামের স্কুলে তিনি পড়াশুনা করেন, পড়ালেখায় কৃতিত্বের জন্য বৃত্তি পান। মাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি ঢাকা কলেজে ভর্তি হোন। সমাজবিজ্ঞানে অর্নাস ডিগ্রি অর্জন করেন, এরপর আইন বিষয়ে অধ্যয়ন করেন। পরবর্তীতে আইন পেশাকে জীবিকার পথ হিসেবে গ্রহণ করেন। সুনামের সাথে এই পেশায় বেশ সাফল্য পান তিনি । ১৯৫৬ সালে সি.এস.এস. (বর্তমানে বিসিএস) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও সরকারি চাকরি গ্রহণ করেননি।

শহীদ ময়েজউদ্দিন সাধারণ জীবন-যাপনে অভ্যস্ত ছিলেন। তার মৃত্যুর পরবর্তী সময়ে তার স্ত্রী মিসেস বিলকিস ময়েজউদ্দিন বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করে তাঁদের পাঁচ মেয়ে ও এক ছেলেকে তাদের বাবার আদর্শে মানুষ করেছেন। সকলকে উচ্চ শিক্ষিত ও সমাজের বিভিন্ন স্তরে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বাবার রাজনৈতিক-সামাজিক আদর্শে নিবেদিত হয়ে শহীদ ময়েজউদ্দিনের দ্বিতীয় মেয়ে মেহের আফরোজ চুমকি, বর্তমানে সংসদ সদস্য।

যে গ্রামে তিনি জন্মেছিলেন- সেই গ্রামের সাথে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নিবিড় যোগাযোগ ছিল তার। গ্রামের মানুষের জন্য বিভিন্নমুখি উন্নয়নমূলক কার্যক্রমও গ্রহণ করেছিলেন। গড়ে তুলেছিলেন নওয়াপাড়া ‘হেলথ কমপ্লেক্স’। হাসপাতাল করার জন্য নিজে দুই বিঘা জমিও দান করেন। নিজের গ্রামের মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সবসময়ে নিজের সাধ্যমত ভূমিকা রেখেছেন। তার কাছ থেকে বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে উপকৃত হয়েছেন।

শুধু এলাকার মানুষের জন্য তিনি তার সামাজিক কর্মকাণ্ড সীমাবদ্ধ রাখেননি। মৃত্যুর সময়ে তিনি ছিলেন বাংলাদেশ রেডক্রস সোসাইটির ভাইস চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতি (এফপিএবি)’র অবৈতনিক মহাসচিব। তিনবার রেডক্রস সোসাইটির ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। এই দু’টি সংস্থার মূল নেতৃত্বে থেকে তিনি তার সমাজকল্যাণের ভূমিকাকে বিস্তৃত করেছেন। সেইসাথে এই দু’টি সংগঠনের কার্য-পরিধিও অনেকাংশে বিস্তৃত করেন। একজন সমাজসেবী হিসেবে তার উজ্জ্বল ভূমিকা আমরা সবসময়ে লক্ষ করেছি। সামাজিক সমস্যা সমাধানে একজন মানুষ হিসেবে স্বেচ্ছাপ্রণোদিত কাজের মধ্যে দিয়ে তিনি তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। তার জীবন-আলেখ্য থেকে আমরা জানতে পারি সেই অভিজ্ঞান। এই অভিজ্ঞান থেকে নিজেরাও আমরা স্বেচ্ছাপ্রণোদিতভাবে কাজের অনুপ্রেরণা পেতে পারি। এখানেই তার সমাজসেবার মহৎ পটভূমি।

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখতে গিয়ে তিনি শহীদ হোন, রাজনৈতিক নেতা হিসেবে প্রতিকূল পরিবেশে থেকেও রাজনীতির বাইরে গিয়ে একেবারে নিরাপদ অবস্থানে তিনি কখনো নীরব হয়ে যাননি। তার রাজনৈতিক জীবনে বিশেষ বিশেষ সময়ে উল্লেযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন। কিন্তু সেই ভূমিকায় লোভ, সুবিধাবাদীতা ও কাপুরুষতা তাকে স্পর্শ করেনি। ব্যক্তি স্বার্থে নয়, দেশের স্বার্থ ও গণমানুষের স্বার্থকে তিনি সবসময়ে মর্যাদা দিয়েছেন।

১৯৬৭ সালে আইয়ুব-মোনায়েম কুচক্রিমহল তৎকালীন আওয়ামী লীগ প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় জড়িত করে তৎকালীন পূর্ব বাংলার মানুষের স্বাধিকার ও অর্থনৈতিক মুক্তির আন্দোলনকে চোরাস্রোতে নিয়ে যাওয়ার কু-উদ্যোগ গ্রহণ করে। সেই সময়ে শেখ মুজিবসহ আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই কারাগারে আবদ্ধ হোন। বঙ্গবন্ধুর পক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য মোহাম্মদ ময়েজউদ্দিনকে আহ্বায়ক করা হয়। সেই সময়ে তিনি নির্ভীকভাবে এই মামলা পরিচালনা করেন। ষড়যন্ত্র মামলা জনগণ প্রত্যাখান করেন, এর পরিপ্রেক্ষিতে গণআন্দোলন শুরু হয়। শেখ মুজিবকে বিনাশর্তে পিন্ডিতে গোলটেবিলে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। বঙ্গবন্ধু মো. ময়েজউদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে সেদিন পিন্ডিতে গিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর পরীক্ষিত একজন রাজনৈতিক সহকর্মী।

