গাজীপুর

চরসিন্দুর ব্রিজ পাড়ে অবৈধ স্ট্যান্ড: চাঁদা দিতে হয় আওয়ামী লীগ নেতা আলম মিয়াকে!

বিশেষ প্রতিনিধি, নরসিংদী : নরসিংদীর ইটাখলা থেকে গাজীপুরের জয়দেবপুর (রাজবাড়ি) পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার সড়কপথে সিনএনজি অটোরিকশায় চলছে ব্যাপক চাঁদাবাজি। চরসিন্দুর ব্রিজের দুই পাড়ে অবৈধভাবে বসানো হয়েছে সিএনজি অটোরিকশাস্ট্যান্ড। এ স্ট্যান্ডে নামে-বেনামে চাঁদা আদায়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন এ সড়কে চলাচলরত অটোচালকরা। দিন শেষে জমার টাকা তুলতে না পেরে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন চালকরা। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদেরকেও।

সিএনজি অটোচালকদের অভিযোগ, কালীগঞ্জ উপজেলার মোক্তারপুর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আলম মিয়াকে চাঁদার  টাকা না দিলে ওই রোডে গাড়ি চলতে দেয়া হয় না।

গাজীপুর ও নরসিংদীর মধ্যে যোগাযোগের জন্য শীতলক্ষ্যা নদীর উপর নির্মিত চরসিন্দুর ব্রিজের দুই পাড়ে অবৈধভাবে বসানো হয়েছে সিএনজি অটোরিকশাস্ট্যান্ড। এসব স্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন আদায় করা হচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

শুধু তাই নয়, চরসিন্দুর ব্রিজ থেকে গাজীপুরের জয়দেবপুর সড়কে কোনো অটোরিকশা চলাচল করলে মালিকপক্ষকে রোড পারমিশনের জন্য গুনতে হয় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা।

অভিযোগ রয়েছে, এসব টাকা সরাসরি সংগ্রহ করেন কালীগঞ্জ উপজেলার মোক্তারপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আলম মিয়া নামে এক ব্যক্তি।

সড়কপথে চাঁদাবাজির কারণে ব্রিজের দুই পাড়ে অটোচালকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম উত্তেজনা। এক পাড়ের অটো অন্য পাড়ে যেতে চাইলে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে চালকদেরকে। অনেকসময় সিন্ডিকেটের লোকজন যাত্রী নামিয়ে চালকদের ফিরিয়ে দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, নিয়ম ভেঙে যাত্রী নিয়ে এক পাড়ের অটোরিকশা অন্য পাড়ে গেলে মারধরও করা হচ্ছে।

চরসিন্দুর থেকে জয়দেবপুর (রাজবাড়ি) রোডে চলাচলরত একাধিক অটোচালক অভিযোগ করে বলেন, ‘চরসিন্দুর ব্রিজ থেকে জয়দেবপুর রোডে সিএনজি চালাতে হলে মোক্তারপুর ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আলম মিয়াকে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা করে দিতে হয়। টাকা না দিলে ওই রোডে গাড়ি চলতে দেয়া হয় না’।

এসব বিষয়ে মোক্তাপুর ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আলম মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি টাকা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। এ ছাড়া চালকদের মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘চালকদের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে এক পাড়ের অটো অন্য পাড়ে আসা-যাওয়া বন্ধ রাখা হয়েছে’।

এসব বিষয়ে কথা বলতে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিবলী সাদিকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ব্রিজের উপর অবৈধ স্ট্যান্ড ও চাঁদাবাজির বিষয়টি জানা নেই। এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close
Close