আলোচিতরাজনীতি

জমে উঠেছে ‘এলিট’ আর ‘গরীব’ আওয়ামী লীগের লড়াই

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়ে এখন সাজ সাজ রব। কমিটিতে থাকা না থাকা নিয়ে আওয়ামী লীগ সরগরম। করোনাকালেও সারাদেশের আওয়ামী লীগ কার্যালয়গুলো জমজমাট, নেতাকর্মীদের ভিড়, কমিটিতে স্থান পাওয়ার জন্যে দূরদূরান্ত থেকে ঢাকা ছুটে আসছেন নেতারা, দলীয় কার্যালয়গুলোতে দেখা যাচ্ছে উপচে পড়া ভিড় এবং নেতাদের বাড়িতে বাড়িতে ধর্ণা দিচ্ছেন অনেকেই।

কমিটিতে থাকার এই প্রতিযোগিতায় আওয়ামী লীগের মধ্যে এক মেরুকরণ দৃশ্যমান। আওয়ামী লীগের এলিটদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের গরীবদের সুস্পষ্ট বিরোধ দেখা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের গরীব নেতারা এবার এলিটদের আগ্রাসন থেকে কমিটি মুক্ত করার জন্যে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন- এমন খবরও পাওয়া যাচ্ছে। আওয়ামী লীগে এখন সুস্পষ্ট দুটি ধারা দেখা যায়। একজন কখনোই আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, পৈত্রিক সূত্রে বা পারিবারিক সূত্রে তার আওয়ামী লীগের পরিচয় আছে বটে, তবে তিনি কখনও ছাত্রলীগ, যুবলীগ বা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সংযুক্ত ছিলেন না। ভালো স্কুলে পড়াশুনা করেছেন, এরপর বিদেশে গিয়েছেন, উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং এরপর দীর্ঘদিন পর দেশে এসে রাতারাতি আওয়ামী লীগের আলোচিত নেতাদের একজন হয়ে গেলেন। অন্য একজন স্কুলজীবন থেকে ছাত্রলীগ করেছেন, পুলিশের মার খেয়েছেন, আন্দোলন করতে গিয়ে বিএনপি-জামাতের হাতে নির্যাতিত হয়েছেন, তার বাড়ি হয়তো পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, শিক্ষাদীক্ষা করতে পারেননি, কোনরকমে গ্রামের কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন, টেনেটুনে একটি ডিগ্রি নিয়েছেন। তারপর সারাজীবন রাজনীতির মাঠে ঝড়-বৃষ্টিতে মিছিল মিটিংয়ের মধ্যে দিয়ে তিনি সময় কাটিয়েছেন।

একজন এলিট আওয়ামী লীগের চেহারা ঝকঝকে, তার পাজামা সফেদ, সুগন্ধী বের হয় তার গা থেকে, চুল থাকে পাটি করা কিংবা জেল দেওয়া, হয়তো আরমানি কিংবা হুগো বস ব্রান্ডের মুজিব কোর্ট বা দামী কাপড়ে অভিজাত দর্জির দোকানে বানিয়ে নেওয়া, তার জুতো পরিপাটি, তার চেহারায় আভিজাত্যের ভাব আছে, এতটুকু ময়লা স্পর্শ করেননি তার শরীরে। তিনি কথায় কথায় ইংরেজি বলেন, আওয়ামী লীগের ধারাকে পাল্টে দেওয়ার কথা বলেন, ইংরেজি গান শোনেন, বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ইংরেজিতে পড়েন এবং আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাদের থেকে তিনি নিজেকে দুরত্বে রাখেন। তিনি জানেন যে, আওয়ামী লীগের এই তৃণমূলের নেতাকর্মীদের আসলে কোন ক্ষমতা নেই। কারণ তাদের নেতা বানানো বা নেতৃত্ব দেওয়ার মতো ক্ষমতা নেই, তাদের কাছে জনপ্রিয় হয়েও কোন লাভ নেই। তাদের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য তারা কেতাদুরস্ত, আভিজাত্য এটা প্রমাণ করে আওয়ামী লীগের আভিজাত ক্লাবের সদস্য হওয়া।

অন্যদিকে গরীব আওয়ামী লীগের গায়ে গন্ধ, তাঁর চুল এলোমেলো, তার চোখ-মুখে ছোপ ছোপ দাগ, তার পাঞ্জাবীতে তিলে পড়েছে বা মুজিব কোটটা রঙচটা, তার পায়জামাটাও অনেক পুরনো, শীর্ণ, জীর্ণ। চেহারায় মাধুর্য নেই, শরীরে জমাট হয়ে আছে ধুলো-ময়লা, তার মুখে যে তৃপ্তির হাসি সেই হাসিতেও পরিপাটি দাঁত নেই, আছে পান খাওয়া বা খয়ে যাওয়া দাঁত। কিন্তু তার পুরো চেহারায় এক সারল্য, এক নিরহঙ্কার আবেগ আছে, এটাই তার সম্পদ।

এতদিন আওয়ামী লীগের গরীব নেতারা সব সহ্য করেছিলেন। এলিট নেতাদের জন্য মিছিল করেছেন, এলিট নেতাদের মন্ত্রী-এমপি বানিয়েছেন। কিন্তু এমপি-মন্ত্রী হওয়ার পর এলিট নেতারা তাদের খোঁজ নেননি। এখন আওয়ামী লীগ সভাপতির কিছু কিছু অ্যাকশনের কারণে তারা আশান্বিত হয়েছেন এবং তারা বুঝেছেন যে, শেখ হাসিনা এখন দলে গরীব নেতাদের চান, পরিশ্রমী নেতাদের চান। আর এজন্যে তারা এখন তাদের হিস্যা চান। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দীকে বলেছিলেন যে, আমি যদি নোবডি হই তাহলে আমাকে ডেকেছেন কেন? সেরকম নোবডিরা এবার আওয়ামী লীগের জেলা, উপজেলা, অঙ্গসহযোগী সংগঠনের কমিটিগুলোতে হিস্যা পাওয়ার জন্যে সংঘবদ্ধ হয়েছেন। আর এই কারণে এলিট আওয়ামী লীগ আর গরীব আওয়ামী লীগের লড়াইটা ভালোই জমে উঠেছে। শেখ হাসিনা গরীব আওয়ামী লীগের পক্ষে।

 

সূত্র: বাংলা ইনসাইডার

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close
Close