শুধু পূর্ব বাংলার জনগণের স্বাধীকার আন্দোলন নয়, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়কালে মেঘালয় দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকারী নেতৃত্বের সাথে একযোগে কাজ করেন। বিভিন্ন ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবেলা করে- মুক্তিযুদ্ধকে বিজয়ের অবস্থানে নিয়ে আসতে দৃঢ় সাহসী ভূমিকা পালন করেন। তা আর এক বড় অধ্যায় শহীদ মো. ময়েজউদ্দিনের। ছয় দফার আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি জাতির বিজয়ী হওয়া পর্যন্ত তাঁর ভূমিকা ধারাবহিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়। তবে এ কথা নিশ্চয়ই বলা যায় যে, ছয় দফার আন্দোলন থেকে বাংলার স্বাধীনতা যুদ্ধের বিজয় পর্যন্ত তিনি এক অনবদ্য ও অম্লান ভূমিকা পালন করে গেছেন। মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস লেখা হলে তার গৌরবোজ্জ্বল অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে লিপিবদ্ধ হবে। ইতোমধ্যে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে গৌরবময় ভূমিকা পালন করায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার তাঁকে সর্ব্বোচ রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘স্বাধীনতা পদকে’ ভূষিত করেন।

স্বাধীন বাংলাদেশের সরকার গঠনের পর বিভিন্ন পর্যায়ে দল ও সরকারকে সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য একজন সংসদ সদস্য হিসেবে উল্লেযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট প্রাসাদ ষড়যন্ত্রকারীরা দেশ-বিদেশি কালজ্ঞ শক্তির সাহায্যে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবারের সদস্য-স্বজন ও অন্যান্যদের নির্মমভাবে হত্যা করে। এরকম রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শহীদ মোহাম্মদ ময়েজদ্দিন সংসদ সদস্যদের এক সমাবেশে বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করেছিলেন, কুচক্রি মোশতাক আহমেদের উপস্থিতিতে। কী সাহস আর নৈতিক শক্তিতে তিনি বলিয়ান ছিলেন, তা হয়ত এসময়ে অনুভব করা অনেকের পক্ষে সম্ভব নয়। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পরবর্তী দিনগুলো ছিল কী ভয়াবহ আর অন্ধকারস্পর্শী তা সেই সময়ের অনেকে আমরা এখনো অনুভব করতে পারি।

পরবর্তীতে সামরিক পোশাক পরে রাজনীতির মাঠ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র, সামরিক ক্যু ও দমননীতির মাধ্যমে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় বহুদিন ছিলেন। আওয়ামী লীগের কিছু কিছু লোকের সুবিধাবাদী ভূমিকায় শহীদ মোহাম্মদ ময়েজউদ্দিন কখনো কখনো হতবাক হয়েছেন, বিমূঢ় হয়েছেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের মৌল চেতনা থেকে নিজের রাজনৈতিক আদর্শ বিচ্ছিন্ন করে সুবিধাবাদী রাজনীতির স্রোতে গা ভাসিয়ে দেননি তিনি।

কয়েকবার মন্ত্রী হওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন বলে জানা যায়, কিন্তু তা তিনি প্রত্যাখান করেন। শেখ হাসিনা যখন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের হাল ধরেন- তখন শহীদ মোহাম্মদ ময়েজউদ্দিন তার রাজনৈতিক সক্রিয়-ভূমিকা আবার শাণিত করতে শুরু করেন। রাজনীতিতে তার দৃঢ় ভূমিকা রাখার জন্য নিজেকে অন্যান্য কাজের এলাকা থেকে সরিয়ে আনতে উদ্যোগী হোন।

কিন্তু ১৯৮৪ সালে ২৭ সেপ্টেম্বর জনগণের সাথে থেকে জনগণকে নিয়ে আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি শহীদ হোন। এরফলে তাঁর রাজনৈতিক উজ্জ্বল ভূমিকা থেকে পরবর্তী সময়ে দেশের মানুষ বঞ্চিত হয়। তিনি যদি আরও বেশি সময়ে বেঁচে থাকতেন তাহলে আরও জোরালোভাবে মানুষের কল্যাণে দূরবর্তী স্বপ্নকে কাছে টেনে আনতে পারতেন- তাঁর দেশপ্রেম, গণতন্ত্রের প্রতি সমর্থন, দেশের মানুষের প্রতি অঙ্গীকার-ভালোবাসা, ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তা, মরণজয়ী সাহস এবং জীবন-ইতিহাসের ধারাবাহিকতা সেই কথাই বলে।

 

লেখক: গোলাম কিবরিয়া পিনু (২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮), কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close
Close